মানুষ যেখানে নিরাপত্তা অনুভব করে, সেখানেই টাকা রাখবে-খোকন
- আপডেট সময় : ০৯:০৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / ১০২২ বার পড়া হয়েছে
মানুষ যেখানে নিরাপত্তা অনুভব করে, সেখানেই টাকা রাখবে-খোকন
স্টাফ রিপোর্টারঃ
দেশের মানুষের ঘরে থাকা হিসাববিহীন নগদ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় ফিরিয়ে আনতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন।
দেশের ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর অবস্থা নাজুক হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা না রেখে নগদ অর্থ বাসায় সংরক্ষণ করছেন।’
তিনি দাবি করেন, অতীতে যাঁরা দেশ থেকে টাকা বিদেশে পাচার করতে চেয়েছিলেন কিংবা বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ নিজেদের কাছে রেখে গেছেন। এর ফলে দেশের একটি বিশাল অঙ্কের টাকা মূল ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে চলে গেছে, যার কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে।
অর্থনীতি সচল করতে এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে বড় নোটগুলো বাতিলের প্রস্তাব দিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘সরকার যদি ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটগুলো সাময়িকভাবে বাতিল ঘোষণা করে এবং সেগুলো ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য দুই মাস সময় দেয়, তবে বিশাল সুফল পাওয়া যাবে। যাঁদের ট্যাক্স ফাইলে এই অর্থের হিসাব নেই, তাঁরা ২৫ শতাংশ কর দিয়ে তা বৈধ করার সুযোগ পাবেন।’
তাঁর মতে, এই পদক্ষেপটি বাস্তবায়ন করা গেলে, ‘সরকারের বাজেট ঘাটতি কমবে। ব্যাংকিং খাতে নগদ অর্থের সরবরাহ বা তারল্য বাড়বে। দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাত শক্তিশালী হবে এবং সেই অর্থ উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।’
দেশে বর্তমানে কার্যরত ব্যাংকের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই সংসদ সদস্য বলেন, বাংলাদেশে এত বেশি ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আমানতের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘টাকা নেই, ব্যাংকগুলো লুট হয়ে গেছে। এত ব্যাংক দরকার কী বাংলাদেশে? এমপি হলেই একটা ব্যাংক লাগবে, নেতা হলেই একটা লিজিং কোম্পানি লাগবে—এগুলো বন্ধ করতে হবে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে ব্যাংকের ঘাটতি পূরণ করতে হয়। তাই জনগণের আমানতের নিরাপত্তা সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে।’
টাকা পাচারকে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এই আইনজীবী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে একটি টাকাও ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। কারণ, আন্তর্জাতিক জটিল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে একবার অর্থ বাইরে চলে গেলে তা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন।
টাকা পাচারের সমাধান হিসেবে তিনি পুরো আর্থিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘টাকারও একটি নিজস্ব স্বভাব আছে। মানুষ যেখানে নিরাপত্তা অনুভব করে, সেখানেই টাকা রাখে। আমাদের এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের মানুষ বিদেশে টাকা না পাঠিয়ে দেশেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। সিঙ্গাপুর, দুবাই, কানাডা ও থাইল্যান্ডে মানুষ আস্থার সঙ্গে অর্থ রাখে, কারণ তারা সেই নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছে।’
নতুন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণের বিষয়টি তুলে ধরেন মাহবুব উদ্দিন খোকন।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ




















