ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে হোটেল জাবিরে ২৪ জন নিহত: ৭ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১০:৩৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১০১৭ বার পড়া হয়েছে

যশোরে হোটেল জাবিরে ২৪ জন নিহত: ৭ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি

আস্থা ডেস্কঃ

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ২৪ জন নিহতের ঘটনায় আটক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭ নেতাকর্মীর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাদের অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন সম্প্রতি আদালতে প্রতিবেদনটি জমা দেন।

আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক দেখানো ৭ আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত দেবেন।

অব্যাহতি চাওয়া ৭ জন হলেন, অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ কবির হোসেন জনি (৪১), যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এস এম আজহার হোসেন স্বপন (৫২), স্থানীয়ভাবে সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের ঘনিষ্ঠ কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল (৩১) ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ, অঙ্গসংগঠন এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় নেতাকর্মী ও সমর্থক মোঃ আব্দুল খালেক (৬৫), মোঃ এনামুল হক (৫৯), আব্দুর রহমান শাওন (৩৬), মোঃ ইমন কাজী (২৬)।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, যশোর শহরের চিত্রা মোড়ের এমএম আলী রোডে শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন ‘জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি পাঁচ তারকা মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গানপাউডার ও পেট্রোল নিয়ে হোটেলটিতে প্রবেশ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা প্রথমে হোটেলের ক্যাশ ভল্ট ভেঙে ৯০ লাখ টাকা লুট করে। এরপর ১০০টি ফ্রিজ, ১০০টি স্মার্ট টেলিভিশন, ৪৫০ কিলোভোল্টের দুটি জেনারেটর, স্টোরে থাকা বিভিন্ন মালামাল ও আসবাবপত্র, এক হাজার কিলোভোল্টের ট্রান্সফরমারসহ সাবস্টেশন, প্রেসার পাম্প, সাইবার স্টেশন ও ফায়ার ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

পরে গানপাউডার ও পেট্রোল ব্যবহার করে হোটেলের প্রথম তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে হোটেলে অবস্থানরত একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকসহ ২৪ জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। নিহতদের মধ্যে হোটেলের স্টাফ ও বোর্ডারও ছিলেন।

ঘটনার পর ১৮ আগস্ট শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২শ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, হোটেলের আলমারিতে রাখা শাহীন চাকলাদারের বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যবান কাগজপত্র, আসবাবপত্র, স্টোরে থাকা বিভিন্ন মালামাল, যাবতীয় বৈদ্যুতিক সামগ্রী, তিনটি লিফট, জানালার গ্রিল ও কাচের দরজার ডেকোরেশন পুড়ে যায়। এতে মূল ভবনেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়, যার পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

মামলাটির দীর্ঘ তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বিভিন্ন সময়ে সাতজনকে আটক করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে ৭ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। এখন চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত দেবেন।

আস্থা/এমএইচ

 

ট্যাগস :

যশোরে হোটেল জাবিরে ২৪ জন নিহত: ৭ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি

আপডেট সময় : ১০:৩৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরে হোটেল জাবিরে ২৪ জন নিহত: ৭ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি

আস্থা ডেস্কঃ

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ২৪ জন নিহতের ঘটনায় আটক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭ নেতাকর্মীর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাদের অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন সম্প্রতি আদালতে প্রতিবেদনটি জমা দেন।

আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক দেখানো ৭ আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত দেবেন।

অব্যাহতি চাওয়া ৭ জন হলেন, অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ কবির হোসেন জনি (৪১), যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এস এম আজহার হোসেন স্বপন (৫২), স্থানীয়ভাবে সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের ঘনিষ্ঠ কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল (৩১) ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ, অঙ্গসংগঠন এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় নেতাকর্মী ও সমর্থক মোঃ আব্দুল খালেক (৬৫), মোঃ এনামুল হক (৫৯), আব্দুর রহমান শাওন (৩৬), মোঃ ইমন কাজী (২৬)।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, যশোর শহরের চিত্রা মোড়ের এমএম আলী রোডে শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন ‘জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি পাঁচ তারকা মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গানপাউডার ও পেট্রোল নিয়ে হোটেলটিতে প্রবেশ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা প্রথমে হোটেলের ক্যাশ ভল্ট ভেঙে ৯০ লাখ টাকা লুট করে। এরপর ১০০টি ফ্রিজ, ১০০টি স্মার্ট টেলিভিশন, ৪৫০ কিলোভোল্টের দুটি জেনারেটর, স্টোরে থাকা বিভিন্ন মালামাল ও আসবাবপত্র, এক হাজার কিলোভোল্টের ট্রান্সফরমারসহ সাবস্টেশন, প্রেসার পাম্প, সাইবার স্টেশন ও ফায়ার ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

পরে গানপাউডার ও পেট্রোল ব্যবহার করে হোটেলের প্রথম তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে হোটেলে অবস্থানরত একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকসহ ২৪ জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। নিহতদের মধ্যে হোটেলের স্টাফ ও বোর্ডারও ছিলেন।

ঘটনার পর ১৮ আগস্ট শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২শ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, হোটেলের আলমারিতে রাখা শাহীন চাকলাদারের বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যবান কাগজপত্র, আসবাবপত্র, স্টোরে থাকা বিভিন্ন মালামাল, যাবতীয় বৈদ্যুতিক সামগ্রী, তিনটি লিফট, জানালার গ্রিল ও কাচের দরজার ডেকোরেশন পুড়ে যায়। এতে মূল ভবনেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়, যার পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

মামলাটির দীর্ঘ তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বিভিন্ন সময়ে সাতজনকে আটক করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে ৭ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। এখন চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত দেবেন।

আস্থা/এমএইচ