ঢাকা ০৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তানে দূতাবাস চালুর আহ্বান তালেবানের

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৩:০৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১০০৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তানে দূতাবাস চালুর আহ্বান তালেবানের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও আফগানিস্তানে দূতাবাস চালুর আহ্বান জানিয়েছে তালেবান সরকার। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ৫ বছর পর কাবুলের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে এই আহ্বান জানানো হলো।

মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আহ্বান জানান আফগান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যুদ্ধের অধ্যায় পেরিয়ে এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে বলে মন্তব্য করে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের অধ্যায় শেষ হয়েছে। এখন থেকে আমরা পারস্পরিক সম্মান এবং ইতিবাচক সম্পৃক্ততার মধ্যে দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাই।’

এসময় আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ, বাঁধ ও সড়ক অবকাঠামোয় বিনিয়োগের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান মুত্তাকি।

তালেবানের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে হাঁটছে না। এক লিখিত জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কাবুলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। তালেবানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতারও অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন।

এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি ফের যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, আফগানিস্তানে রেখে যাওয়া মার্কিন অস্ত্র হস্তান্তর এবং একজন মার্কিন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার দাবি করেছিলেন। কিন্তু, তালেবান সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এরপর আফগান নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়া স্থগিত করা, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং তালেবানকে ‘অন্যায়ভাবে আটককারী’ সরকারের তালিকায় রাখার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয় ওয়াশিংটন।

ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থান বলছে, কাবুলে মার্কিন দূতাবাস ফের খোলার পথ এখনো বেশ কঠিন।

তালেবান সরকারের এই উদ্যোগ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বরং আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ, বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ প্রকল্পেও মার্কিন বিনিয়োগ চাইছে কাবুল। পাশাপাশি, গত এক বছরের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কমাতেও জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তালেবান সরকার।

বিশেষ করে, পাকিস্তান নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সীমান্তপথ বন্ধ করে দেওয়া এবং চলতি বছরের শুরুতে আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালানোর পর তালেবানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বেড়েছে।

সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে আফগানিস্তান। এছাড়া, উপসাগরীয় দেশগুলো সফর, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক এবং মধ্য এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ ও ভারতের সঙ্গে কয়েক ডজন বাণিজ্য চুক্তি করেছে তালেবান সরকার।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তানে দূতাবাস চালুর আহ্বান তালেবানের

আপডেট সময় : ০৩:০৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তানে দূতাবাস চালুর আহ্বান তালেবানের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও আফগানিস্তানে দূতাবাস চালুর আহ্বান জানিয়েছে তালেবান সরকার। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ৫ বছর পর কাবুলের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে এই আহ্বান জানানো হলো।

মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আহ্বান জানান আফগান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যুদ্ধের অধ্যায় পেরিয়ে এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে বলে মন্তব্য করে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের অধ্যায় শেষ হয়েছে। এখন থেকে আমরা পারস্পরিক সম্মান এবং ইতিবাচক সম্পৃক্ততার মধ্যে দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাই।’

এসময় আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ, বাঁধ ও সড়ক অবকাঠামোয় বিনিয়োগের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান মুত্তাকি।

তালেবানের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে হাঁটছে না। এক লিখিত জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কাবুলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। তালেবানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতারও অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন।

এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি ফের যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, আফগানিস্তানে রেখে যাওয়া মার্কিন অস্ত্র হস্তান্তর এবং একজন মার্কিন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার দাবি করেছিলেন। কিন্তু, তালেবান সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এরপর আফগান নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়া স্থগিত করা, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং তালেবানকে ‘অন্যায়ভাবে আটককারী’ সরকারের তালিকায় রাখার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয় ওয়াশিংটন।

ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থান বলছে, কাবুলে মার্কিন দূতাবাস ফের খোলার পথ এখনো বেশ কঠিন।

তালেবান সরকারের এই উদ্যোগ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বরং আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ, বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ প্রকল্পেও মার্কিন বিনিয়োগ চাইছে কাবুল। পাশাপাশি, গত এক বছরের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কমাতেও জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তালেবান সরকার।

বিশেষ করে, পাকিস্তান নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সীমান্তপথ বন্ধ করে দেওয়া এবং চলতি বছরের শুরুতে আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালানোর পর তালেবানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বেড়েছে।

সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে আফগানিস্তান। এছাড়া, উপসাগরীয় দেশগুলো সফর, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক এবং মধ্য এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ ও ভারতের সঙ্গে কয়েক ডজন বাণিজ্য চুক্তি করেছে তালেবান সরকার।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ