সংস্কারের অজুহাতে এক বছর তালাবদ্ধ নওগাঁ জেলা পরিষদ পার্ক

49

আমিনুল জুয়েল, নওগাঁ প্রতিনিধি:

পার্কের প্রধান গেটে ঝুলছে তালা। গেটের একপাশে বালির স্তুপ আর অন্যপাশে দেয়াল ঘেঁষে রাখা হয়েছে ইটের খোয়া। ফুটপাতে রাখা হয়েছে সংস্কার কাজের নানা সরঞ্জমাদি। সংস্কার কাজ আর নানা অজুহাতে এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে নওগঁ জেলা পরিষদ পার্ক। ফলে কোমলমতি শিশু-কিশোররা বিনোদন বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও, পার্কটি শহরবাসীর প্রাত-ভ্রমণ (মর্নিওয়াক) ও অবসর কাটানোর একমাত্র স্থান। এক বছরের বেশি সময় ধরে পার্ক বন্ধ থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

নওগাঁ শহরের প্রাণকেন্দ্র মুক্তির মোড় এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদ পার্কটি সংস্কারকাজের জন্য এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রাখা রয়েছে। শহরবাসীর অবসর কাটানোর একমাত্র জায়গা জেলা পার্কটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন নিয়মিত দর্শনার্থীরা।

নওগাঁ জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনা আর জরাজীর্ণ অবস্থার মধ্যেই কার্যক্রম চলছিল পার্কটি। এই অচল অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নতুন রূপে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয় গত বছরের শুরুর দিকে। পুরো পার্কটিকে নতুন করে সাজাতে সংস্কার ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সংস্কারকাজের মধ্যে রয়েছে মূল ফটক নতুনভাবে তৈরি, পার্কের ভেতর পায়ে হাঁটার রাস্তা সংস্কার, পাঠাগার ও ব্যায়ামাগার সংস্কার, দর্শনার্থীদের বসার জন্য কংক্রিটের পাঁচটি ছাতা তৈরি ও সীমানাপ্রাচীরের সংস্কারকাজ।

একটি প্রকল্পের আওতায় দরপত্র আহ্বান ও বাছাই প্রক্রিয়া শেষে সংস্কারের কাজ দায়িত্ব পায় নওগাঁর স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফাহাদ এন্টারপ্রাইজ। ঠিকাদারী ওই প্রতিষ্ঠান কাজের আদেশ পায় ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। আদেশ অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ওই বছরের ১০ আগস্ট। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এক বছর কেটে গেলেও কাজের তেমন অগ্রগতি দেখা যায় নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পার্কটির উত্তর ও দক্ষিণ পাশের দরজায় তালা ঝুলছে। নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট কোনো শ্রমিক বা কারিগরদের পার্ক এলাকায় দেখা যায়নি। পার্কের ভেতরে পায়ে হাঁটার জন্য রাস্তার কাজ প্রায় অর্ধেক বাকি রয়েছে। এদিকে, ব্যায়ামাগার ও পাঠাগারে রং ও টাইলস বসানোর কাজও শেষ হয়নি। শুরু হয়নি সীমানাপ্রাচীরের সংস্কারকাজ।

পার্ক এলাকার চৌধুরী ডেন্টাল এ্যান্ড কেয়ারের চিকিৎসক আব্দুর রহমান জানান, নওগাঁ শহরের বাইরে বেশ কয়েকটি পার্ক থাকলেও শহরের ভেতরে এটিই একমাত্র পার্ক। পার্ক খোলা থাকলে ফজরের নামাজ শেষে পরিবারসহ হাঁটতে যাই। কিন্তু গত এক বছর যাবৎ আমার পরিবারের আর বাহিরে হাঁটা হয় না।

কে.ডির মোড় এলাকার বাসিন্দা জালাল উদ্দিন জানান, আমার দুই ছেলে-মেয়ে নিয়মিত পার্কে যেত। ওখানে দোলনা, বিভিন্ন রাইডে ব্যায়াম করত। কিন্তু গত বছর থেকে বাচ্চারা আর পার্কে যেতে পারছে না। শহরতলীতে খেলাধূলার জন্য ভালো পরিবেশ বা ফাঁকা স্থান নেই। তাই তারা খেলাধুলা করতে পারছে না। গত এক বছর তারা ঘরে সময় পার করছে।

নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আ ত ম আবদুল্লাহেল বাকী বলেন, সংস্কারকাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং করোনার কারণে সংস্কারকাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা যায়নি।

তবে ঠিকাদার তানজিমুল ইসলাম জানান, নিয়ম মেনে সব করা হলেও প্রধান নির্বাহী বিভিন্ন দোষ বের করছেন। আর তা সমাধানের তাগিদ দেন। এজন্য কাজটি আটকে আছে।

এব্যাপারে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি বকু জানান, কাজ পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম নজরে আসলে তাৎক্ষণিক বাতিল করা হয় সংস্কার কাজ । সেই সাথে পুনরায় ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সিডিউল মোতাবেক ৩ মাসের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা এখনো কাজ শেষ করতে পারে নি।