৫ বছর পর আলোর মুখ দেখছে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র
- আপডেট সময় : ১২:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / ১০১৩ বার পড়া হয়েছে
৫ বছর পর আলোর মুখ দেখছে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
দীর্ঘ ৫ বছর পর আলোর মুখ দেখছে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পটি। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা (৩০ কোটি মার্কিন ডলার) ব্যয়ে নির্মিত এই পরিবেশবান্ধব কেন্দ্রটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সাভারের আমিনবাজারে দেশের প্রথম বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্র হবে এটি।
জানা যায়, ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন’ (সিএমইসি) এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)-এর মাঝে সাভারের আমিনবাজারে দেশের প্রথম বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি। এই বৃহৎ ও দূরদর্শী প্রকল্পটি যৌথ উদ্যোগ ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে হাতে নেওয়া হয়েছে।
আরও জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন কঠিন বর্জ্য বা পৌরসভার কঠিন বর্জ্য” পুড়িয়ে
৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের সংকট ও দূষণ কমানোর পাশাপাশি এটি ‘ক্লিন সিটি’ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। অপর দিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিপি) এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনে নেবে। যা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
প্রতি বছর ময়লার ভাগাড় (ল্যান্ডফিল) বা জমি অধিগ্রহণের নামে শত কোটি টাকার বাজেট পাস হয় এবং তা লুট করা হয়। যদি ময়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ বানানো হয়, তবে ল্যান্ডফিলের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে (৯৫% বর্জ্য পুড়ে যাবে)। আর ল্যান্ডফিল না থাকলে তো অসাধু কর্মকর্তাদের অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে! তাই বছরের পর বছর পরিবেশ ছাড়পত্র এবং ময়লায় বেশি পানি ব্যবহারের নানা ভুয়া অজুহাত দেখিয়ে ঢাকার আমিনবাজারসহ অন্যান্য প্রকল্পগুলো আটকে রাখে।
প্রসঙ্গত, তৎকালীন সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে ১ ডিসেম্বর/২০২১ সালে প্রকল্পটির মূল দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হয়। যদিও ২০১১-২০১২ সালের দিকে ইতালীয় একটি কোম্পানির সাথে বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সেই কোম্পানিটি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে নতুন করে পরিকল্পনা করে ২০২১ সালের শেষে এই আমিনবাজার প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ









