ঢাকা ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চোরাচালান মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আইনশৃঙ্খলা কমিটি সদস্য

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১০১৮ বার পড়া হয়েছে

চোরাচালান মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আইনশৃঙ্খলা কমিটি সদস্য

স্টাফ রিপোর্টারঃ

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন ওরফে সুমনের নাম রয়েছে হাতিয়া থানার একটি চোরাচালান মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট)। মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও। এরপরও তাঁকে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ বিভিন্ন সরকারি কমিটিতে সদস্য-সহ করা হয়েছে প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি।

বেলাল হোসেনের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবহিত ছিলেন না। দুই দিন আগেই তিনি বিষয়টি জেনেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে তাঁকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে ওই মামলায় জড়ানো হয়েছে।

বেলাল আরও বলেন, তিনি আজ বুধবার নোয়াখালী জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছেন। আদালত শুনানি শেষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শাহদাত হোসেনও যুবদল নেতার জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বেলাল হোসেন উপজেলার চর আমানউল্যাহ ইউনিয়নের বাসিন্দা। ২০১১-১৬ সাল পর্যন্ত একই ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পেশায় খাসেরহাট বাজারের একজন রড-সিমেন্টের ব্যবসায়ী।

বিগত ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের কালাবাহাদুর বাজার-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকায় করে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট ও কোমল পানীয় মিয়ানমারে পাচারের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। এসব মালামালসহ ৪ জনকে আটক করে কোস্টগার্ড। আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের নেতা বেলাল হোসেন, মাহে আলম প্রকাশ ও এনায়েত উল্যাহ মেম্বারকে ওই ঘটনায় মামলায় আসামি করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে অবশ্য বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি গণ্যমান্য ব্যক্তির কোটায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটির সদস্য হন এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সভা-সমাবেশে বক্তব্য দেন।

তবে সম্প্রতি জানা যায়, হাতিয়া থানার একটি চোরাচালান মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি তিনি। তিনিসহ ৭ জন আসামির নাম রয়েছে গত ১০ মে আদালতে দায়ের করা অভিযোগপত্রে। হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র নাথ ওই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান দাবি করেন, দুই দিন আগে থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ পৌঁছেছে।

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, ‘যুবদল নেতা বেলাল হোসেন ওরফে সুমন উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও কৃষি কমিটির সদস্য ছিলেন তাই তাকে রাখা হবে না।’

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

চোরাচালান মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আইনশৃঙ্খলা কমিটি সদস্য

আপডেট সময় : ১১:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

চোরাচালান মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আইনশৃঙ্খলা কমিটি সদস্য

স্টাফ রিপোর্টারঃ

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন ওরফে সুমনের নাম রয়েছে হাতিয়া থানার একটি চোরাচালান মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট)। মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও। এরপরও তাঁকে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ বিভিন্ন সরকারি কমিটিতে সদস্য-সহ করা হয়েছে প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি।

বেলাল হোসেনের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবহিত ছিলেন না। দুই দিন আগেই তিনি বিষয়টি জেনেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে তাঁকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে ওই মামলায় জড়ানো হয়েছে।

বেলাল আরও বলেন, তিনি আজ বুধবার নোয়াখালী জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছেন। আদালত শুনানি শেষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শাহদাত হোসেনও যুবদল নেতার জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বেলাল হোসেন উপজেলার চর আমানউল্যাহ ইউনিয়নের বাসিন্দা। ২০১১-১৬ সাল পর্যন্ত একই ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পেশায় খাসেরহাট বাজারের একজন রড-সিমেন্টের ব্যবসায়ী।

বিগত ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের কালাবাহাদুর বাজার-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকায় করে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট ও কোমল পানীয় মিয়ানমারে পাচারের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। এসব মালামালসহ ৪ জনকে আটক করে কোস্টগার্ড। আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের নেতা বেলাল হোসেন, মাহে আলম প্রকাশ ও এনায়েত উল্যাহ মেম্বারকে ওই ঘটনায় মামলায় আসামি করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে অবশ্য বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি গণ্যমান্য ব্যক্তির কোটায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটির সদস্য হন এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সভা-সমাবেশে বক্তব্য দেন।

তবে সম্প্রতি জানা যায়, হাতিয়া থানার একটি চোরাচালান মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি তিনি। তিনিসহ ৭ জন আসামির নাম রয়েছে গত ১০ মে আদালতে দায়ের করা অভিযোগপত্রে। হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র নাথ ওই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান দাবি করেন, দুই দিন আগে থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ পৌঁছেছে।

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, ‘যুবদল নেতা বেলাল হোসেন ওরফে সুমন উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও কৃষি কমিটির সদস্য ছিলেন তাই তাকে রাখা হবে না।’

আস্থা/এমএইচ