জেল বন্দি বিএনপি নেতা, ঢাকায় চালিয়েছেন গুলি: হয়ে গেলো মামলায় আসামী
- আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / ১০২৪ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টারঃ
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলি চালানোর অভিযোগে মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী বিএনপি নেতার নাম মোঃ কাইছ উদ্দিন।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার উত্তরায় ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা দেখিয়ে ২০২৬ সালে মামলাটি করেন ঢাকার তুরাগ থানার বাসিন্দা শাহরিয়ার মান্নান আনিফ।
ভুক্তভোগী কাইছ উদ্দিন পটিয়া উপজেলা বুধপুরা এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙার মামলাসহ ৫টি মামলা হয় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।
আর সেই সরকার পতনের লক্ষ্যে ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্রদের ওপর গুলি করার অভিযোগ এনে তার (কাইছ উদ্দিন) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারে কাইছকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট হয়ে তিনি বর্তমানে জেলে আছেন।
জানা যায়, কাইছের পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কাইছ ২০০২ সালে পটিয়া কালিয়াইশ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, ২০০৩ সালে পটিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য, ২০১১ সালে পটিয়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক, ২০১৬ সালে (জলিল-খোরশেদ) উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং ২০২২ সালে পটিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
অথচ মামলায় তাকে দেখানো হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি। এছাড়া একাধিক নথি ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের একাধিক মামলায় ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর আটক হন কাইছ। প্রায় দুই বছর তিনি চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দি ছিলেন।
ঢাকা উত্তরা পূর্ব থানায় হওয়া মামলায় বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার ৪ নম্বর সেক্টরের নওয়াব হাবিবুল্লাহ বাহার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় জাহিদুজ্জামান তানভীন নামে এক ছাত্র নিহত হন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আদালতে দেওয়া আবেদনে দাবি করা হয়, কাইছ স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক এবং ১৮ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছিলেন।
জানা যায়, হাইকোর্টের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি নগরীর বাকলিয়া কল্পলোক আবাসিক এলাকা থেকে কাইছকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে। পরে তাকে বাকলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সম্প্রতি তিনি জামিন লাভ করেন। কিন্তু ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানার তানভীন হত্যা মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয় এবং চট্টগ্রাম কারাগার থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত ১৩ জুন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কারাগারের রেকর্ড অনুযায়ী কাইছ ঢাকায় করা মামলায় ছাত্র আন্দোলনে হামলার যে ঘটনা ও তারিখ দেখানো হয়েছে (১৮ এপ্রিল ২০২৪) ওই তারিখে কাইছ চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দি ছিলেন।
আইনজীবীরা বলছেন, কারাগারে থাকা একজন ব্যক্তিকে সরাসরি গুলি চালানোর অভিযোগে আসামি করা এবং সেই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে মাসের পর মাস কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। মামলার আইওর উচিত ছিল শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করার আগে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের আইনের আওতায় আনা উচিত। কারণ, এটি কেবল দায়িত্বে অবহেলা কিংবা তথ্য যাচাইয়ে গুরুতর অপরাধ নয়; একজন নিরপরাধ ব্যক্তির জীবনকে বিভীষিকার দিকে ঠেলে দেওয়া।
মোঃ কাইছের ছোট ভাই মোঃ সুমন বলেন, ‘আমার ভাই এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন এবং বিএনপি করতেন, এটাই ছিল তার অপরাধ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাবশালী চক্র আওয়ামী লীগের আমলে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সরকার পতনের পর তাকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাজিয়ে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, টাকার কাছে যে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এভাবে বিকিয়ে যাবে, তা অবিশ্বাস্য। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের আইজিপিসহ সরকারের সর্বোচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















