ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজ উদ্ভিদ ‘কেও’

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:৪২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১০০১ বার পড়া হয়েছে

প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজ উদ্ভিদ ‘কেও’

স্টাফ রিপোর্টারঃ

 

 

 

 

 

ভেষজ উদ্ভিদ কেও। ছবি: আস্থা

সারা দেশে একসময় বাড়ির পাশের ঝোপঝাড়, খাল-নালা, জলাশয়ের পাড় কিংবা নিচু জমির স্যাঁতসেঁতে মাটিতে আপনাআপনিই জন্মাত কেও গাছ। বর্ষা শেষে গাছের মাথায় ফুটত সাদা ফুল। ফুলের নিচে থাকত লালচে পুষ্পমঞ্জরি। সবুজের মধ্যে লাল-সাদার সেই দৃশ্য ছিল গ্রামবাংলার চেনা ছবি।

তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই দৃশ্য। বাড়িঘর নির্মাণ, খাল-নালা ভরাট, ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনে কমেছে কেও গাছের আবাসস্থল। ফলে আগের মতো আর চোখে পড়ে না ভেষজগুণসম্পন্ন এই উদ্ভিদ। তবে পার্বত্য জেলাগুলোর গভীর জঙ্গলে এখনো কিছু কেও গাছ টিকে আছে। তবে সংখ্যায় তা নেহাতই সামান্য।

কেও বা কেওমূল একটি বহুবর্ষজীবী সপুষ্পক ভেষজ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Costus speciosus বা Cheilocostus speciosus। আদা গোত্রের এ উদ্ভিদ কোস্টাসি (Costaceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি কেও, কেওমূল, কেমুক, কেউন্দা ও কেঁউসহ নানা আঞ্চলিক নামে পরিচিত।

কেও গাছ বেড়ে উঠতে খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না। ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে জায়গায় সহজেই বেড়ে ওঠে। জলাশয়, খাল-নদীর পাড়, নিচু জমি ও ঘন ঝোপঝাড়বেষ্টিত এলাকায় সাধারণত এ গাছ জন্মায়। এর কাণ্ড নলের মতো লম্বা। মাটির নিচে থাকা রাইজোম বা কন্দ থেকে নতুন গাছ জন্মে। বীজের মাধ্যমেও বংশবিস্তার করে। ফল পাখির খাদ্য হওয়ায় পাখির মাধ্যমেও বীজ ছড়িয়ে পড়ে।

বর্ষার শেষ দিকে কেও গাছে ফুল আসে। সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে ফুল ফুটতে শুরু করে এবং বছরের শেষভাগ পর্যন্ত তা দেখা যেতে পারে। থরে থরে সাজানো লালচে পুষ্পমঞ্জরিপত্রের ভেতর থেকে বের হওয়া সাদা ফুল সহজেই আলাদা করে চেনায় এ উদ্ভিদকে।

কেও বা কেওমূল ভেষজগুণসম্পন্ন উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত। এর কন্দে ডায়োসজেনিন নামের একটি উপাদান পাওয়া যায়। স্টেরয়েডজাতীয় যৌগ তৈরিতে এ উপাদানের ব্যবহার রয়েছে বলে উদ্ভিদবিষয়ক বিভিন্ন তথ্যসূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

লোকজ চিকিৎসায় কেও গাছের কন্দমূল, পাতা ও বীজ ব্যবহারের কথা প্রচলিত রয়েছে। স্থানীয়ভাবে গাঁটের ব্যথা, অজীর্ণ, পেট ফাঁপা, বদহজম, জ্বর, সর্দি-কাশি, মাথাব্যথা ও চর্মরোগে এর ব্যবহারের কথা জানা যায়। কিছু এলাকায় কন্দ কৃমিনাশক এবং মূত্রনালির প্রদাহে ব্যবহারের কথাও প্রচলিত। কোথাও কোথাও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও এর ব্যবহারের কথা শোনা যায়।

তবে এসব ব্যবহার মূলত লোকজ জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো রোগের চিকিৎসায় কেও গাছের কোনো অংশ ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা নিরাপদ নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আস্থা/এমএইচ

 

ট্যাগস :

প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজ উদ্ভিদ ‘কেও’

আপডেট সময় : ০১:৪২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজ উদ্ভিদ ‘কেও’

স্টাফ রিপোর্টারঃ

 

 

 

 

 

ভেষজ উদ্ভিদ কেও। ছবি: আস্থা

সারা দেশে একসময় বাড়ির পাশের ঝোপঝাড়, খাল-নালা, জলাশয়ের পাড় কিংবা নিচু জমির স্যাঁতসেঁতে মাটিতে আপনাআপনিই জন্মাত কেও গাছ। বর্ষা শেষে গাছের মাথায় ফুটত সাদা ফুল। ফুলের নিচে থাকত লালচে পুষ্পমঞ্জরি। সবুজের মধ্যে লাল-সাদার সেই দৃশ্য ছিল গ্রামবাংলার চেনা ছবি।

তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই দৃশ্য। বাড়িঘর নির্মাণ, খাল-নালা ভরাট, ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনে কমেছে কেও গাছের আবাসস্থল। ফলে আগের মতো আর চোখে পড়ে না ভেষজগুণসম্পন্ন এই উদ্ভিদ। তবে পার্বত্য জেলাগুলোর গভীর জঙ্গলে এখনো কিছু কেও গাছ টিকে আছে। তবে সংখ্যায় তা নেহাতই সামান্য।

কেও বা কেওমূল একটি বহুবর্ষজীবী সপুষ্পক ভেষজ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Costus speciosus বা Cheilocostus speciosus। আদা গোত্রের এ উদ্ভিদ কোস্টাসি (Costaceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি কেও, কেওমূল, কেমুক, কেউন্দা ও কেঁউসহ নানা আঞ্চলিক নামে পরিচিত।

কেও গাছ বেড়ে উঠতে খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না। ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে জায়গায় সহজেই বেড়ে ওঠে। জলাশয়, খাল-নদীর পাড়, নিচু জমি ও ঘন ঝোপঝাড়বেষ্টিত এলাকায় সাধারণত এ গাছ জন্মায়। এর কাণ্ড নলের মতো লম্বা। মাটির নিচে থাকা রাইজোম বা কন্দ থেকে নতুন গাছ জন্মে। বীজের মাধ্যমেও বংশবিস্তার করে। ফল পাখির খাদ্য হওয়ায় পাখির মাধ্যমেও বীজ ছড়িয়ে পড়ে।

বর্ষার শেষ দিকে কেও গাছে ফুল আসে। সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে ফুল ফুটতে শুরু করে এবং বছরের শেষভাগ পর্যন্ত তা দেখা যেতে পারে। থরে থরে সাজানো লালচে পুষ্পমঞ্জরিপত্রের ভেতর থেকে বের হওয়া সাদা ফুল সহজেই আলাদা করে চেনায় এ উদ্ভিদকে।

কেও বা কেওমূল ভেষজগুণসম্পন্ন উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত। এর কন্দে ডায়োসজেনিন নামের একটি উপাদান পাওয়া যায়। স্টেরয়েডজাতীয় যৌগ তৈরিতে এ উপাদানের ব্যবহার রয়েছে বলে উদ্ভিদবিষয়ক বিভিন্ন তথ্যসূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

লোকজ চিকিৎসায় কেও গাছের কন্দমূল, পাতা ও বীজ ব্যবহারের কথা প্রচলিত রয়েছে। স্থানীয়ভাবে গাঁটের ব্যথা, অজীর্ণ, পেট ফাঁপা, বদহজম, জ্বর, সর্দি-কাশি, মাথাব্যথা ও চর্মরোগে এর ব্যবহারের কথা জানা যায়। কিছু এলাকায় কন্দ কৃমিনাশক এবং মূত্রনালির প্রদাহে ব্যবহারের কথাও প্রচলিত। কোথাও কোথাও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও এর ব্যবহারের কথা শোনা যায়।

তবে এসব ব্যবহার মূলত লোকজ জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো রোগের চিকিৎসায় কেও গাছের কোনো অংশ ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা নিরাপদ নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আস্থা/এমএইচ