লামায় কাটা হচ্ছে পাহাড়; বাড়ছে ভূমিধসের শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৬:৫২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০১৯ বার পড়া হয়েছে
লামায় কাটা হচ্ছে পাহাড়; বাড়ছে ভূমিধসের শঙ্কা
স্টাফ রিপোর্টারঃ
বান্দরবানের লামা উপজেলায় কাটা হচ্ছে পাহাড়। পাহাড়ি জনপদে বাড়েছে ভূমিধসের শঙ্কা। পরিবেশের ভারসাম্য ও পাহাড়ি জনপদের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেকু দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করে সরবরাহ করা হচ্ছে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে।
সরেজমিন অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লামার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইটভাটার মাটির চাহিদা মেটাতে পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি সংগ্রহের প্রবণতা রয়েছে। বিশেষ করে ফাইতং ইউনিয়নকে ঘিরে পাহাড় কাটার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, লামা উপজেলায় অন্তত ৪০টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ভাটায় ইট তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ মাটির প্রয়োজন হয়। সেই চাহিদার একটি অংশ পূরণ করা হচ্ছে পাহাড় কেটে সেই মাটি দিয়ে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোথাও পাহাড়ের ঢাল কেটে সমতল করা হয়েছে, আবার কোথাও পাহাড়ের নিচের অংশ কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি স্থানে কেটে রাখা মাটির বড় বড় স্তূপও দেখা গেছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ের প্রাকৃতিক ঢাল ও মাটির স্তর কেটে ফেলার ফলে পাহাড়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। বর্ষাকালে টানা বৃষ্টিতে কাটা অংশের মাটি পানিতে সিক্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়লে আকস্মিক ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়।
লামার পাহাড়ি এলাকায় বসতি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন সড়কের পাশে এ ধরনের পাহাড় কাটার ঘটনা ঘটলে অতিবৃষ্টির সময় মাটি ও পাথর ধসে পড়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, “বর্ষার সময় পাহাড় কাটা আরও বিপজ্জনক। প্রশাসন অভিযান চালানোর পরও যদি আবার একইভাবে বেকু দিয়ে পাহাড় কাটা হয়, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আগে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক রুহুল আমিন বলেন, “ইটভাটার মাটির জোগান দিতে পাহাড় কেটে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পাহাড় ধ্বংস হলে এর প্রভাব শুধু পরিবেশের ওপর পড়ে না, মানুষের জীবন ও জীবিকাও ঝুঁকিতে পড়ে। তাই অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ও ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।”
বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল হাসান সজীব জানান, তিনি যোগদানের পর গত তিন মাসে অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার অপরাধে ২৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে পাঁচটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















