বান্দরবানে দু’পক্ষের গোলাগুলি, নিহত ৮
- আপডেট সময় : ১২:৪০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ এপ্রিল ২০২৩
- / ১০৪৯ বার পড়া হয়েছে
বান্দরবানে দু’পক্ষের গোলাগুলি, নিহত ৮
আস্থা ডেস্কঃ

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে পাহাড়ি দুই সশস্ত্র গ্রুপের গোলাগুলিতে ৮ জন নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে আধিপাত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলিতে উপজেলার হামতাংপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। ভয়ে আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে রোয়াংছড়ি সদরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে ১৭৮ গ্রামবাসী। এঘটনায় স্থানীয়রা পাহাড়ের ঢালে আট জনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আট জনের মরদে উদ্ধার করেছে। নিহতদের মধ্যে সাত জন বম জনগোষ্ঠীর সদস্য বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বীকার করেছে বম জনগোষ্ঠীর সশস্ত্র সংগঠন কেএনএ। এঁরা হলেন ভানদু বম (৩৫), সাংখুম বম (৪৫), সানফির থাং বম (২২), বয়ে রেম বম (১৭), জাহিম বম (৪০), লাল লিয়ান নাং বম (৪৪) এবং লালঠা জার বম (২৭)। অপরজনের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কের হামতাংপাড়া খেয়াং জনগোষ্ঠীর ৯০টি পরিবারের ১৭৮ জন নারী-পুরুষ, শিশু ভয়ে আতঙ্কে পালিয়ে রোয়াংছড়ি সদরে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় গ্রহণকারীদের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী এবং পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে খাবার এবং পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

আতঙ্কিত পাড়াবাসী সাথোয়াই খেয়াং, অংলে খেয়াং বলেন, ‘খানতাম পাড়াটি রোয়াংছড়ি ও রুমা দুটি উপজেলার মধ্যবর্তী এলাকা। পাড়ার পাশবর্তী পাহাড়ে বৃহস্পতিবার রাতে ও আজ সকালে বিকট শব্দে গোলাগুলি হয়েছে। গোলাগুলি কাদের মধ্যে হয়েছে জানি না। কিন্তু আমরা দুই পারের পাড়াবাসী ভয়ে আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে রোয়াংছড়ি সদরে স্কুলে আশ্রয় নিয়েছি। ঘটনাস্থলে আট জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। তাদের গায়ে জলপাই রঙের পোশাক ছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী দুটি সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলিতে আট জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আধিপাত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তায় কাজ করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।












