ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সড়ক অবরোধ Logo নিবন্ধিত অনলাইন নিউজপোর্টালে সরকারি বিজ্ঞাপনের দাবি Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ চার মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন নাসীরুদ্দীন Logo সংবিধান অনুযায়ী কোনো সরকার নেই, বিরোধীদলও নেই: জামায়াত আমির Logo জাপা নেতার বাসায় নাহিদ ও হাসনাতের ডিনার ও রাত্রি যাপন Logo বিএনপি পাহারা না দিলে আ.লীগ এনসিপির নেতাদের গিলে ফেলত: রাশেদ Logo সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরী মারা গেছেন Logo কুয়েতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংস করলো ইরান Logo নিরাপদ নয় পুলিশ-কতটুক নিরাপদ সাধারণ মানুষ? Logo যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পালটাপালটি হামলায় ফের ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

উৎপাদন শুরুর ৪র্থ দিনেই বন্ধ হচ্ছে এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্র

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জুন ২০২৩
  • / ১০৯১ বার পড়া হয়েছে

উৎপাদন শুরুর ৪র্থ দিনেই বন্ধ হচ্ছে এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্র

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সরকারের অনুরোধে উৎপাদনে গেলেও কয়লা সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার। কয়লার মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষামূলক উৎপাদনে আসার চতুর্থ দিনেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবস্থিত এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র। এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ রাত ১০-১১টার মধ্যে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।

 

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)র অনুরুদে এসএস পাওয়ারকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪ তারিখ দিবাগত মধ্যরাতে উৎপাদনে আসে এসএস পাওয়ার। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০-৩৭৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। এসএস পাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা মোট ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইউনিট পিডিবির অনুরোধে চালু করা হয়েছিল।

 

এদিকে বুধবার টর্নেডোর আঘাতে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঞ্চালন লাইনে সমস্যা হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু করতে পারেনি। এখন এসএস পাওয়ারের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে লোডশেডিং মোকাবিলায় আরেকটি বড় ধাক্কা আসবে।

 

এসএস পাওয়ারের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পিডিবির অনুরোধে আমরা গত ৫ তারিখ মধ্যরাত থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে আসছিলাম। কিন্তু কয়লার জোগান শেষ হয়ে যাওয়ায় আজ রাত ১০-১১টার মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ৩৭৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছি।

 

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব আজকের পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘চলমান লোডশেডিং মোকাবিলায় এসএস পাওয়ার থেকে ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

 

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ (পিজিসিবি) জানিয়েছে, এসএস পাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে এখনো দুই মাস লাগবে। পিজিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘চট্টগ্রামের মদুনাঘাট সাবস্টেশন থেকে মেঘনাঘাট সাবস্টেশন পর্যন্ত যে ২১৪ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন তৈরি হচ্ছে, সেটির এখনো ৭ কিলোমিটার কাজ অসমাপ্ত। এই সঞ্চালন লাইন পুরোপুরি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত পিডিবি এসএস পাওয়ারকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমতি দেবে না।

এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার আজ রাতে বন্ধের ব্যাপারে জানতে চাইলে পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) এস এম ওয়াজেদ আলী সরদার বলেন, ‘আমরা জানি, তারা উৎপাদনে থাকবে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর আমরা এসএস পাওয়ারসহ আরও কিছু কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এনেছি সংকট মোকাবিলা করার জন্য। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধের ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।

 

কয়লা কবে আসবে জানতে চাইলে এসএস পাওয়ারের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই মাসের ১৮ তারিখের মধ্যে কয়লার প্রথম চালান আসতে পারে। প্রাথমিকভাবে ৬০ হাজার টন কয়লা আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ট্যাগস :

উৎপাদন শুরুর ৪র্থ দিনেই বন্ধ হচ্ছে এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্র

আপডেট সময় : ১০:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জুন ২০২৩

উৎপাদন শুরুর ৪র্থ দিনেই বন্ধ হচ্ছে এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্র

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সরকারের অনুরোধে উৎপাদনে গেলেও কয়লা সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার। কয়লার মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষামূলক উৎপাদনে আসার চতুর্থ দিনেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবস্থিত এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র। এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ রাত ১০-১১টার মধ্যে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।

 

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)র অনুরুদে এসএস পাওয়ারকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪ তারিখ দিবাগত মধ্যরাতে উৎপাদনে আসে এসএস পাওয়ার। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০-৩৭৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। এসএস পাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা মোট ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইউনিট পিডিবির অনুরোধে চালু করা হয়েছিল।

 

এদিকে বুধবার টর্নেডোর আঘাতে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঞ্চালন লাইনে সমস্যা হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু করতে পারেনি। এখন এসএস পাওয়ারের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে লোডশেডিং মোকাবিলায় আরেকটি বড় ধাক্কা আসবে।

 

এসএস পাওয়ারের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পিডিবির অনুরোধে আমরা গত ৫ তারিখ মধ্যরাত থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে আসছিলাম। কিন্তু কয়লার জোগান শেষ হয়ে যাওয়ায় আজ রাত ১০-১১টার মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ৩৭৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছি।

 

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব আজকের পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘চলমান লোডশেডিং মোকাবিলায় এসএস পাওয়ার থেকে ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

 

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ (পিজিসিবি) জানিয়েছে, এসএস পাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে এখনো দুই মাস লাগবে। পিজিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘চট্টগ্রামের মদুনাঘাট সাবস্টেশন থেকে মেঘনাঘাট সাবস্টেশন পর্যন্ত যে ২১৪ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন তৈরি হচ্ছে, সেটির এখনো ৭ কিলোমিটার কাজ অসমাপ্ত। এই সঞ্চালন লাইন পুরোপুরি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত পিডিবি এসএস পাওয়ারকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমতি দেবে না।

এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার আজ রাতে বন্ধের ব্যাপারে জানতে চাইলে পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) এস এম ওয়াজেদ আলী সরদার বলেন, ‘আমরা জানি, তারা উৎপাদনে থাকবে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর আমরা এসএস পাওয়ারসহ আরও কিছু কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এনেছি সংকট মোকাবিলা করার জন্য। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধের ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।

 

কয়লা কবে আসবে জানতে চাইলে এসএস পাওয়ারের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই মাসের ১৮ তারিখের মধ্যে কয়লার প্রথম চালান আসতে পারে। প্রাথমিকভাবে ৬০ হাজার টন কয়লা আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।