ঢাকা ০৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারি বর্ষণে বাড়ছে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কা, কাজ করছে সেনাবাহিনী

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ অগাস্ট ২০২৩
  • / ১০৫১ বার পড়া হয়েছে

ভারি বর্ষণে বাড়ছে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কা, কাজ করছে সেনাবাহিনী

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

লাগাতার ভারি বর্ষণ থামার যেন কোন লক্ষণই নেই। যে কারণে রাঙামাটিতে বড় পাহাড়গুলো ধ্বসের শঙ্কাও তীব্র হচ্ছে। অবশেষে সেনাবাহিনী মাঠে নামানোয় পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে থাকা লোকজন আশ্রয় কেন্দ্র মুখো হতে শুরু করেছে। রোববার রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, কাপ্তাই-রাঙামাটি ও রাঙাপানি-ভেদভেদি সড়কের পাশের একাধিক স্থানে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে হ্রদের পানি বাড়ছে। চালু হয়েছে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবগুলো ইউনিট।

 

থেমে থেমে দু’দিনের বর্ষণের পর শনিবার রাত থেকে পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটিতে মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী মাঠে নামার পর হতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে আসা শুরু করেছে। কিছু লোকজন আত্মীয়-স্বজনের বাসাবাড়িতে সাময়িক আশ্রয় নিয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা লোকজনের মধ্যে সবাই আশ্রয় কেন্দ্রে না গেলেও বর্তমানে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো কানায় কানায় পরিপূর্ণ। সরকারিভাবে তাদের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশ্রিত লোকজনের নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসার নিয়োগ করা হয়েছে। রাঙামাটি সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, প্রবল বর্ষণের কারণে রোববার রাঙামাটি- চট্টগ্রাম সড়কের মইষমারা এলাকাসহ সড়ক লগোয়া একাধিক স্থানে পাহাড় ধ্বসের কারণে যোগাযোগ সাময়িক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সড়ক বিভাগ ধ্বসে পড়া মাটি সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করতে সক্ষম হয়েছে। শহরের যুব উন্নয়ন এলাকায় পাহাড় ধ্বস হয়। বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ জানিয়েছে, কুতুকছড়িতে ১১ হাজার কেবি বৈদ্যুতিক বিতরন লাইনে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে বিতরণ লাইনটি চালু করা হয়েছে। রাঙামাটিস্থ বাংলাদেশ বেতার আশ্রয় কেন্দ্রে ৬২ জন আশ্রয় নিয়েছে।

 

গৃহবধূ মুক্তা বেগম বলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে আমাদেরকে এখানে এনে রাখছে। ঘরবাড়ি এবং জিনিসপত্রের কি হচ্ছে জানি না। ঘরবাড়ি ও সম্পদের মায়ায় জড়িয়ে আশ্রয় কেন্দ্র বিমূখ লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে পেরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার ও জেলা প্রশাসনসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমূহ সন্তুষ্ট। পাহাড় ধ্বসে রাস্তার ওপর পড়ে জেলার ভারত সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলা -দিঘীনালা উপজেলা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

 

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ওপর পাহাড় ধ্বসে পড়লেও সড়কের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে এলজিইডির নির্মিত রাঙামাটি- কাপ্তাই ও ভেদভেদি-রাঙাপানি সড়কের পাশের পাহাড় ধ্বসের কারণে সড়ক দু’টির বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত ৪ দিনের ভারি বর্ষণে জেলা সদর ছাড়াও বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি নানিয়ারচর ও রাজস্থলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৭টি স্থানে পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ের ধ্বসের আশঙ্কা প্রানহানি এড়াতে বেশি ঝুঁকিতে থাকা ৬ শ ৯ পরিবারের সবাই সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ও আত্মীয়-স্বজনের বাসায় আশ্রয় গ্রহন করেছে। ১৯ টি আশ্রয় কেন্দ্রের প্রায় সবগুলোই লোকজনে ঠাশা।

 

শহরে কমবেশী ৭ হাজার লোক পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এদের পূনর্বাসনের আশ্বাস থাকলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ২০১৭ সালে প্রলয়ঙ্কারী পাহাড় ধ্বসে রাঙামাটি জেলায় সেনা কর্মকর্তাসহ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। প্রতি বছর বৃষ্টিপাত হলেই পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা তৈরি হয়। আর তখন সাময়িক সময়ের জন্য প্রশাসনের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়, এর বেশি কিছু না।

 

বৃহস্পতিবার থেকে ৪ দিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান হতে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে দ্রুত বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। হ্রদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকির মাঝে হাসি ফোঁটাচ্ছে “কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র”। বাড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনও। এতে সচল হয়ে উঠছে এক সাথে ৫টি ইউনিট। এই ৫টি ইউনিট হতে সর্বমোট ১ শত ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আর উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই জাতীয় গ্রীডে সঞ্চালন করা হচ্ছে।

 

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এ টি এম আব্দুজ্জাহের জানিয়েছে, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ী ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানির বাড়ছে। রুলকার্ভ (পানির পরিমাপ) অনুযায়ী কাপ্তাই হ্রদে এ মুহুর্তে রবিবার (৬ আগস্ট) সময়ে ৯০.৬০ মীনস সী লেভেল (এম এস এল) পানি থাকার কথা। কিন্তু হ্রদে এখন পানি রয়েছে ৮২.৯০ এম এস এল। কাপ্তাই হ্রদে পানির ধারন ক্ষমতা ১০৯ এম এস এল। পানি বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে এই কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে ৫টি ইউনিট সচল থাকায় ১শ ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। তান্মধ্যে রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ১নং ইউনিটে ৩৩ মেগাওয়াট, ২নং ইউনিটে ৩২ মেগাওয়াট, ৩নং ইউনিটে ২৬ মেগাওয়াট, ৪নং ও ৫নং ইউনিটের প্রতিটিতে ২২ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। পানির পরিমান বৃদ্ধির সাথে সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে। উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই জাতীয় গ্রীডে সঞ্চালন করা হচ্ছে বলে জানান। এতোদিন পানির অভাবে শুধুমাত্র ২ থেকে ৩টি ইউনিট রেশনিং সিস্টেমে চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছিল। বর্তমানে পানি বাড়ার ফলে ৫টি ইউনিট সচল করা সম্ভব হয়েছে। এ ৫টি ইউনিট’র বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২ শত ৩০ মেগাওয়াট যোগ করেন এ কর্মকর্তা।

 

কাপ্তাই হ্রদে উজানের পাহাড়ি ঢলের পানির তীব্র স্রোত ও ঢেউ থাকায় সকাল প্রকার নৌযান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যে কারণে দূর্গম বিলাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি উপজেলার সাথে রাঙামাটি জেলার নৌপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বলা চলে। পাহাড় ধ্বসের কারণে বাঘাইছড়ি সাথে সড়কে খাগড়াছড়ি হয়ে যোগাযোগের সুযোগও নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন ব্রিজ তৈরি হওয়ার ফলে যোগাযোগ রক্ষা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও আশ্রয় কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করছেন, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান ও পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ৫ টি ভ্রাম্যমাণ টীম মাঠে রয়েছে। জেলা প্রশাসনে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে।

ট্যাগস :

ভারি বর্ষণে বাড়ছে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কা, কাজ করছে সেনাবাহিনী

আপডেট সময় : ০১:০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ অগাস্ট ২০২৩

ভারি বর্ষণে বাড়ছে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কা, কাজ করছে সেনাবাহিনী

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

লাগাতার ভারি বর্ষণ থামার যেন কোন লক্ষণই নেই। যে কারণে রাঙামাটিতে বড় পাহাড়গুলো ধ্বসের শঙ্কাও তীব্র হচ্ছে। অবশেষে সেনাবাহিনী মাঠে নামানোয় পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে থাকা লোকজন আশ্রয় কেন্দ্র মুখো হতে শুরু করেছে। রোববার রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, কাপ্তাই-রাঙামাটি ও রাঙাপানি-ভেদভেদি সড়কের পাশের একাধিক স্থানে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে হ্রদের পানি বাড়ছে। চালু হয়েছে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবগুলো ইউনিট।

 

থেমে থেমে দু’দিনের বর্ষণের পর শনিবার রাত থেকে পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটিতে মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী মাঠে নামার পর হতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে আসা শুরু করেছে। কিছু লোকজন আত্মীয়-স্বজনের বাসাবাড়িতে সাময়িক আশ্রয় নিয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা লোকজনের মধ্যে সবাই আশ্রয় কেন্দ্রে না গেলেও বর্তমানে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো কানায় কানায় পরিপূর্ণ। সরকারিভাবে তাদের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশ্রিত লোকজনের নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসার নিয়োগ করা হয়েছে। রাঙামাটি সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, প্রবল বর্ষণের কারণে রোববার রাঙামাটি- চট্টগ্রাম সড়কের মইষমারা এলাকাসহ সড়ক লগোয়া একাধিক স্থানে পাহাড় ধ্বসের কারণে যোগাযোগ সাময়িক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সড়ক বিভাগ ধ্বসে পড়া মাটি সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করতে সক্ষম হয়েছে। শহরের যুব উন্নয়ন এলাকায় পাহাড় ধ্বস হয়। বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ জানিয়েছে, কুতুকছড়িতে ১১ হাজার কেবি বৈদ্যুতিক বিতরন লাইনে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে বিতরণ লাইনটি চালু করা হয়েছে। রাঙামাটিস্থ বাংলাদেশ বেতার আশ্রয় কেন্দ্রে ৬২ জন আশ্রয় নিয়েছে।

 

গৃহবধূ মুক্তা বেগম বলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে আমাদেরকে এখানে এনে রাখছে। ঘরবাড়ি এবং জিনিসপত্রের কি হচ্ছে জানি না। ঘরবাড়ি ও সম্পদের মায়ায় জড়িয়ে আশ্রয় কেন্দ্র বিমূখ লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে পেরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার ও জেলা প্রশাসনসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমূহ সন্তুষ্ট। পাহাড় ধ্বসে রাস্তার ওপর পড়ে জেলার ভারত সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলা -দিঘীনালা উপজেলা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

 

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ওপর পাহাড় ধ্বসে পড়লেও সড়কের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে এলজিইডির নির্মিত রাঙামাটি- কাপ্তাই ও ভেদভেদি-রাঙাপানি সড়কের পাশের পাহাড় ধ্বসের কারণে সড়ক দু’টির বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত ৪ দিনের ভারি বর্ষণে জেলা সদর ছাড়াও বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি নানিয়ারচর ও রাজস্থলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৭টি স্থানে পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ের ধ্বসের আশঙ্কা প্রানহানি এড়াতে বেশি ঝুঁকিতে থাকা ৬ শ ৯ পরিবারের সবাই সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ও আত্মীয়-স্বজনের বাসায় আশ্রয় গ্রহন করেছে। ১৯ টি আশ্রয় কেন্দ্রের প্রায় সবগুলোই লোকজনে ঠাশা।

 

শহরে কমবেশী ৭ হাজার লোক পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এদের পূনর্বাসনের আশ্বাস থাকলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ২০১৭ সালে প্রলয়ঙ্কারী পাহাড় ধ্বসে রাঙামাটি জেলায় সেনা কর্মকর্তাসহ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। প্রতি বছর বৃষ্টিপাত হলেই পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা তৈরি হয়। আর তখন সাময়িক সময়ের জন্য প্রশাসনের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়, এর বেশি কিছু না।

 

বৃহস্পতিবার থেকে ৪ দিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান হতে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে দ্রুত বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। হ্রদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকির মাঝে হাসি ফোঁটাচ্ছে “কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র”। বাড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনও। এতে সচল হয়ে উঠছে এক সাথে ৫টি ইউনিট। এই ৫টি ইউনিট হতে সর্বমোট ১ শত ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আর উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই জাতীয় গ্রীডে সঞ্চালন করা হচ্ছে।

 

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এ টি এম আব্দুজ্জাহের জানিয়েছে, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ী ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানির বাড়ছে। রুলকার্ভ (পানির পরিমাপ) অনুযায়ী কাপ্তাই হ্রদে এ মুহুর্তে রবিবার (৬ আগস্ট) সময়ে ৯০.৬০ মীনস সী লেভেল (এম এস এল) পানি থাকার কথা। কিন্তু হ্রদে এখন পানি রয়েছে ৮২.৯০ এম এস এল। কাপ্তাই হ্রদে পানির ধারন ক্ষমতা ১০৯ এম এস এল। পানি বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে এই কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে ৫টি ইউনিট সচল থাকায় ১শ ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। তান্মধ্যে রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ১নং ইউনিটে ৩৩ মেগাওয়াট, ২নং ইউনিটে ৩২ মেগাওয়াট, ৩নং ইউনিটে ২৬ মেগাওয়াট, ৪নং ও ৫নং ইউনিটের প্রতিটিতে ২২ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। পানির পরিমান বৃদ্ধির সাথে সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে। উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই জাতীয় গ্রীডে সঞ্চালন করা হচ্ছে বলে জানান। এতোদিন পানির অভাবে শুধুমাত্র ২ থেকে ৩টি ইউনিট রেশনিং সিস্টেমে চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছিল। বর্তমানে পানি বাড়ার ফলে ৫টি ইউনিট সচল করা সম্ভব হয়েছে। এ ৫টি ইউনিট’র বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২ শত ৩০ মেগাওয়াট যোগ করেন এ কর্মকর্তা।

 

কাপ্তাই হ্রদে উজানের পাহাড়ি ঢলের পানির তীব্র স্রোত ও ঢেউ থাকায় সকাল প্রকার নৌযান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যে কারণে দূর্গম বিলাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি উপজেলার সাথে রাঙামাটি জেলার নৌপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বলা চলে। পাহাড় ধ্বসের কারণে বাঘাইছড়ি সাথে সড়কে খাগড়াছড়ি হয়ে যোগাযোগের সুযোগও নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন ব্রিজ তৈরি হওয়ার ফলে যোগাযোগ রক্ষা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও আশ্রয় কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করছেন, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান ও পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ৫ টি ভ্রাম্যমাণ টীম মাঠে রয়েছে। জেলা প্রশাসনে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে।