ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনুচের চুক্তির দায়ে আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত দামে পাম অলিন কিনতে বাধ্য হচ্ছে সরকার

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০২৫ বার পড়া হয়েছে

ইউনুচের চুক্তির দায়ে আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত দামে পাম অলিন কিনতে বাধ্য হচ্ছে সরকার

আস্থা ডেস্কঃ

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারীদের কাছে কম দামে বিক্রির লক্ষ্যে ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম অলিন কিনছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র (আন্তর্জাতিক) পদ্ধতিতে আমেরিকার পাওয়ার হাউস জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি থেকে এই তেল কিনতে ১শ ৮১ কোটি ২৯ লাখ ৬ হাজার ৯শ ৩২ টাকা ব্যয় হবে।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে তেল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

পাম অলিন হল পাম ফলের শাঁস থেকে উৎপাদিত পাম অয়েলের একটি তরল ভগ্নাংশ, যা মূলত ভোজ্যতেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেশের ব্যবসায়ীরা সাধারণত মালয়েশিয়া থেকে এ তেল আমদানি করতেন। তবে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির পর সরকার এখন এই ভোজ্য তেল কিনছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির কাছ থেকে।

এক সময় মালয়েশিয়া থেকে কম দাম কিনা হতো এই তেল। মালয়েশিয়ার চেয়ে আরও কম দাম ইন্দোনেশিয়ায়। ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি লিটার তেলের দাম স্থানীয় উৎপাদন ও শুল্কের কারণে এই দেশগুলোতে প্রতি লিটার পাম অলিন বাংলাদেশ বা আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কম দামে (প্রায় ৮০-১০০ টাকার সমপরিমাণ বা তার নিচে) পাওয়া যায়।

অপর দিকে আমেরিকায় প্রতি লিটারের দাম ১শ ৩৭ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় ১শ ৬৫ টাকা ৩০ পয়সা। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনুচ সরকারের শেষ সময়ে বাংলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে তড়িগড়ি করে ৯ ফেব্রুয়ারি ‘’এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই অতিরিক্ত দামে বাণিজ্যচুক্তি করে ইউনুচ সরকার।

চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ আগামী ৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩শ ৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য (গম, সয়াবিন, তুলা) এবং ১৫ বছরে ১ হাজার ৫শ কোটি ডলারের এলএনজি আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ১৪টি বোয়িং কেনারও সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাংস, পোল্ট্রি, প্রক্রিয়াজাত মাংস, সিলুরিফর্মেস (ক্যাটফিশ জাতীয় মাছ) এবং ডিমের মত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কোনো বাধা তৈরি করা হবে না বলেও চুক্তিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ, যা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন পোল্ট্রি শিল্পের দেশি উদ্যোক্তারা।

বাণিজ্য ছাপিয়ে ওই চুক্তিতে রাজনৈতিক উপাদানও যুক্ত হয়েছে। একটি শর্তে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অন্য দেশ থেকে কী আমদানি করবে বা করবে না সেক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দেখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য টিসিবির (TCB) মাধ্যমে আমেরিকার পাওয়ার হাউস জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি-এর কাছ থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম অলিন তেল কেনায় সরকারের ১৮১ কোটি ২৯ লাখ ৬ হাজার ৯৩২ টাকা ব্যয় হবে

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ইউনুচের চুক্তির দায়ে আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত দামে পাম অলিন কিনতে বাধ্য হচ্ছে সরকার

আপডেট সময় : ০১:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইউনুচের চুক্তির দায়ে আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত দামে পাম অলিন কিনতে বাধ্য হচ্ছে সরকার

আস্থা ডেস্কঃ

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারীদের কাছে কম দামে বিক্রির লক্ষ্যে ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম অলিন কিনছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র (আন্তর্জাতিক) পদ্ধতিতে আমেরিকার পাওয়ার হাউস জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি থেকে এই তেল কিনতে ১শ ৮১ কোটি ২৯ লাখ ৬ হাজার ৯শ ৩২ টাকা ব্যয় হবে।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে তেল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

পাম অলিন হল পাম ফলের শাঁস থেকে উৎপাদিত পাম অয়েলের একটি তরল ভগ্নাংশ, যা মূলত ভোজ্যতেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেশের ব্যবসায়ীরা সাধারণত মালয়েশিয়া থেকে এ তেল আমদানি করতেন। তবে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির পর সরকার এখন এই ভোজ্য তেল কিনছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির কাছ থেকে।

এক সময় মালয়েশিয়া থেকে কম দাম কিনা হতো এই তেল। মালয়েশিয়ার চেয়ে আরও কম দাম ইন্দোনেশিয়ায়। ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি লিটার তেলের দাম স্থানীয় উৎপাদন ও শুল্কের কারণে এই দেশগুলোতে প্রতি লিটার পাম অলিন বাংলাদেশ বা আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কম দামে (প্রায় ৮০-১০০ টাকার সমপরিমাণ বা তার নিচে) পাওয়া যায়।

অপর দিকে আমেরিকায় প্রতি লিটারের দাম ১শ ৩৭ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় ১শ ৬৫ টাকা ৩০ পয়সা। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনুচ সরকারের শেষ সময়ে বাংলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে তড়িগড়ি করে ৯ ফেব্রুয়ারি ‘’এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই অতিরিক্ত দামে বাণিজ্যচুক্তি করে ইউনুচ সরকার।

চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ আগামী ৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩শ ৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য (গম, সয়াবিন, তুলা) এবং ১৫ বছরে ১ হাজার ৫শ কোটি ডলারের এলএনজি আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ১৪টি বোয়িং কেনারও সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাংস, পোল্ট্রি, প্রক্রিয়াজাত মাংস, সিলুরিফর্মেস (ক্যাটফিশ জাতীয় মাছ) এবং ডিমের মত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কোনো বাধা তৈরি করা হবে না বলেও চুক্তিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ, যা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন পোল্ট্রি শিল্পের দেশি উদ্যোক্তারা।

বাণিজ্য ছাপিয়ে ওই চুক্তিতে রাজনৈতিক উপাদানও যুক্ত হয়েছে। একটি শর্তে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অন্য দেশ থেকে কী আমদানি করবে বা করবে না সেক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দেখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য টিসিবির (TCB) মাধ্যমে আমেরিকার পাওয়ার হাউস জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি-এর কাছ থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম অলিন তেল কেনায় সরকারের ১৮১ কোটি ২৯ লাখ ৬ হাজার ৯৩২ টাকা ব্যয় হবে

দৈনিক আস্থা/এমএইচ