জুলাইয়ে গুলিতে স্ত্রী নিহতের ভুয়া মামলা হাসিনাসহ সব আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ
- আপডেট সময় : ১১:৪৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
- / ১০১১ বার পড়া হয়েছে
জুলাইয়ে গুলিতে ‘স্ত্রী নিহতের ভুয়া মামলা’, হাসিনাসহ সব আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ
বাদী ফাতেমা নামের কাউকে চেনেন না; জুলাই আন্দোলনে ওই নামে কেউ নিহত হয়েছে বলেও তিনি জানেন না, ভাষ্য পুলিশের।
জুলাইয়ে গুলিতে স্ত্রী নিহতের ভুয়া মামলা হাসিনাসহ সব আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
জুলাই আন্দোলনে ঢাকার মোহাম্মদপুরে গুলিতে নিজের স্ত্রী নিহত হওয়ার দাবি করে শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছিলেন মোঃ সুমন নামের এক ব্যক্তি। যদিও তদন্তে নেমে পুলিশ বলছে সেরকম হত্যার কোনো ঘটনা ঘটেইনি। আর ফাতেমা নামে সেই নারীর সঙ্গে বাদীর কোনো সম্পর্কও নেই। কেউ কাউকে চেনেন না।
২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট গুলিতে স্ত্রী নিহতের বর্ণনা দিয়ে পরের বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলা করেন সুমন। গত ২৭ এপ্রিল এ ব্যাপারে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই শাহাদাত হোসেন। প্রতিবেদনে মামলার সব আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন তিনি।
পুলিশ বলছে, কিছু মানুষের প্ররোচনায় ও আর্থিক প্রলোভনে সুমন মামলা করেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে উল্টো সুমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রার্থনা করা হয়েছে।
সুমনের করা মামলায় আসামি করা হয় শেখ হাসিনা সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক হারুন-অর-রশীদ, সাবেক অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার বিশ্বাসসহ ৮৪ জনকে।
মামলার তদন্তে নেমে এজাহারে নাম থাকা ছয়জনকে আটকের পাশাপাশি আরও একজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো, কামরুল ইসলাম, এটি নিজাম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, রাসেল মিয়া, সৈকত ইসলাম কামরুল ও আব্দুল মুকিত মজুমদার। বিল্লাল ওরফে ভাতিজা বিল্লাল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে।
বিল্লাল জামিনে থাকলেও অন্যরা কারাগারে রয়েছেন। তাকেসহ ৮৫ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
গত ১১ মে মামলার শুনানির দিন ধার্য থাকলেও পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম আগামী ২৪ জুন শুনানির পরবর্তী দিন রেখেছেন বলে পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান জানিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেন বলেন, আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি। তদন্তে যা পেয়েছি সেটাই ফাইনাল রিপোর্টে উল্লেখ করেছি।
তবে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সুমনকে মামলা সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চাইলেও তিনি দিতে পারেননি। ফাতেমাকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর কবরস্থানে দাফনের কথা এজাহারে লেখেন তিনি।
তবে সেখানে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, কবরস্থানটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। যে কেউ চাইলেই সেখানে দাফন করতে পারে না। হত্যা, আত্মহত্যার লাশ সেখানে দাফন করা হয় না। সমাজভুক্ত না হলে সেখানে দাফনের সুযোগ নেই। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত কোনো ব্যক্তির লাশও সেখানে দাফন করা হয়নি বলে কবরস্থান কর্তৃপক্ষ জানায়।
তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে বলেন, ফাতেমাকে হাসপাতালে ভর্তির কোনো কাগজপত্র সরবরাহ করেননি সুমন। তার সঙ্গে বারবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেয়নি। সুমনের দেওয়া ঠিকানায় গিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনে ২৩ জন নিহত হলেও কোনো নারী নিহতের তথ্য নেই। সুমন ফাতেমার মৃত্যুসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো সনদও সরবরাহ করতে পারেননি।
বাদী সুমনকে মামলা সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বীকার করেন, তিনি ফাতেমাকে চেনেন না। ওই নামে কেউ নিহত হয়েছে বলেও তিনি জানেন না। কিছু ব্যক্তির প্ররোচনায় ও আর্থিক প্রলোভনে তিনি মামলা করেন। তবে নিজেও জানতেন না কার বিরুদ্ধে কী মামলা করছেন।
প্রলোভনে পড়ে মামলার বিষয়টি বুঝতে পারলে সুমন সেইসব ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে তারা সুমনকে বলেন, এখন পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এরপর সুমন ভীত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। মামলার বিষয়ে আগ্রহ হারান। পরে যোগাযোগ চেষ্টা করেও পুলিশ সুমনকে পায়নি।
মিথ্যা মামলার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসায় আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। সেইসঙ্গে মামলার বাদী সুমনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদনও করেছেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী সুমনের বক্তব্যের জন্য তার মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক বিল্লালের আইনজীবী মোস্তফা আল মামুন বলেন, এমন মামলা ভুরি ভুরি হচ্ছে। যে সরকার ক্ষমতায় আসে, বিরোধীদের সঙ্গে এমনটা করে। আমরা এমনটা চাই না। অযথা আর কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। এমন মামলার উদ্ভব যেন আর না হয়, সেই প্রত্যাশা থাকবে।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















