ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি নিম্নাঞ্চলের বানভাসীদের

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০২:০৭:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • / ১০২৯ বার পড়া হয়েছে

তিস্তার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি নিম্নাঞ্চলের বানভাসীদের

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে তা কমতে শুরু করেছে। পানি কমলেও বন্যা এলাকার তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে লোকজন তাদের গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি রাস্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ওপর।

শুকনো খাবার মিললেও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটের কথা জানিয়েছেন তারা। চরে এখনও বানের পানি ফসলি জমি তলিয়ে রেখেছে বলে জানান ওই চরের কৃষক গফুর মিয়া (৬৫)। প্রতি বছরেই ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর ভারি বর্ষণের ফলে তিস্তা নদীতে বন্যার সৃষ্টি হয় এবং দেখা দেয় তীব্র নদী ভাঙন।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোড তিস্তা ব্যারেজ কন্ট্রোল রুম ইনচাজ নুরুল ইসলাম বলেন, উজানের ঢল কম থাকায় মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি কমতে শুরু করলেও নদী পাড়ের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের অনেক পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানির নিচে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “উজানের পানির প্রবাহ কমে আসায় তিস্তার পানিও ধীরে ধীরে কমছে। ধীরে ধীরে নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দিরাও মুক্তি পাচ্ছে।

এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। রাতভর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে নদীর তীড়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয় এবং টানা বৃষ্টির কারণে চরাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

সোমবার সকাল ৬টায় তা বিপৎসীমার সমানে নেমে আসে এবং সকাল ৯টায় আরও কমে গিয়ে বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে। মঙ্গলবার সকাল ছয়টায়‌ পানি আরো কমে গিয়ে বিপদ সীমার 30 সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।এতে বন্যা পরিস্থিতি আরও উন্নতি হয়েছে।।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। তালিকা পেলে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুণীল কুমার বলেন, সম্প্রতি দুই দফায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে মঙ্গলবার তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ২শ ২০ মেট্রিক টন চাল নগদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

তিস্তার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি নিম্নাঞ্চলের বানভাসীদের

আপডেট সময় : ০২:০৭:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

তিস্তার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি নিম্নাঞ্চলের বানভাসীদের

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে তা কমতে শুরু করেছে। পানি কমলেও বন্যা এলাকার তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে লোকজন তাদের গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি রাস্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ওপর।

শুকনো খাবার মিললেও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটের কথা জানিয়েছেন তারা। চরে এখনও বানের পানি ফসলি জমি তলিয়ে রেখেছে বলে জানান ওই চরের কৃষক গফুর মিয়া (৬৫)। প্রতি বছরেই ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর ভারি বর্ষণের ফলে তিস্তা নদীতে বন্যার সৃষ্টি হয় এবং দেখা দেয় তীব্র নদী ভাঙন।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোড তিস্তা ব্যারেজ কন্ট্রোল রুম ইনচাজ নুরুল ইসলাম বলেন, উজানের ঢল কম থাকায় মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি কমতে শুরু করলেও নদী পাড়ের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের অনেক পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানির নিচে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “উজানের পানির প্রবাহ কমে আসায় তিস্তার পানিও ধীরে ধীরে কমছে। ধীরে ধীরে নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দিরাও মুক্তি পাচ্ছে।

এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। রাতভর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে নদীর তীড়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয় এবং টানা বৃষ্টির কারণে চরাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

সোমবার সকাল ৬টায় তা বিপৎসীমার সমানে নেমে আসে এবং সকাল ৯টায় আরও কমে গিয়ে বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে। মঙ্গলবার সকাল ছয়টায়‌ পানি আরো কমে গিয়ে বিপদ সীমার 30 সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।এতে বন্যা পরিস্থিতি আরও উন্নতি হয়েছে।।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। তালিকা পেলে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুণীল কুমার বলেন, সম্প্রতি দুই দফায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে মঙ্গলবার তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ২শ ২০ মেট্রিক টন চাল নগদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ