জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, আটক ৩
- আপডেট সময় : ০১:২০:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১০০০ বার পড়া হয়েছে
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, আটক ৩
আস্থা ডেস্কঃ
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে গভীর রাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক এ তথ্য জানান।
নাজমুল হক বলেন, ওখানে নিউ প্রপার্টি আছে, প্রপার্টি ওইখানে দুইটা পক্ষ আছে। ওইখানে আরেকজনের একটা জমিজমা আছে। এক পক্ষ যাইতে পারছে না। যে পক্ষ তার জমিতে যেতে পারছে না তারা লোকজন নিয়ে আসছে। আর এই দুই পক্ষে ঝামেলার মধ্যে পড়ে গেছে সালমান মুক্তাদিরের এই স্টুডিও। উনারা ওই লোকজন নিয়ে আসছে এসে ভাঙচুর করছে।
হামলার ঘটনায় কেউ আটক আছে কি না জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে অপারেশন করে এখন পর্যন্ত তিনজনকে পাইছি। দেশি অস্ত্রসহ তাদের আটক করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার দিকে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ভিডিওতে ভুক্তভোগী সালমান মুক্তাদির জানান, ক্লায়েন্টদের অনেক ফুটেজ ও শুটিংয়ের উপকরণ স্টুডিওতে ছিল। সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে সালমান বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ তার দাবি, সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও দেশে খুব বেশি নেই। তার স্টুডিওটা নষ্ট হয়ে সামগ্রিক ক্ষতি হলো।
হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান বলেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?’
তবে সালমানের এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কোনো নেতাকর্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার পরও কাজ বন্ধ করবেন না বলে জানিয়েছেন সালমান। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।’
সালমান জানান, স্টুডিওটি তার জন্য শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছিল না; এর সঙ্গে অনেক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কাজ জড়িয়ে ছিল। তাই হামলায় স্টুডিওটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি থেমে যেতে চান না।
তার ভাষায়, ‘আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’
হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং হামলাকারীদের পরিচয়ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
আস্থা/এমএইচ
জাসদ কার্যালয় থেকে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি জানাল বাসদ
আস্থা ডেস্কঃ
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের মুক্তি দাবি করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এ দাবি জানান।
রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কার্যালয়ে দলীয় প্রতিনিধি সভা চলাকালে নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের এ ঘটনাকে মব সন্ত্রাস বলে আখ্যায়িত করে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি চান তিনি।
বিবৃতিতে ফিরোজ বলেন, মিছিল, মিটিং, সমাবেশ করা নাগরিকের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মূল কথা হলো সহনশীলতা ও পরমত সহিষ্ণুতা। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর এখন দেশে একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারী সরকার নানা ট্যাগ দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশ পণ্ড করতো এবং গ্রেফতার করতো। কিন্তু বর্তমান সরকারের কাছে একই ধরনের আচরণ জনগণ প্রত্যাশা করে না।
তিনি বলেন, পূর্বনির্ধারিত প্রতিনিধি সভায় প্রথমে মব সন্ত্রাস, পরে পুলিশ এসে জাসদের নেতাকর্মীসহ উপস্থিত লোকজনকে আটক করে নিয়ে যায় বলে জাসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তারা আরও বলেছে, সেখানে কোনও গোপন বৈঠক হচ্ছিল না; বরং তারা পুলিশের অনুমতি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থার আবেদন করেই তাদের প্রতিনিধি সভা করছিল।বিবৃতিতে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাসদ কোনও নিষিদ্ধ সংগঠন না। ওই দলের কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা থাকলে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু মব সন্ত্রাস ও হামলা চালিয়ে কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া গণতন্ত্রের পরিপন্থি।
তিনি জাসদ অফিসে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।
অপর এক বিবৃতিতে মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা-ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
এতে বাসদের এই নেতা বলেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুখোশ পরা অন্তত দুই শতাধিক ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি টিকা, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি মিরপুরে টিকা সেন্টারে হামলা ও লুটের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে আটক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশি হস্তক্ষেপ আইন করে নিষিদ্ধের দাবি জানান।
আস্থা/এমএইচ



















