ঢাকা ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo কুমিল্লায় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় আটক-১৯ Logo কর কমিয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির ছায়া বাজেট দিল জামায়াত Logo নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo জামায়াত আমিরের সঙ্গে বৈঠক করে আনন্দিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত Logo আবারও ইসলামী ব্যাংকে দখলকারী চক্রের দৃষ্টি পড়েছে : বিরোধীদলীয় নেতা Logo প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ : অধ্যাপক ডোনার Logo পুশ ইনের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেবে জামায়াত জোট Logo পুলিশ হত্যা করেছি–ঘোষণা দেওয়া সেই মাহাদী এবার আশ্রয় নিলেন থানায় Logo সন্ত্রাসীদের হামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ কর্মী রবিন নিহত Logo একনেকে অনুমোদন পায়নি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প

হোসেনপুরে বখাটে জনি গ্রেফতার,বিচার দাবি এলাকাবাসীর

Doinik Astha
Doinik Astha
  • আপডেট সময় : ০১:২১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • / ১১৪৮ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জনি নামে এক বখাটে স্কুল ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলার হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আন্তঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় জনিকে আটক করে হোসেনপুর থানা পুলিশ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গোবিন্দপুর গ্রামের আজহারুল ইসলাম স্বপন মিয়ার ছেলে জনি মিয়া ও তার বখাটে বন্ধুবান্ধব এলাকার বহু পরিবারের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। তাদের অত্যাচারে বেশ কয়েক বাড়ির লোকজন এলাকা ছাড়া হয়েছে। জনি বিভিন্ন এলাকা থেকে তার বখাটে বন্ধুবান্ধব নিয়ে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে দলবদ্ধভাবে অবস্থান নেয় এবং পথে-ঘাটে ছাত্রীদের উত্ত্যক্তসহ আপত্তিকর মন্তব্য করে। শিক্ষার্থীরা লজ্জায় এর প্রতিবাদ করতে পারে না।নিরাপত্তার কথা ভেবে ছাত্রী ও সংশ্লিষ্ট অভিভাবকরা এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করতে সাহস পায়নি। এ ছাড়াও সে মাদক কারবারে সাথে জড়িত বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে।

গতকাল পার্শ্ববর্তী গণ্যমানপুরুরা গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের ছেলে বাবু মিয়াকে মারধর করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নান্দাইল উপজেলার দক্ষিণ জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের কাজল মিয়ার ছেলে মো.আরাফাতকে আটক করে পুলিশ। পরে আরাফাত তার মাথার লম্বা-লম্বা চুল কেটে ভালোভাবে লেখাপড়া করবে এ শর্তে মোচলেখা দিলে পিতার জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ। স্থানীয়রা মনে করছেন মধ্য গোবিন্দপুর গ্রামের বখটে জনি মিয়ার যোগসাজে গোবিন্দপুর এলাকায় এসেছিল বখাটে আরাফাত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান স্থানীয় বখটে জনি মিয়া স্কুলের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে একটি ছেলেকে মারধর করে। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি ও গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিট পুলিশিং এর সভাপতি আব্দুল মোতালিব বলেন, স্কুলের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে জনির নেতৃত্বে বখাটে ছেলেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং একটি ছেলেকে মারধর করার বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। তিনি জনির মত বখাটেদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফাজুর রহমান খান বলেন, স্বপন মিয়ার ছেলে জনি মিয়া অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির বখাটে ছেলে, সে শিক্ষকের গলায় ধারালো অস্ত্র ধরতেও কোন্ঠা বোধ করেন না। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তিনি।

গোবিন্দপুর ইউপির (মধ্য গোবিন্দপুর) ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য সিদ্দিক জানান, স্কুলের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে আমার দোকানের সামনেই জনি মিয়া একটি ছেলেকে মারধর করেছে। এতে করে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও করতে পারত। তিনি আরো জানান জনি ছেলেটি বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করেন।

গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট সাইদুর রহমান জানান, এ ধরনের বখাটে ছেলেদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে হোসেনপুর থানার এসআই সুশান্ত চন্দ্র সরকার বলেন, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিট পুলিশিং সভাপতি আব্দুল মোতালিব ফোন করে জানান স্কুলের অনুষ্ঠানে বখাটে ছেলেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং স্থানীয় আজারুল ইসলাম স্বপন মিয়ার ছেলে জনি মিয়া একটি ছেলেকে মারধর করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে হোসেনপুর থানা থেকে গোবিন্দপুর স্কুলে আসার পথে মসজিদ সংলগ্ন, গ্রাম পুলিশের বাড়ির পাশে মোটরসাইকেল আরোহী তিন বখাটে ছেলেদের সন্দেহ হলে তাদের আটকের চেষ্টা করি দুজন পালিয়ে যায় মোটরসাইকেল সহ আরাফাতকে আটক করতে সক্ষম হই।

নিজেকে ভালো ছাত্র হিসেবে গড়ে তুলবে ও লম্বা লম্বা চুল কেটে ফেলবে এই শর্তে ঘটনাস্থলে আসা তার পিতার জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জনি সহ বখাটেরা পালিয়ে যায়। তিনি আরোও জানান গোবিন্দপুর এলাকার বখাটে জনির মত ছেলেদের কারণে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ও যুবসমাজ বিপদগামী হচ্ছে।

হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান টিটু জানান এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রায়হান জামান/কিশোরগঞ্জ

হোসেনপুরে বখাটে জনি গ্রেফতার,বিচার দাবি এলাকাবাসীর

আপডেট সময় : ০১:২১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জনি নামে এক বখাটে স্কুল ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলার হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আন্তঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় জনিকে আটক করে হোসেনপুর থানা পুলিশ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গোবিন্দপুর গ্রামের আজহারুল ইসলাম স্বপন মিয়ার ছেলে জনি মিয়া ও তার বখাটে বন্ধুবান্ধব এলাকার বহু পরিবারের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। তাদের অত্যাচারে বেশ কয়েক বাড়ির লোকজন এলাকা ছাড়া হয়েছে। জনি বিভিন্ন এলাকা থেকে তার বখাটে বন্ধুবান্ধব নিয়ে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে দলবদ্ধভাবে অবস্থান নেয় এবং পথে-ঘাটে ছাত্রীদের উত্ত্যক্তসহ আপত্তিকর মন্তব্য করে। শিক্ষার্থীরা লজ্জায় এর প্রতিবাদ করতে পারে না।নিরাপত্তার কথা ভেবে ছাত্রী ও সংশ্লিষ্ট অভিভাবকরা এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করতে সাহস পায়নি। এ ছাড়াও সে মাদক কারবারে সাথে জড়িত বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে।

গতকাল পার্শ্ববর্তী গণ্যমানপুরুরা গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের ছেলে বাবু মিয়াকে মারধর করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নান্দাইল উপজেলার দক্ষিণ জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের কাজল মিয়ার ছেলে মো.আরাফাতকে আটক করে পুলিশ। পরে আরাফাত তার মাথার লম্বা-লম্বা চুল কেটে ভালোভাবে লেখাপড়া করবে এ শর্তে মোচলেখা দিলে পিতার জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ। স্থানীয়রা মনে করছেন মধ্য গোবিন্দপুর গ্রামের বখটে জনি মিয়ার যোগসাজে গোবিন্দপুর এলাকায় এসেছিল বখাটে আরাফাত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান স্থানীয় বখটে জনি মিয়া স্কুলের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে একটি ছেলেকে মারধর করে। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি ও গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিট পুলিশিং এর সভাপতি আব্দুল মোতালিব বলেন, স্কুলের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে জনির নেতৃত্বে বখাটে ছেলেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং একটি ছেলেকে মারধর করার বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। তিনি জনির মত বখাটেদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফাজুর রহমান খান বলেন, স্বপন মিয়ার ছেলে জনি মিয়া অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির বখাটে ছেলে, সে শিক্ষকের গলায় ধারালো অস্ত্র ধরতেও কোন্ঠা বোধ করেন না। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তিনি।

গোবিন্দপুর ইউপির (মধ্য গোবিন্দপুর) ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য সিদ্দিক জানান, স্কুলের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে আমার দোকানের সামনেই জনি মিয়া একটি ছেলেকে মারধর করেছে। এতে করে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও করতে পারত। তিনি আরো জানান জনি ছেলেটি বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করেন।

গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট সাইদুর রহমান জানান, এ ধরনের বখাটে ছেলেদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে হোসেনপুর থানার এসআই সুশান্ত চন্দ্র সরকার বলেন, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিট পুলিশিং সভাপতি আব্দুল মোতালিব ফোন করে জানান স্কুলের অনুষ্ঠানে বখাটে ছেলেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং স্থানীয় আজারুল ইসলাম স্বপন মিয়ার ছেলে জনি মিয়া একটি ছেলেকে মারধর করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে হোসেনপুর থানা থেকে গোবিন্দপুর স্কুলে আসার পথে মসজিদ সংলগ্ন, গ্রাম পুলিশের বাড়ির পাশে মোটরসাইকেল আরোহী তিন বখাটে ছেলেদের সন্দেহ হলে তাদের আটকের চেষ্টা করি দুজন পালিয়ে যায় মোটরসাইকেল সহ আরাফাতকে আটক করতে সক্ষম হই।

নিজেকে ভালো ছাত্র হিসেবে গড়ে তুলবে ও লম্বা লম্বা চুল কেটে ফেলবে এই শর্তে ঘটনাস্থলে আসা তার পিতার জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জনি সহ বখাটেরা পালিয়ে যায়। তিনি আরোও জানান গোবিন্দপুর এলাকার বখাটে জনির মত ছেলেদের কারণে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ও যুবসমাজ বিপদগামী হচ্ছে।

হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান টিটু জানান এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রায়হান জামান/কিশোরগঞ্জ