ইউনুচের দেশ বিরোধী চুক্তিতে ধ্বংস হবে দেশের অর্থনীতি (শেষ পর্ব)
- আপডেট সময় : ০২:০১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০১০ বার পড়া হয়েছে
ইউনুচের দেশ বিরোধী চুক্তিতে ধ্বংস হবে দেশের অর্থনীতি
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি।
সময়কাল: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ স্বাক্ষরিত।
প্রধান শর্ত: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ওপর শুল্ক ১% কমিয়ে ১৯% করেছে, কিন্তু এর বদলে ৬,৭১০টি মার্কিন পণ্যে বাংলাদেশ শুল্ক ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে।
ঝুঁকি: বাংলাদেশের নিরাপত্তা, জ্বালানি, এবং ডিজিটাল বাণিজ্যে সার্বভৌমত্ব হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া, অন্য কোনো দেশের সাথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হলে Washington চুক্তিটি বাতিল করতে পারবে।
সমালোচনা: অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ এবং সিপিডি (CPD) একে “দেশবিরোধী” এবং “হাত-পা বাঁধা” চুক্তি বলে উল্লেখ করেছেন।
ছবি/ভিডিও: এই চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের ছবি এবং বিস্তারিত কন্টেন্ট নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক এবং ফেসবুক ভিডিও (যেমন- DBC News, Kaler Kantho, Notun Somoy) এ ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈষম্যমূলক বাণিজ্য চুক্তি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আমেরিকা থেকে ১৪ টা বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে হবে, ফ্রান্সের কাছ থেকে যে এয়ার বাস কেনার কথা ছিল সেটা কেনা যাবে না।
১৫ বছরে ১৫শ কোটি ডলারের তেল কিনতে হবে। প্রতি বছর ৩৫০ কোটি ডলারের পন্য কিনতে হবে। (১৫ শ কোটি ডলার!! বাংলা টাকায় কত হাজার কোটি হয় মিলিয়ে নেন)
সামরিক সরঞ্জামাদি কেনার পরিমান বাড়াতে হবে, অন্য কোথাও থেকে কেনার রেস্ট্রিকশন আছে। বিশেষ করে চীন থেকে তুলনামূলক কম মূল্যে যা কেনা হয় তা কেনা যাবে না।
আমেরিকান কোন পন্যে কোটা আরোপ করা যাবে না। মানে শুল্ক অতি অল্প। কিন্তু কিনতে গেলে বেশি শুল্ক দিতে হবে।
তাদের পন্য কিনতে যতসব বাধা আছে তা থাকা যাবেনা। তাদের পন্যের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবেনা। কোয়ালিটি যা ই হোক না কেন। এবং অন্য কোথাও থেকে কিনতে হলে আমেরিকার পারমিশন নিতে হবে।
আমাদের দেশি পন্যের মান বাড়ে কিংবা দাম কমে এমন কিছু করা যাবে না, দেশি পন্য উন্নয়নে ভর্তুকি দেয়া যাবে না, যেন আমরা উন্নত এমন কিছু তৈরি করতে না পারি যাতে তাদের পন্য পিছিয়ে যায়।
আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা যেখানে যা আছে সব মেনে চলতে হবে।
আমেরিকা তার নিরাপত্তার জন্য যেভাবে যেমন ব্যবস্থা নেয় আমাদের ও তেমন তাল মিলিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের সব কোথায় কি করছে ফলো করে আমাদের ও তেমন ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাতে তারা খুব সহজেই আমাদের সব কিছু বুঝতে পারে।
অথচ, এই সব আমাদের বাংলাদেশের প্রয়োজন ই নেই। এত সামরিক পন্য, উড়োজাহাজ, এত মূল্যের তেল এক কথায় ১৫ বছরের গোলাম বানিয়ে রাখা। সেই সাথে দেশী পন্যের ধ্বংস। (শেষ)।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ
















