ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (২)
- আপডেট সময় : ০১:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০৩১ বার পড়া হয়েছে
ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (২)
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
অনুচ্ছেদ ২.১০: পরিবেশ:-
বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষা গ্রহণ ও বজায় রাখবে, তার পরিবেশ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করবে, প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তিশালী পরিবেশগত শাসনকাঠামো বজায় রাখবে বা প্রতিষ্ঠা করবে এবং পরিবেশ-সম্পর্কিত এমন বিষয়সমূহ সমাধান করবে, যা অসমপর্যায়ের বাণিজ্যে অবদান রাখে।
অনুচ্ছেদ ২.১১: সীমান্তব্যবস্থা এবং কর
১. যদি যুক্তরাষ্ট্র আইনের ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে সুবিধা অর্জনের চেষ্টা মোকাবিলার জন্য এমন কোনো সীমান্তব্যবস্থা নেয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক ও ব্যবসার জন্য অসুবিধাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, তাহলে বাংলাদেশ বিষয়টি সমাধানের জন্য তার সীমান্তব্যবস্থাগুলোকে সমন্বয় ও সামঞ্জস্যমূলক করার চেষ্টা করবে।
২. করব্যবস্থার পার্থক্য অসম বাণিজ্যে অবদান রাখতে পারে—এটি স্বীকার করে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত এমন কোনো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আপত্তি করবে না, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ কর ফেরত দেওয়া বা আরোপ না করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়; এর মধ্যে পরিপূরক ব্যবস্থা গ্রহণ বা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) আপত্তি অন্তর্ভুক্ত।
৩. বাংলাদেশ আইনগতভাবে বা বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক মূল্য সংযোজন কর আরোপ করবে না।
৪. বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে এমন প্রযুক্তিগত সমাধান বাস্তবায়ন ও বজায় রাখবে, যা তার সীমান্ত অতিক্রমকারী যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য সম্পূর্ণ আগমনের পূর্বপ্রক্রিয়া, কাগজবিহীন বাণিজ্য ও ডিজিটালাইজড প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে।
তৃতীয় ভাগ: ডিজিটাল বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি
অনুচ্ছেদ ৩.১: ডিজিটাল সেবা কর
বাংলাদেশ আইনগতভাবে বা বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ডিজিটাল সেবা কর বা অনুরূপ কর আরোপ করবে না।
অনুচ্ছেদ ৩.২: ডিজিটাল বাণিজ্যের সুবিধাকরণ:-
১. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডিজিটাল বাণিজ্যকে সহজতর করবে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিটাল পণ্যের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকা;
ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিশ্বস্তভাবে সীমান্তের ওপারে তথ্যের অবাধ স্থানান্তর নিশ্চিত করা এবং
সাইবার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করা।
২. যদি বাংলাদেশ এমন কোনো দেশের সঙ্গে নতুন ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তিতে যায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থকে বিপন্ন করে, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে উদ্বেগসমূহ সমাধান করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করতে পারে এবং ২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখের নির্বাহী আদেশ ১৪২৫৭-এ নির্ধারিত প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কহার পুনরায় আরোপ করতে পারবে।
অনুচ্ছেদ ৩.৩: ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর শুল্ক
বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর, যার মধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে প্রেরিত বিষয়বস্তুও অন্তর্ভুক্ত, কোনো শুল্ক আরোপ করবে না এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর শুল্কের স্থায়ী স্থগিতাদেশের বহুপক্ষীয় গ্রহণকে সমর্থন করবে।
অনুচ্ছেদ ৩.৪: বাজারে প্রবেশের শর্তাবলি
১. বাংলাদেশ কোনো শর্ত আরোপ করবে না বা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি কার্যকর করবে না, যা বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিদের অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি, উৎপাদনপ্রক্রিয়া, সোর্স কোড বা অন্যান্য মালিকানাধীন জ্ঞান হস্তান্তর বা অ্যাকসেস প্রদান করতে বাধ্য করে অথবা তার ভূখণ্ডে ব্যবসা করার শর্ত হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ক্রয়, ব্যবহার বা অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন হয়।
২. এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই-
(ক) সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না;
(খ) বাণিজ্যিকভাবে আলোচিত চুক্তিতে সোর্স কোড প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত শর্তাবলির অন্তর্ভুক্তি বা বাস্তবায়নকে বাধা দেবে না; অথবা
(গ) কোনো পক্ষের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা বিচারিক কর্তৃপক্ষকে অন্য পক্ষের কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট তদন্ত, পরিদর্শন, পরীক্ষা, প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা বা বিচারিক কার্যধারার জন্য, অননুমোদিত প্রকাশের বিরুদ্ধে সুরক্ষা সাপেক্ষে, সফটওয়্যারের সোর্স কোড বা সেই সোর্স কোডে প্রকাশিত কোনো অ্যালগরিদম সংরক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তা আরোপ থেকে বিরত রাখবে না। (চলবে)।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ

















