ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (৬)
- আপডেট সময় : ০১:৪০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০১৫ বার পড়া হয়েছে
ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (৬)
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
অনুচ্ছেদ ১.২: মোটরযান এবং যন্ত্রাংশ
১. বাংলাদেশ এমন যানবাহন এবং যানবাহনের যন্ত্রাংশ গ্রহণ করবে, যা ইউএস ফেডারেল মোটর ভেহিকেল সেফটি স্ট্যান্ডার্ডস (এফএমভিএসএস) এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্গমন মানদণ্ডের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ও যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হয়, এবং বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের যানবাহনের অতিরিক্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই অটোমোটিভ পণ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি পদ্ধতি গ্রহণ করবে।
২. বাংলাদেশ এমন অন্যান্য মান বা প্রয়োজনীয়তাগুলো সমাধান করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের যানবাহন এবং যন্ত্রাংশের বিরুদ্ধে বৈষম্য সৃষ্টি করে।
অনুচ্ছেদ ১.৩: পুনঃউৎপাদিত পণ্য
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পুনঃউৎপাদিত পণ্য বা তাদের যন্ত্রাংশের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা এবং যেকোনো লাইসেন্সিং প্রয়োজনীয়তা অপসারণ করবে।
কৃষি
অনুচ্ছেদ ১.৪: যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য এবং কৃষি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রদত্ত সনদপত্র গ্রহণ
১. বাংলাদেশ স্বীকার করবে যে খাদ্য এবং কৃষিপণ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দ্বারা গৃহীত বা বজায় রাখা স্যানিটারি এবং ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য ব্যবস্থা, যার মধ্যে কারিগরি বিধিমালা এবং মান অন্তর্ভুক্ত, বাংলাদেশে আমদানিকৃত খাদ্য এবং কৃষিপণ্যের ওপর প্রয়োগকৃত বাংলাদেশের ব্যবস্থার শর্ত পূরণ করে।
২. অনুচ্ছেদ ১-এর পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ খাদ্য এবং কৃষিপণ্যের বাংলাদেশে আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শর্তসমূহের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ মার্কিন সরকারি সনদ গ্রহণ করবে। বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে ভবিষ্যতে কোনো দ্বিপক্ষীয় রপ্তানি সনদপত্র বা ইলেকট্রনিক ডেটা উপাদানে কোনো পরিবর্তন আনা হলে, তা যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির ভিত্তিতে করা হবে।
৩. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় সনদপত্রে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন ও তথ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তসমূহ পূরণের জন্য যা প্রয়োজন ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ রাখবে।
৪. বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি পদক্ষেপ (এসপিএস) সংক্রান্ত চুক্তির পরিশিষ্ট খ এবং টেকনিক্যাল ব্যারিয়ার্স টু ট্রেড (টিবিটি) চুক্তির অনুচ্ছেদ ২ ও ৫-এর অধীনে তার প্রতিশ্রুতিগুলো পুনর্ব্যক্ত করবে, যাতে উপযুক্ত ক্ষেত্রে ডব্লিউটিও এসপিএস বা টিবিটি কমিটিতে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাসমূহ অবহিত করা হয় এবং ব্যবস্থা চূড়ান্ত হওয়ার পূর্বে ডব্লিউটিও সদস্যদের থেকে প্রাপ্ত মন্তব্যসমূহ বিবেচনায় নেওয়া হয়।
অনুচ্ছেদ ১.৫: স্থাপনা নিবন্ধন/প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি দুগ্ধজাত পণ্য:-
১. বাংলাদেশ-
(ক) যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধ নিরাপত্তাব্যবস্থাকে বাংলাদেশের দুগ্ধ নিরাপত্তাব্যবস্থার সমপর্যায়ের সুরক্ষা প্রদানকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে;
(খ) যুক্তরাষ্ট্রের গরু, ভেড়া ও ছাগলের দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানি অনুমোদন করবে, যখন তা মার্কিন কৃষি দপ্তরের (ইউএসডিএ) কৃষি বিপণন পরিষেবার (এএমএস) দুগ্ধ স্যানিটারি সনদসহ আসবে; এবং
(গ) বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানির জন্য কোনো স্থাপনা নিবন্ধন প্রয়োজনীয়তা গ্রহণ বা বজায় রাখবে না।
মাংস ও পোলট্রি (অভ্যন্তরীণ অঙ্গসহ), মাংস ও পোলট্রি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও পোলট্রি, সিলুরিফরমিস এবং ডিম পণ্য
২. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের মাংস ও পোলট্রি (অভ্যন্তরীণ অঙ্গসহ), মাংস ও পোলট্রি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও পোলট্রি, সিলুরিফরমিস এবং ডিম পণ্য আমদানির অনুমতির উদ্দেশ্যে মার্কিন কৃষি দপ্তরের (ইএসডিএ) খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিদর্শন পরিষেবা (এফএসআইএস) কর্তৃক তত্ত্বাবধানকে স্বীকৃতি দেবে, যার মধ্যে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
৩. বাংলাদেশ এফএসআইএস মাংস, পোলট্রি ও ডিম পণ্য পরিদর্শন ডিরেক্টরি গ্রহণ করবে, যাতে এফএসআইএস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মাংস, পোলট্রি, সিলুরিফরমিস, এবং ডিম পণ্য উৎপাদনকারী সকল ফেডারেল পরিদর্শিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা থাকবে এবং এটিকে বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য যোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের সরকারি তালিকা হিসেবে গণ্য করবে।
৪. বাংলাদেশ এফএসআইএসের পরিদর্শন করা এবং এফএসআইএস এক্সপোর্ট সার্টিফিকেট অব হোলসামনেস (এফএসআইএস ৯০৬০-৫ সিরিজ সার্টিফিকেট) অথবা ইলেকট্রনিক ডেটা উপাদানসহ বা এর কোনো সংস্করণসহ, যুক্তরাষ্ট্রের মাংস ও পোলট্রি (অভ্যন্তরীণ অঙ্গসহ), মাংস ও পোলট্রি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও পোলট্রি, সিলুরিফরমিস এবং ডিম পণ্য গ্রহণ করবে।
৫. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের মাংস ও পোলট্রি (অভ্যন্তরীণ অঙ্গসহ), মাংস ও পোলট্রি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও পোলট্রি, সিলুরিফরমিস এবং ডিম পণ্যের ওপর কোনো অতিরিক্ত পণ্য নিবন্ধন বা স্থাপনা নিবন্ধন প্রয়োজনীয়তা আরোপ করবে না।
অনুচ্ছেদ ১.৬: কৃষি জৈবপ্রযুক্তি
১. কৃষি জৈবপ্রযুক্তির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে খাদ্য সরবরাহে সহায়তা এবং ইনপুটের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে, বাংলাদেশ কৃষি জৈবপ্রযুক্তির পণ্যের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক ও ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং দক্ষ অনুমোদন প্রক্রিয়া বজায় রাখবে, যাতে এই ধরনের পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধি সহজতর হয়।
২. কৃষি জৈবপ্রযুক্তির পণ্যের নিরাপত্তা মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার কার্যকারিতা স্বীকার করে, এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ২৪ মাসের মধ্যে, বাংলাদেশ একটি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে, যার মাধ্যমে এমন কোনো কৃষি জৈবপ্রযুক্তির পণ্য, যা যুক্তরাষ্ট্রে আইনত বিক্রয়যোগ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সকল প্রাসঙ্গিক প্রাক-বাজার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে, তা বাংলাদেশে একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের দ্বারা কোনো প্রাক-বাজার পর্যালোচনা, নিয়ন্ত্রণ মুক্তকরণ, অতিরিক্ত লেবেলিং প্রয়োজনীয়তা বা অনুমোদন ছাড়াই আমদানি ও বিপণনের জন্য অনুমোদিত হবে।
৩. বাংলাদেশ এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ২৪ মাসের মধ্যে একটি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে, যাতে নিশ্চিত করা হয় যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কৃষিপণ্য রপ্তানিকে প্রভাবিতকারী নিম্ন-স্তরের উপস্থিতি (এলএলপি) সংক্রান্ত যেকোনো ঘটনা মোকাবিলা করবে-
(ক) অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই; এবং
(খ) যুক্তরাষ্ট্র বা কোনো তৃতীয় দেশ কর্তৃক প্রদত্ত প্রাসঙ্গিক ঝুঁকি বা নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং অনুমোদন বিবেচনায় নিয়ে।
অনুচ্ছেদ ১.৭: অজীব পরিবর্তিত পণ্য
বাংলাদেশ স্বীকার করে যে কৃষি জৈবপ্রযুক্তির পণ্য থেকে প্রাপ্ত প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং কৃষিপণ্যসমূহে অজীব পরিবর্তিত পণ্য থাকে না এবং তাই এগুলো বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের আওতাভুক্ত নয়। এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যে, ‘প্রক্রিয়াজাত’-এর সংজ্ঞায় তাপ প্রয়োগ, গুঁড়ো করা বা অন্যান্য প্রক্রিয়াকরণ অন্তর্ভুক্ত, যা কৃষি জৈবপ্রযুক্তির পণ্যের অঙ্কুরোদগমের ক্ষমতা দূর করে।
অনুচ্ছেদ ১.৮: উচ্চমাত্রার সংক্রামক পাখির ইনফ্লুয়েঞ্জা-জীবিত পোলট্রি ও পোলট্রি পণ্য
১. বাংলাদেশ জীবিত পোলট্রি, পোলট্রি জেনেটিকস, পোলট্রি পণ্য, এবং ডিম ও ডিম পণ্যের আমদানির সঙ্গে সম্পর্কিত এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ বা বজায় রাখবে না, যা ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর অ্যানিমেল হেলথ (ডব্লিউওএএইচ) টেরেস্ট্রিয়াল অ্যানিমেল হেলথ কোড চ্যাপ্টার (টিএএইচসি) ১০.৪ (উচ্চমাত্রার সংক্রামক পাখির ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সংক্রমণ) বা এর কোনো পরবর্তী কোনো সংস্করণের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষভাবে, বাংলাদেশ পোলট্রি আমদানিসংক্রান্ত সংজ্ঞা ডব্লিউওএএইচ টিএএইচসি-এর পোলট্রি সংজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্য করবে।
২. এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে, বাংলাদেশ জীবিত পোলট্রি, পোলট্রি জেনেটিকস, পোলট্রি পণ্য, এবং ডিম ও ডিম পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এইচপিএআই আঞ্চলিকীকরণের পরিধি রাজ্য স্তর থেকে ১০ কিলোমিটার অঞ্চলে সীমিত করবে। বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে এইচপিএআই প্রাদুর্ভাবের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জীবিত পোলট্রি, পোলট্রি জেনেটিকস, পোলট্রি পণ্য এবং ডিম ও ডিম পণ্যের ওপর আরোপিত যেকোনো আমদানি নিষেধাজ্ঞা শুধু সেই ১০ কিলোমিটার অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, যেখানে প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত হয়েছে।
৩. বাংলাদেশ মার্কিন কৃষি দপ্তরের (ইউএসডিএ) অ্যানিমেল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ ইন্সপেকশন সার্ভিসকে (এপিএইচআইএস) উপযুক্ত প্রাণী স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে, যা নির্ধারণ করবে কোনো ১০ কিলোমিটার অঞ্চল ডব্লিউওএএইচ টিএএইচসি চ্যাপ্টার ১০.৪ বা এর পরবর্তী কোনো সংস্করণ অনুযায়ী এইচপিএআই-মুক্ত হিসেবে বিবেচিত কি না, এবং সে অনুযায়ী বাংলাদেশে জীবিত পোলট্রি এবং পোলট্রি পণ্য রপ্তানির জন্য যোগ্য কি না, এবং বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য প্রয়োগকৃত সীমাবদ্ধতার বাইরে জীবিত পোলট্রি, পোলট্রি জেনেটিকস, পোলট্রি পণ্য, এবং ডিম ও ডিম পণ্যের ওপর কোনো আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না। (চলবে)।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ
















