গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানার উৎপাদন বন্ধ
- আপডেট সময় : ০১:৫৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০২৮ বার পড়া হয়েছে
গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানার উৎপাদন বন্ধ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
গত ১৫ দিন চাহিদার তুলনায় স্বল্প গ্যাস পেলেও বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে জেলার অধিকাংশ শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ছোট-বড় ১শ ৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
গ্যাস সংকট ভয়াবহ রূপ করায় কারখানার চাকা থেমে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী।
যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মহাব্যবস্থাপক আবুল হোসেন বলেন, তাদের শিল্পপার্কে ৬ টি কারখানা রয়েছে। টায়ার ও পাওয়ার প্ল্যান্ট ছাড়া বাকি ৪ টি প্রতিষ্ঠানই শতভাগ রপ্তানিমুখী। শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার শ্রমিক কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, কারখানাগুলোর দৈনিক অনুমোদিত গ্যাসের চাহিদা ১৩ দশমিক ৬ স্ট্যান্ডার্ড মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ বেশ কিছুদিন ধরে মাত্র ৩ স্ট্যান্ডার্ড মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেয়া হচ্ছিল। এতে উৎপাদন চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বুধবার রাত ১২টা থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
স্টার সিরামিক্সের প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা পল্লব বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে বেশ কিছুদিন ধরে চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। বুধবার দুপুর থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। উৎপাদন বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক আবুল বাশার বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে সাড়ে ১৩ হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী কাজ করেন। বুধবার বিকেল পৌনে ৪টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন ৩৮ হাজার মেট্রিক টন সুতা উৎপাদন হতো। এখন পুরো উৎপাদন বন্ধ। এতে দৈনিক প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ৬শ ডলার ক্ষতি হচ্ছে।
হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের (প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ) মহাব্যবস্থাপক দীপক কুমার দেব বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী রয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সরবরাহ একেবারে শূন্য হয়ে গেছে। ফলে শিল্পপার্কের সব কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হবিগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে ১শ ৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান শতভাগ রপ্তানিমুখী। আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে রপ্তানিমুখী।
জালালাবাদ গ্যাস টি.অ্যান্ড.ডি সিস্টেম লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ রুহুল করিম চৌধুরী বলেন, গ্যাস সংকট জাতীয় সমস্যা। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকেই এ সংকট শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
এদিকে, শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, উৎপাদন, রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক ক্রেতাদের আস্থা-সবকিছুই ঝুঁকিতে পড়ছে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















