দালাই লামা থেকে শেখ হাসিনা
- আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০২৮ বার পড়া হয়েছে
দালাই লামা থেকে শেখ হাসিনা
স্টাফ রিপোর্টারঃ
১৪তম দালাই লামা ১৯৫৯ সাল থেকে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। তাঁর এই দীর্ঘকালীন আশ্রয়ের পেছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।
১৯৫৯ সালের মার্চ মাসে তিব্বতের রাজধানী লাসায় চীনা শাসনের বিরুদ্ধে একটি গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয় ১৪তম দালাই লামা। এরপর নিজের জীবন ও তিব্বতি সংস্কৃতির সুরক্ষায় ২৩ বছর বয়সী দালাই লামা ছদ্মবেশে রাতের অন্ধকারে লাসা ত্যাগ করেন। প্রায় দুই সপ্তাহ হিমালয়ের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ৩১শে মার্চ তিনি ভারতের সীমান্তে পৌঁছান।
তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ৩রা এপ্রিল ১৯৫৯ সালে দালাই লামাকে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ভারতের এই মানবিক সিদ্ধান্তটি তৎকালীন ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা ছিল।
ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর ১৯৬০ সালে তিনি হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি শহর ধর্মশালায় (ম্যাকলিওডগঞ্জ) স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখান থেকেই তিব্বতের স্বায়ত্তশাসনের লড়াইয়ের জন্য ‘সেন্ট্রাল তিব্বতিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা প্রবাসী তিব্বত সরকার গঠন করেন।
দালাই লামার সাথে এবং পরবর্তীতে প্রায় ৮০ হাজার তিব্বতি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নেন। ভারত সরকার তাঁদের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করে দেয়।
মজার বিষয় হলো, ভারতের প্রচলিত আইনে কোনো নির্দিষ্ট শরণার্থী বা রাজনৈতিক আশ্রয় আইন নেই। ফলে দালাই লামা এবং তিব্বতিদের আইনি মর্যাদা মূলত ভারত সরকারের বিশেষ নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রিত হয়। ভারত তাঁকে একজন “সম্মানিত অতিথি” হিসেবে গণ্য করে এবং তিনি একটি বিশেষ ভারতীয় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নথি ব্যবহার করে বিদেশে যাতায়াত করেন।
ভারত সরকার দালাই লামাকে আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে শ্রদ্ধা করলেও, ভারতের মাটিতে থেকে চীনের বিরুদ্ধে কোনো সক্রিয় “রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড” বা উস্কানিমূলক তৎপরতা চালানোর অনুমতি দেয় না। এই আশ্রয় প্রদানের ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আজ পর্যন্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয় এবং এটি ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের অন্যতম প্রধান কারণ।
ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে বাচতে কৌশলী ভূমিকার অংশ হিসাবে
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে দালাই লামা-র একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
কনফেডারেশন অফ এনজিওস এবং জেরোনিনিও আলমেইডা নামের দুই ব্যাক্তি যৌথভাবে ভারতের হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি মামলা দায়ের করে ছিলেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে দালাই লামা-র একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি নাবালক শিশুকে সবার সামনে চুমু খাচ্ছেন এবং তার জিহ্বা স্পর্শ করতে বলছেন।
দায়ের করা এই মামলায় অনুরোধ করা হয়েছিল, যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে আইনি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন। শিশুদের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
(ইন্টারনেট ও সংবাদ মাধ্যম থেকে শিশুটির পরিচয় প্রকাশ পায় এমন তথ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে)।
তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দিল্লি হাইকোর্ট এই আবেদনটি খারিজ করে দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে, ঘটনাটি সবার সামনে ঘটেছিল এবং এর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না।
আদালত আরও উল্লেখ করেন যে, তিব্বতি সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে এটি একটি কৌতুকপূর্ণ আচরণ ছিল এবং দালাই লামা ইতিপূর্বেই এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, ফলে নতুন করে আইনি পদক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নেই।
দালাই লামা থেকে শেখ হাসিনা:-
ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কারণে দেশছাড়া মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত নাম তিব্বতের দালাই লামা।
তিনদিন পর (১০ নভেম্বর ১৯৫০) নেপালের রাজা ত্রিভুবন শাহ ও পরিবারের অন্যরা সদস্যরা, আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ, সাবেক রাজা জহির শাহ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাঃ নাশিদ, মায়ানমারের সামরিক শাসনবিরোধী বহু গণতন্ত্রপন্থী রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলনকারী। সর্বশেষ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে এসে সাময়িক আশ্রয় গ্রহণ করেন।
২০২৪ সালের গণঅভূউত্থানে ক্ষমতার হারানোর পর শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















