বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভাঙন!
- আপডেট সময় : ০১:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০৩৫ বার পড়া হয়েছে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভাঙন!
আস্থা ডেস্কঃ
নেতৃত্ব সংকট ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ।
সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ ও দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ কয়েকজন নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার পরই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, চলমান কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই একাধিক ব্যাক্তি সংগঠন ছেড়ে রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি বৈঠকে কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে সংগঠনের একটি অংশ এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে। তাদের দাবি, এভাবে কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই। তারা এটিকে ‘অগণতান্ত্রিক ও একতরফা সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এছাড়া সংগঠনের ভেতরে আর্থিক অনিয়ম নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের কয়েকজন দাবি করেন, কোটি টাকার বেশি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ ওঠার পরই শীর্ষ কয়েকজন নেতা সংগঠন থেকে সরে গিয়ে রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন, যাতে বিষয়টি আড়াল করা যায়।
সিনথিয়া জাহীন আয়েশা মন্তব্য করেন, আগামীকালের মধ্যেই প্রেস ব্রিফিং করবো। আমরা জেলা ইউনিটগুলোর সঙ্গে কমিউনিকেট করছি। টাকা আত্মসাতের বিস্তারিত প্রেস ব্রিফিং করে বলবো।
অভিযোগ রয়েছে, এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন
গত ১৮ এপ্রিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুঈনুল ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় সংগঠনের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
একই সঙ্গে পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। এই পরিষদে রয়েছেন—আবু সাঈদ লিওন, হামযা মাহবুব, তারিকুল ইসলাম (রেজা), মুঈনুল ইসলাম এবং শাহাদাত হোসেন। আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই উপদেষ্টা পরিষদ সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবে বলেও জানানো হয়।
এই উপদেষ্টা পরিষদের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেওয়ায় সংগঠনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশাকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন তাকে গ্রুপ থেকে বের করে দেন।
কমিটি বাতিল হয়নি জানিয়ে নিজেকে সংগঠনের মুখপাত্র দাবি করে সিনথিয়া জাহীন আয়েশা বলেন, গত বছর আমাদের কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠিত হয়। আমাদের একটা কমিটমেন্ট কিংবা একটা কমিটির নির্দিষ্ট টাইম ছিল। তো সেই কমিটমেন্টের জায়গাটা ব্রেক করে এবং টাইমটাও যেহেতু এখনো সম্পন্ন হয়নি, এখন সভাপতি ও দায়িত্বশীল আরও বেশ কয়েকজন তাদের রাজনৈতিক অভিলাষ কিংবা উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।
আর্থিক অসংলগ্নতার যে বিষয়টা আসছে, সেটা নিয়ে তারা ক্লারিফাই করেনি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা যখনই কথা বলেছি তখনই তারা আমাদের সব ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে রিমুভ করে দিয়েছে। তারা চাচ্ছে আমাদের মুখটা বন্ধ করে রাখতে। কিন্তু আমরা আগামীকালকের মধ্যেই প্রেস ব্রিফিং করবো। আমরা জেলা ইউনিটগুলোর সঙ্গে কমিউনিকেট করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘টাকা আত্মসাতের বিস্তারিত আমরা প্রেস ব্রিফিং করে বলবো। কিন্তু এখানে বড় একটা অ্যামাউন্ট মানে কোটির ওপর একটা অ্যামাউন্ট লুটপাট হয়েছে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য সচিব আতিক শাহরিয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে রক্ত, ঘাম এবং নিঃস্বার্থ ত্যাগ— তা এদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা নিজেদের টাকায় পড়াশোনা করি, কিন্তু দেশের ক্রান্তিলগ্নে সবার আগে রাজপথে বুক পেতে দিতে আমরাই জানি। আজ যখন সেই আন্দোলনের স্পিরিট পাশ কাটিয়ে, কোনো আলোচনা ছাড়াই পকেট কমিটি দিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা চলছে, তখন আপনাদের অনেকের মনেই ক্ষোভ আর হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাশরাফি সরকার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্ল্যাটফর্ম ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় আমরা তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি।
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুঈনুল ইসলাম বলেন, একটা সংগঠনের তো মূলত একটা অর্গানোগ্রাম বা অথরিটি থাকে। সেই অথরিটির ভিত্তিতে চলে এবং গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে চলে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রানিং যে কমিটি ছিল গতকাল পর্যন্ত সেই কমিটির সভাপতি ও মুখ্য সমন্বয়ক তারা দুজনসহ বেশ কয়েকজন এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। সেক্রেটারি আগেই পদত্যাগ করেছেন। এই জায়গা থেকে কমিটি আর ফাংশনাল থাকে না, যেখানে প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারি থাকে না।
সংগঠনটি থেকে সদ্য বিদায় নিয়ে এনসিপিতে যোগ দেওয়া সদ্য সাবেক দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, এটা তো দীর্ঘদিনের আলোচনা। আমরা যে কেউ যে কোনো রাজনৈতিক দলে যাবো এটা স্বাভাবিক। ঘটনা যেটা ঘটেছে, উপদেষ্টা পরিষদ ওনাদের মনমতো হয়নি। এজন্য এসব বলছে। নতুন কোনো কমিটি হলে যেসব হয়, ওরকমই হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, অভিযোগ—এসবই ঘটছে।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















