প্রশ্ন উঠছে হাদী হত্যার বাদীকে নিয়ে
- আপডেট সময় : ০৫:২১:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
- / ১০১৫ বার পড়া হয়েছে
প্রশ্ন উঠছে হাদী হত্যার বাদীকে নিয়ে
স্টাফ রিপোর্টারঃ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলায় বাদী হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানতে চেয়েছেন, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে এবং কার অনুমতিতে সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের মামলার বাদী হয়েছেন, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে মাসুমা হাদি বলেন, ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের মামলার বাদী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে এতদিন তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। পরিবারের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হওয়ায় তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরতে বাধ্য হয়েছেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই হাসপাতালে ছুটে যান এবং পুরো সময় তার পাশে ছিলেন। তার প্রশ্ন, পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা কেন জাবেরের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিলেন। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তাকে বলা হয়েছিল, ওসমান হাদির ভাই ওমর ফারুকের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ করলেও তিনি তখন চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
মাসুমা হাদির দাবি, ফৌজদারি মামলায় বাদীর স্বাক্ষর তাৎক্ষণিকভাবে না হলেও আইনি জটিলতা তৈরি হয় না। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজের উদ্যোগেও ব্যবস্থা নিতে পারে।
ঘটনার সময়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, হামলার সময় একই রিকশায় থাকায় ওমর ফারুকও রক্তাক্ত হয়েছিলেন। তার ভাষ্য, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে আরেকটি গুলি বের হলে ওমরের জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে পারত।
জাবেরের বাদী হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা ওসমান হাদির ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তারা সবাই জানেন ভাইয়ের জীবনে তার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই কীভাবে জাবের মামলার বাদী হলেন, সেই প্রশ্নের জবাব তিনি জানতে চান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওমর ফারুককে নিয়ে সমালোচনারও জবাব দেন মাসুমা হাদি। তিনি বলেন, ওমরের ব্যবহৃত ঘড়ি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী নিয়ে যেসব মন্তব্য করা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই ভিত্তিহীন। কারও সম্পর্কে না জেনে কটূক্তি না করার আহ্বান জানান তিনি।
চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন। তার দাবি, প্রথমদিকে পরিবারের পক্ষ থেকেই বিদেশে চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে বিপুল অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যবস্থা করেছিলেন। পরে সরকার বিষয়টি জানার পর চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয় এবং পরবর্তী ধাপে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়।
পোস্টের শেষাংশে মাসুমা হাদি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, একজন বিপ্লবীকে সম্মান জানাতে গিয়ে তার পরিবারকে ঘিরে মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারও সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য না জেনে অসম্মানজনক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ

















