ভারতে বাংলাদেশি আঞ্চলিক সশস্ত্র কমান্ডার আটক, দুই সহযোগী পলাতক
- আপডেট সময় : ০২:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১০০৭ বার পড়া হয়েছে
ভারতে বাংলাদেশি আঞ্চলিক সশস্ত্র কমান্ডার আটক, দুই সহযোগী পলাতক

স্টাফ রিপোর্টারঃ
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় অভিযান চালিয়ে শ্যামল কান্তি চাকমা ওরফে তরু নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে ত্রিপুরা পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)-এর সঙ্গে যুক্ত এবং সংগঠনটির একজন কথিত সশস্ত্র কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অনলাইন পোর্টাল জাগরণ ত্রিপুরা ডটকম।
সোমবার (৫ অক্টোবর) আগরতলার হেরিটেজ পার্ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে আগরতলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই এলাকায় পিসিজেএসএসের কয়েকজন সদস্য বৈঠকে বসেছিলেন। পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে শ্যামল কান্তি চাকমাকে আটক করা সম্ভব হলেও তার দুই সহযোগী মিটন চাকমা ও জ্যোতিষ্মান চাকমা ওরফে বুলবুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জাগরণ ত্রিপুরা ডটকম প্রতিবেদনের লিখেছে, শ্যামল কান্তি চাকমা এর আগে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ৫০টি অত্যাধুনিক অস্ত্রসহ তিনি পিসিজেএসএসে যোগ দেন।
হিডলিস্ট ত্রিপুরা ন্যাশনাল পেজ থেকেও নাটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলা হয়েছে। শ্যামল কান্তি চাকমার সঙ্গে আগরতলায় আগে আটক হওয়া পিসিজেএসএসের আরেক সশস্ত্র কমান্ডার সমাজ প্রিয় চাকমার যোগাযোগ ছিল বলেও পুলিশের দাবি।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আগরতলার এডি নগর এলাকা থেকে সমাজ প্রিয় চাকমাকে আটক করা হয়েছিল। ওই সময় তার কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, জীবন্ত কার্তুজ, ২ লাখ ২১ হাজার ভারতীয় রুপি, ২৫ হাজার বাংলাদেশি টাকা এবং দুটি স্মার্টফোন উদ্ধারের দাবি করেছিল পুলিশ। বর্তমানে ওই মামলায় আগরতলায় বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
শ্যামল কান্তি চাকমার আটকের ঘটনায় ত্রিপুরায় পিসিজেএসএসের কথিত তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আগরতলার মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ শহর এলাকায় সংগঠনটির সদস্যদের কথিত উপস্থিতি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজরদারির বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে হেরিটেজ পার্কে বৈঠকের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, সেখানে কতজন উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু কী এসব বিষয়ে ত্রিপুরা পুলিশ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
একইভাবে আটকের সময় শ্যামল কান্তি চাকমার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র, গোলাবারুদ বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আটকের ঘটনায় মামলা ও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক মিটন চাকমা ও জ্যোতিষ্মান চাকমা ওরফে বুলবুলকে আটকের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে শ্যামল কান্তি চাকমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে। পুলিশের দাবি ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের পাশাপাশি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে পুরো ঘটনার আরও স্পষ্ট চিত্র সামনে আসতে পারে। অনলাইন পোর্টাল জাগরণ ত্রিপুরা ডটকম।
আস্থা/এমএইচ























