ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কৌশলে বিএনপিকে চাপে রাখতে চায় জামায়াত

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / ১০০২ বার পড়া হয়েছে

যে কৌশলে বিএনপিকে চাপে রাখতে চায় জামায়াত

স্টাফ রিপোর্টারঃ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জ্বালানি, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো ইস্যু সামনে রেখে রাজপথেও চাপ বাড়াতে চায় বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়েত ইসলাম।

দলটির লক্ষ্য সংসদ ও মাঠ থেকেই বিএনপি সরকারকে রাজনৈতিক চাপে রাখা। তাদের কর্মসূচিতে ধর্ষণ, খুন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও আধিপত্য, চাঁদাবাজির মতো বিষয়গুলোও প্রাধান্য পাবে।

সংসদীয় বিতর্ক, নোটিশ কিংবা ওয়াকআউটের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না থেকে সংসদে সরব থাকা, রাজপথে চাপ তৈরি করা এবং ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে নিজেদের বিকল্প অবস্থান তুলে ধরে জাতীয় সংসদে বিরোধী রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে চায় জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াত দলীয় প্রশাসক বাদ দিয়ে দ্রুত নির্বাচন এবং সেই নির্বাচনে এসব প্রশাসককে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার পক্ষে। দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবির পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন জামায়াতের এজেন্ডায় রয়েছে। দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান দলীয় প্রশাসকেরা যাতে এই নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সরকারকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের মতামত হলো, দলের অভ্যন্তরে কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে, সামনে তাদের পরিকল্পনা কী? তাঁরা জানিয়েছেন, সংসদে প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজেদের ভূমিকা, সাফল্য-সীমাবদ্ধতা এবং আগামী রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নিয়মিতই অনানুষ্ঠানিক অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করেন তাঁরা। সেসব পর্যালোচনায় সংসদকে মূল গুরুত্বের জায়গায় রাখার বিষয়টি উঠে আসে। সামনের দিনগুলোতেও সংসদ একই গুরুত্ব পাবে।

সরকারকে চাপে রাখতে ৩০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমাবেশ-মহাসমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে:- ১৬ মে রাজশাহীতে, ১৩ জুন চট্টগ্রামে, ২০ জুন খুলনায়, ২৭ জুন ময়মনসিংহে, ১১ জুলাই রংপুরে, ১৮ জুলাই বরিশালে এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ হবে। এসব সমাবেশে সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় শহর ও জেলাকে সম্পৃক্ত করা হবে। এছাড়াও বিভাগীয় সমাবেশ শেষে আগামী অক্টোবরে রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে।

জামায়াত নেতাদের বক্তব্য হলো, সংসদে সংস্কারের বিষয়ে সমাধান না হলে দাবি আদায়ে মাঠের কর্মসূচি জোরালো করা হবে। সংবিধান ও রাজনৈতিক সংস্কার-সংক্রান্ত আলোচনাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার চিন্তা রয়েছে। তাঁরা মনে করেন, অর্থনৈতিক চাপ ও জনজীবনের সংকট নিয়ে জনগণের উদ্বেগ বাড়ছে। তাই এসব ইস্যুতে তাঁরা ধারাবাহিক অবস্থান নিতে চান।

প্রধান বিরোধী দল হওয়ার পর জামায়াত ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল। সেই মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শেষ করে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এখন শীর্ষ নেতৃত্বের প্রস্তাব অনুযায়ী কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ছায়া মন্ত্রিসভা প্রকাশ্যে আসবে বলে জামায়াত সূত্র জানিয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা স্বীকার করে বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভার বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। আরও সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে। এখন এটি জামায়াত আমিরের এখতিয়ারে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

যে কৌশলে বিএনপিকে চাপে রাখতে চায় জামায়াত

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

যে কৌশলে বিএনপিকে চাপে রাখতে চায় জামায়াত

স্টাফ রিপোর্টারঃ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জ্বালানি, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো ইস্যু সামনে রেখে রাজপথেও চাপ বাড়াতে চায় বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়েত ইসলাম।

দলটির লক্ষ্য সংসদ ও মাঠ থেকেই বিএনপি সরকারকে রাজনৈতিক চাপে রাখা। তাদের কর্মসূচিতে ধর্ষণ, খুন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও আধিপত্য, চাঁদাবাজির মতো বিষয়গুলোও প্রাধান্য পাবে।

সংসদীয় বিতর্ক, নোটিশ কিংবা ওয়াকআউটের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না থেকে সংসদে সরব থাকা, রাজপথে চাপ তৈরি করা এবং ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে নিজেদের বিকল্প অবস্থান তুলে ধরে জাতীয় সংসদে বিরোধী রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে চায় জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াত দলীয় প্রশাসক বাদ দিয়ে দ্রুত নির্বাচন এবং সেই নির্বাচনে এসব প্রশাসককে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার পক্ষে। দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবির পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন জামায়াতের এজেন্ডায় রয়েছে। দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান দলীয় প্রশাসকেরা যাতে এই নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সরকারকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের মতামত হলো, দলের অভ্যন্তরে কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে, সামনে তাদের পরিকল্পনা কী? তাঁরা জানিয়েছেন, সংসদে প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজেদের ভূমিকা, সাফল্য-সীমাবদ্ধতা এবং আগামী রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নিয়মিতই অনানুষ্ঠানিক অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করেন তাঁরা। সেসব পর্যালোচনায় সংসদকে মূল গুরুত্বের জায়গায় রাখার বিষয়টি উঠে আসে। সামনের দিনগুলোতেও সংসদ একই গুরুত্ব পাবে।

সরকারকে চাপে রাখতে ৩০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমাবেশ-মহাসমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে:- ১৬ মে রাজশাহীতে, ১৩ জুন চট্টগ্রামে, ২০ জুন খুলনায়, ২৭ জুন ময়মনসিংহে, ১১ জুলাই রংপুরে, ১৮ জুলাই বরিশালে এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ হবে। এসব সমাবেশে সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় শহর ও জেলাকে সম্পৃক্ত করা হবে। এছাড়াও বিভাগীয় সমাবেশ শেষে আগামী অক্টোবরে রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে।

জামায়াত নেতাদের বক্তব্য হলো, সংসদে সংস্কারের বিষয়ে সমাধান না হলে দাবি আদায়ে মাঠের কর্মসূচি জোরালো করা হবে। সংবিধান ও রাজনৈতিক সংস্কার-সংক্রান্ত আলোচনাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার চিন্তা রয়েছে। তাঁরা মনে করেন, অর্থনৈতিক চাপ ও জনজীবনের সংকট নিয়ে জনগণের উদ্বেগ বাড়ছে। তাই এসব ইস্যুতে তাঁরা ধারাবাহিক অবস্থান নিতে চান।

প্রধান বিরোধী দল হওয়ার পর জামায়াত ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল। সেই মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শেষ করে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এখন শীর্ষ নেতৃত্বের প্রস্তাব অনুযায়ী কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ছায়া মন্ত্রিসভা প্রকাশ্যে আসবে বলে জামায়াত সূত্র জানিয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা স্বীকার করে বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভার বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। আরও সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে। এখন এটি জামায়াত আমিরের এখতিয়ারে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ