সম্প্রতি তুরাগ নদ থেকে তিন ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ১১:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / ১০১৪ বার পড়া হয়েছে
সম্প্রতি তুরাগ নদ থেকে তিন ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
আস্থা ডেস্কঃ
সম্প্রতি তুরাগ নদ থেকে তিন ব্যক্তির লাশ উদ্ধার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু রাজনৈতিক দাবির মধ্যে আমি প্রথম আলো রিপোর্টে পড়লাম। আমার কাছে এটা ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ টাইপ সাংবাদিকতা। প্রথম আলো গুজবের অবসান ঘটাতে পারেনি।
এখন ব্যাখ্যা দিচ্ছিঃ-
পুরো প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করলে আমাদের সমাজ, পুলিশ এবং গণমাধ্যমের মধ্যকার এক ধরণের ‘ক্রাইসিস অব ট্রাস্ট’ বা বিশ্বাসের সংকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদনটি থেকে যে তিনটি মূল দিক উঠে আসে, তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন:
১. নিহতদের রাজনৈতিক পরিচয় ও রহস্যময় নীরবতা:
সুমন আহমেদ চৌধুরী:
ফেইসবুকে তার প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং নিখোঁজ হওয়ার ৬ দিন আগেও দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রার ভিডিও আপলোড করেছিলেন। সুমনের মৃত্যুর পর তার পরিবার অদ্ভুত এক মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা সুমনের ফোন ভেঙে ফেলেছেন, ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন, এমনকি নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিয়েও স্পষ্ট কথা বলছেন না।
আরিফ হাসান রাকিব:-
পরিবারের ভাষ্যমতে, মৃত্যুর আগে তারা জানতেন না আরিফ রাজনীতি করেন। কিন্তু মৃত্যুর পর কিছু ভিডিও ও ছবি দেখে তারা তার আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার কথা জানতে পারেন।
রনি মোল্লা:-
তিনি উত্তরার একটি হোটেলে কাজ করতেন এবং তার বাবার দাবি অনুযায়ী, রনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না।
২. পুলিশের বক্তব্য ও আওয়ামী লীগের প্রচার:-
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আইডি থেকে দাবি করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে হামলার পর ৭ জন নিখোঁজ এবং ৩-৪ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তর ও গাজীপুর মহানগর পুলিশ একে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশের দাবি, কেউ কেউ সাঁতার না জেনে বা গোসল করতে নেমে মারা গেছেন। কিন্তু তুরাগ থানার ওসির একটি বক্তব্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্বীকার করেছেন, “ওই দিন মিছিল হয়েছিল, বেশ কিছু আসামি গ্রেপ্তার হয়েছিল, সবই হয়েছে আশুলিয়া থানা এলাকায়।”
৩. মূলধারার গণমাধ্যমের ভূমিকা ও জনসাধারণের বিভ্রান্তি:-
পাঠক হিসেবে আমাদের ক্ষোভের জায়গাটি এখানেই। গণমাধ্যম যখন বিশাল জনবল নিয়েও কোনো ঘটনার গভীরে না গিয়ে কেবল ‘উভয় পক্ষের বক্তব্য’ ছেপে খালাস পেয়ে যায়, তখন তাকে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ জাতীয় সাংবাদিকতা বলা ভুল হবে না।
পরিবার কেন ভয়ে সুমনের সব স্মৃতি ধ্বংস করে ফেলল?
মিছিল, হামলা, আসামি গ্রেপ্তার এবং একই সময়ে নদীতে লাশ পাওয়ার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না— সেই অনুসন্ধানটা কোথায়?
সব শেষে বলবো, যখন পুলিশ কোনো ঘটনাকে সরাসরি ‘গুজব’ বলে দেয়, তখন সাধারণ মানুষ তা সহজে বিশ্বাস করতে চায় না— কারণ অতীতে বহু ঘটনার সত্যতা ধামাচাপা দেওয়ার নজির আছে। আবার অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ার রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা বা গুজবকেও অন্ধভাবে বিশ্বাস করা যায় না। এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে মানুষ পত্রিকার কাছে সত্যের অনুসন্ধান চায়। কিন্তু পত্রিকা যখন কেবল ‘পুলিশ বলেছে গুজব’ আর ‘পরিবার বলছে জানি না’- এই দুই বয়ানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে, তখন গুজব আরও ডালপালা মেলে।
তদন্তের গভীরতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অভাবেই আজ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হচ্ছে। সত্য উন্মোচিত হোক, তা সে যার পক্ষেই যাক।
𝙊𝙪𝙩𝙨𝙥𝙤𝙠𝙚𝙣 𝘼𝙣𝙞𝙨 𝘼𝙡𝙖𝙢𝙜𝙞𝙧 এর বিশ্লেশণ থেকে।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















