ঢাকা ০১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিচ্ছে শিক্ষক

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১১:২৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / ১০৩২ বার পড়া হয়েছে

আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিচ্ছে শিক্ষক

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

কতৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, সকাল ৯টার মধ্যে স্কুলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের হাজিরা খাতার ছবি অনলাইনে বা হোয়াটসঅ্যাপে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। এভাবে পর্যায়ক্রমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিদিনের তথ্য পৌঁছাবে।

সোমবার থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর করতে গিয়ে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে গাছের ডালে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।

বাঘাইছড়ি উপজেলার পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, অনলাইনে শিক্ষক হাজিরা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তার স্কুলটি পাহাড়ের নিচে প্রায় ৩-৪শ ফুট এলাকায় অবস্থিত। সকালে স্কুলে এসে ছাদ থেকে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানোর চেষ্টা করি, কিন্তু সেখানে বা নেটওয়ার্ক ছিল না। পরে আবার পাহাড়ের চূড়ায় উঠে নেটওয়ার্ক খুঁজেও পাননি। শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছের ডালে উঠে কোনোভাবে নেটওয়ার্ক পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা খাতার ছবি পাঠান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ভারপ্রাপ্ত সঞ্চয়ন চাকমা বলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১শ ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি স্কুলের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। ২৮টি স্কুলের ৮৩ জন শিক্ষকের অনলাইন হাজিরা পাওয়া যায়নি।

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কফিল উদ্দিন বলেন, জেলার ৭শ ৮টি স্কুলের মধ্যে প্রথম দিন অর্থাৎ সোমবার ৫শ ৩৮টি স্কুলের শিক্ষক হাজিরার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ১শ ৭০টি স্কুল মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তাদের হাজিরা পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, আপাতত নির্দেশনা অনুযায়ী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেসব এলাকা নেটওয়ার্কের আওতায় আছে, সেখান থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো এসএমএসে সম্ভব, সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকি এলাকাগুলোর তালিকা ঢাকায় পাঠানো হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিচ্ছে শিক্ষক

আপডেট সময় : ১১:২৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিচ্ছে শিক্ষক

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

কতৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, সকাল ৯টার মধ্যে স্কুলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের হাজিরা খাতার ছবি অনলাইনে বা হোয়াটসঅ্যাপে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। এভাবে পর্যায়ক্রমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিদিনের তথ্য পৌঁছাবে।

সোমবার থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর করতে গিয়ে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে গাছের ডালে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।

বাঘাইছড়ি উপজেলার পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, অনলাইনে শিক্ষক হাজিরা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তার স্কুলটি পাহাড়ের নিচে প্রায় ৩-৪শ ফুট এলাকায় অবস্থিত। সকালে স্কুলে এসে ছাদ থেকে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানোর চেষ্টা করি, কিন্তু সেখানে বা নেটওয়ার্ক ছিল না। পরে আবার পাহাড়ের চূড়ায় উঠে নেটওয়ার্ক খুঁজেও পাননি। শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছের ডালে উঠে কোনোভাবে নেটওয়ার্ক পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা খাতার ছবি পাঠান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ভারপ্রাপ্ত সঞ্চয়ন চাকমা বলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১শ ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি স্কুলের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। ২৮টি স্কুলের ৮৩ জন শিক্ষকের অনলাইন হাজিরা পাওয়া যায়নি।

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কফিল উদ্দিন বলেন, জেলার ৭শ ৮টি স্কুলের মধ্যে প্রথম দিন অর্থাৎ সোমবার ৫শ ৩৮টি স্কুলের শিক্ষক হাজিরার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ১শ ৭০টি স্কুল মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তাদের হাজিরা পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, আপাতত নির্দেশনা অনুযায়ী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেসব এলাকা নেটওয়ার্কের আওতায় আছে, সেখান থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো এসএমএসে সম্ভব, সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকি এলাকাগুলোর তালিকা ঢাকায় পাঠানো হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ