ইরানের ইউরেনিয়াম নেওয়ার রুশ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ১২:৪২:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০৩২ বার পড়া হয়েছে
ইরানের ইউরেনিয়াম নেওয়ার রুশ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
চলমান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান হিসেবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মস্কোর এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে এই তথ্য জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ
পেসকভ জানান, বেশ কিছুদিন আগেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই উদ্যোগকে খুব ভালো একটি সমাধান হিসেবে উল্লেখ করলেও মার্কিন পক্ষ তা শেষ পর্যন্ত নাকচ করে দেয়। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অনুরোধ করলে পুতিন এই বিষয়ে পুনরায় বিবেচনা করতে ইচ্ছুক বলে তিনি জানিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের জন্য ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান দাবি হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নেওয়া। প্রায় ৪৫০ কিলোগ্রাম ওজনের এই মজুত ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ এবং এটি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর নিচে রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরান স্বেচ্ছায় এই মজুত হস্তান্তর করবে, নতুবা যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোনো উপায়ে তা নিজেদের দখলে নেবে।
পেসকভ এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) কখনোই ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো প্রমাণ পায়নি এবং এই অভিযোগকে আগ্রাসনের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
রাশিয়া ইরানকে সামরিক গোয়েন্দা তথ্য বা লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পেসকভ তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া এতে অংশ নিচ্ছে না। এটি আমাদের যুদ্ধ নয়।’ অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, মস্কো বিভিন্ন দিক থেকে ইরানকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে এর মধ্যে মার্কিন বাহিনী সম্পর্কে কোনো গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে কি না, তা তিনি নির্দিষ্ট করেননি।
মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এর আগে জানিয়েছেন, পুতিন ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন যে রাশিয়া ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করছে না।
ভিক্টর অরবানের নির্বাচনী পরাজয়ের পর হাঙ্গেরি সম্পর্কে পেসকভ জানান, অরবান কখনোই রাশিয়ার মিত্র ছিলেন না, তবে তিনি সংলাপ বজায় রাখতে ইচ্ছুক ছিলেন। তার উত্তরসূরি পিটার ম্যাগিয়ার এমনটা করবেন কি না, তা মস্কো এখনও জানে না। লাতিন আমেরিকায় মার্কিন পদক্ষেপের বিষয়ে পেসকভ বলেন, ‘রাশিয়া দেখতে চায় না কোনো দেশ কিউবায় আক্রমণ করুক। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ




















