এনসিপির চাপে ধনকুবের মনজুর আলম
- আপডেট সময় : ০৩:১০:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
- / ১০১৪ বার পড়া হয়েছে
এনসিপির চাপে ধনকুবের মনজুর আলম
স্টাফ রিপোর্টারঃ
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মনজুর আলম জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)তে যোগ দিচ্ছেন দীর্ঘদিন যাবৎ এমন গুঞ্জন থাকলেও অবশেষে তিনি যোগ দিচ্ছেন না।
সম্প্রতি এনসিপির শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে মনজুর আলমের বাসভবনে গিয়ে দেখা করার পর এই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।
সবশেষ বৃহস্পতিবার (৭ মে) এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা চট্টগ্রাম সফরে যান এবং বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এনসিপি নেতাদের চেষ্টা ছিল, ওই অনুষ্ঠানেই মনজুর আলমকে দলে যোগদান করানোর। তবে, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পারিবারিক চাপে শেষ পর্যন্ত তিনি এনসিপিতে যোগ দেননি।
মনজুর আলমের ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং এনসিপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক মাস আগেও
তিনি এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন। আর মানসিকায় দলটির চট্টগ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনুদানও দিয়েছেন। গত রমজানে নগরের একটি কনভেনশন সেন্টারে এনসিপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রকাশ্যে অনুদান দেওয়ার পর তাদের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। ওই অনুষ্ঠানে সরবরাহ করা পানির বোতলে মনজুর আলমের ছবি থাকার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এনসিপির শীর্ষ নেতারা তাকে দলে ভেড়াতে এবং চসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী করতে আগ্রহী। তবে, নানামুখী রাজনৈতিক ও পারিবারিক চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার দলটির চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে একপ্রকার আত্মগোপনে চলে যান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু চসিক নির্বাচনে বিএনপির একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী থাকায় তার মনোনয়ন অনেকটাই অনিশ্চিত ছিল।
অন্যদিকে, এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা তাকে নিয়ে নির্বাচন করাতে আগ্রহী হন। এ নিয়ে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে মনজুর আলমের দফায় দফায় বৈঠক হয় এবং শুরুতে তিনি রাজিও হয়েছিলেন।
পরে তার রাজনৈতিক উপদেষ্টারা তাকে বোঝান যে এনসিপি যেহেতু জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে, সেহেতু চসিকে তিনি এনসিপির হয়ে নির্বাচন করলে সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট পাবেন না। এ কারণে মনজুর আলম ভেতরে ভেতরে এনসিপির সমর্থন নিয়ে প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করার চেষ্টা করছিলেন।
গত ১৪ এপ্রিল এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ উত্তর কাট্টলীতে মনজুর আলমের বাসায় যান। বৈঠক শেষে বাসা থেকে বের হতেই ছাত্রদের তোপের মুখে পড়েন হাসনাত আবদুল্লাহ। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা স্বৈরাচারের দোসরদের সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ তুলে তাকে ঘিরে ধরে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্ধার করে।
এনসিপি নেতারা যেকোনো মূল্যে তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী। তারা চেয়েছিলেন বৃহস্পতিবার মনজুর আলমকে বুঝিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসবেন। কিন্তু এই আশঙ্কায় ঘনিষ্ঠজনদের পরামর্শে বুধবার থেকেই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান মনজুর আলম।
মোহাম্মদ মনজুর আলমের সংঙ্গে কথা বলতে না পারলেও তার ছেলে সরওয়ার উল আলম বলেন, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তার বাবা আপাতত কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন না। তিনি আড়ালে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মোহাম্মদ মনজুর আলম চট্টগ্রামের মোস্তফা হাকিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় আওয়ামী লীগের মাধ্যমে। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন এবং টানা চারবার চসিকের ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তৎকালীন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী আটক হলে তিনি প্রায় দুই বছর ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।
২০১০ সালের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন মনজুর আলম। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্রায় এক লাখ ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও নিয়োগ পান।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















