ঢাকা ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারাবন্দি আসলাম চৌধুরীর মেয়ের ফেসবুকে স্ট্যাটাস

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৯:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ মার্চ ২০২১
  • / ১১৯৮ বার পড়া হয়েছে
“আমি প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জলরাশি দেখিনি, কখনো মাপতে যাইনি এর গভীরতাও, কিন্তু দেখেছি আমার বাবাকে যার হৃদয় এতটাই গভীর যে তার অবুঝ সন্তান এই গভীরতায় যেভাবে ইচ্ছে বিচরণ করতে পারি সামুদ্রিক প্রাণীকুলের মতো”।
হ্যাঁ, আমি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বেশী নিগৃহীত রাজনৈতিক দল বিএনপি নেতা ৫ বছর ধরে মিথ্যা অভিযোগে কারান্তরিত এবং নির্যাতিত মোঃ আসলাম চৌধুরীর একমাত্র সন্তান।
সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে তিনি আজ আমার ছোট ৩ জনের পরিবার এবং বাবার বৃহৎ পরিবার বিএনপি থেকে ৫ বছর ধরেই বিচ্ছিন্ন। অথচ নিজের কেরিয়ারে সম্পূর্ণ সফল। আমার বাবা আর্থিক কারণে নয়; কেবলমাত্র নিজ এলাকা সিতাকুণ্ডের জনসাধারণের কল্যাণার্থে এবং বিএনপির প্রতি ভালবাসার কারণেই রাজনীতিতে আসা তাঁর। বাবা একজন চাটার্ড একাউন্টেন্ট, চাকরি জীবনের শুরুতে বিসিএস কর্মকর্তাও ছিলেন।
ব্যবসায়িক জীবনেও সফল ছিলেন আমার বাবা। পরবর্তীতে তিনি লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্হিতিতে আমার বাবার সমস্ত ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক অর্জন, সেই সাথে আমার পরিবার ধ্বংসপ্রায়। ২০১২ সাল থেকে আমার বাবাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হতে হয়। এরপর ২০১৬ সালে আমার দেশপ্রেমিক বাবাকে সম্পূর্ণ বানোয়াট মামলায় গ্রেফতার করা হয়, যার কোন বিন্দু পরিমাণ সত্যতা নেই। বাবা নিজেও অনবরত কারাবন্দিত্বে শারীরিক এবং মানসিক নাজেহাল হয়ে অসুস্থ প্রায়।
বাবার অনুপস্থিতিতে তাঁর অর্জিত ব্যবসা বাণিজ্যও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এছাড়াও আমার মাকেও হতে হচ্ছে বিভিন্ন ভাবে নাজেহাল।
বাবার অবর্তমানে মা আর আমি শুধু অন্ধকারই দেখছি চারিদিকে। এতকিছুর পরেও আমার সাহসী বাবা পথভ্রষ্ট হননি, অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। যে রাজনীতি সারাজীবনের অর্জিত জীবনকে ধ্বংস করে, পরিবারের সদস্যদের শারীরিক এবং মানসিক ক্ষতির কারণ হয়; কি দরকার সেই রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার? আপানারা যারা আজ মিথ্যা অভিযোগে, অযৌক্তিক কারণে বাবাকে গত ৫ বছর ধরে কারান্তরীন রেখেছেন, যার ফলে প্রতিনিয়ত আমি হচ্ছি বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত, আপনাদেরও কি পরিবার নেই, সেই যন্ত্রণা কি আপনাদের অনুভবে আসে না?
প্রসংগত আমি বাবা মা’র একমাত্র সন্তান। ২০১৬ সালে বাবার গ্রেফতারের পরের দিন আমার ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা ছিলো। কি মানসিক কষ্ট নিয়ে আমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলাম তা শুধু আমি উপলব্ধি করতে পারি।
সেই ২০১২ সাল থেকে বাবা আমাদের কাছ থেকে দূরে। কেউ কি একবারের জন্যও ভেবে দেখেছেন পরিবারের এই ছোট্ট মেয়েটির কথা? আমার দিকে তাকিয়ে মা নীরবে কাঁদে। আমাকে দেওয়ার মতো সান্তনা হয়তো মা’র ঝুলিতে ফুরিয়ে গেছে। আজ যারা নির্যাতনের ছড়ি ঘুরাচ্ছেন, মনে রাখবেন নিঃসন্দেহে সবার উপরে একজন তো আছেনই; তিনি তো উত্তম বিচার কর্তা।
ইনশাআল্লাহ আমি তাঁর উপর পূর্ণ আস্থা রেখে আজ আমার বাবা এবং পরিবারের নির্যাতনের ভার সেই মহানের উপরই অর্পণ করছি। তিনিই অবশ্যই এর বিচার করবেন। সকল নির্যাতনের অবসান হোক। সহসা বাবা মুক্তি পাক। আর কোন মিথ্যা মামলা নয়।
আমি চাই আমাদের তিনজনের ছোট পরিবারটি আবার এক হোক। বাবা তুমি ফিরে এসো, আমি আর মা প্রতিমূহুর্তেই তোমার অপেক্ষায়।
ট্যাগস :

কারাবন্দি আসলাম চৌধুরীর মেয়ের ফেসবুকে স্ট্যাটাস

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ মার্চ ২০২১
“আমি প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জলরাশি দেখিনি, কখনো মাপতে যাইনি এর গভীরতাও, কিন্তু দেখেছি আমার বাবাকে যার হৃদয় এতটাই গভীর যে তার অবুঝ সন্তান এই গভীরতায় যেভাবে ইচ্ছে বিচরণ করতে পারি সামুদ্রিক প্রাণীকুলের মতো”।
হ্যাঁ, আমি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বেশী নিগৃহীত রাজনৈতিক দল বিএনপি নেতা ৫ বছর ধরে মিথ্যা অভিযোগে কারান্তরিত এবং নির্যাতিত মোঃ আসলাম চৌধুরীর একমাত্র সন্তান।
সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে তিনি আজ আমার ছোট ৩ জনের পরিবার এবং বাবার বৃহৎ পরিবার বিএনপি থেকে ৫ বছর ধরেই বিচ্ছিন্ন। অথচ নিজের কেরিয়ারে সম্পূর্ণ সফল। আমার বাবা আর্থিক কারণে নয়; কেবলমাত্র নিজ এলাকা সিতাকুণ্ডের জনসাধারণের কল্যাণার্থে এবং বিএনপির প্রতি ভালবাসার কারণেই রাজনীতিতে আসা তাঁর। বাবা একজন চাটার্ড একাউন্টেন্ট, চাকরি জীবনের শুরুতে বিসিএস কর্মকর্তাও ছিলেন।
ব্যবসায়িক জীবনেও সফল ছিলেন আমার বাবা। পরবর্তীতে তিনি লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্হিতিতে আমার বাবার সমস্ত ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক অর্জন, সেই সাথে আমার পরিবার ধ্বংসপ্রায়। ২০১২ সাল থেকে আমার বাবাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হতে হয়। এরপর ২০১৬ সালে আমার দেশপ্রেমিক বাবাকে সম্পূর্ণ বানোয়াট মামলায় গ্রেফতার করা হয়, যার কোন বিন্দু পরিমাণ সত্যতা নেই। বাবা নিজেও অনবরত কারাবন্দিত্বে শারীরিক এবং মানসিক নাজেহাল হয়ে অসুস্থ প্রায়।
বাবার অনুপস্থিতিতে তাঁর অর্জিত ব্যবসা বাণিজ্যও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এছাড়াও আমার মাকেও হতে হচ্ছে বিভিন্ন ভাবে নাজেহাল।
বাবার অবর্তমানে মা আর আমি শুধু অন্ধকারই দেখছি চারিদিকে। এতকিছুর পরেও আমার সাহসী বাবা পথভ্রষ্ট হননি, অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। যে রাজনীতি সারাজীবনের অর্জিত জীবনকে ধ্বংস করে, পরিবারের সদস্যদের শারীরিক এবং মানসিক ক্ষতির কারণ হয়; কি দরকার সেই রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার? আপানারা যারা আজ মিথ্যা অভিযোগে, অযৌক্তিক কারণে বাবাকে গত ৫ বছর ধরে কারান্তরীন রেখেছেন, যার ফলে প্রতিনিয়ত আমি হচ্ছি বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত, আপনাদেরও কি পরিবার নেই, সেই যন্ত্রণা কি আপনাদের অনুভবে আসে না?
প্রসংগত আমি বাবা মা’র একমাত্র সন্তান। ২০১৬ সালে বাবার গ্রেফতারের পরের দিন আমার ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা ছিলো। কি মানসিক কষ্ট নিয়ে আমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলাম তা শুধু আমি উপলব্ধি করতে পারি।
সেই ২০১২ সাল থেকে বাবা আমাদের কাছ থেকে দূরে। কেউ কি একবারের জন্যও ভেবে দেখেছেন পরিবারের এই ছোট্ট মেয়েটির কথা? আমার দিকে তাকিয়ে মা নীরবে কাঁদে। আমাকে দেওয়ার মতো সান্তনা হয়তো মা’র ঝুলিতে ফুরিয়ে গেছে। আজ যারা নির্যাতনের ছড়ি ঘুরাচ্ছেন, মনে রাখবেন নিঃসন্দেহে সবার উপরে একজন তো আছেনই; তিনি তো উত্তম বিচার কর্তা।
ইনশাআল্লাহ আমি তাঁর উপর পূর্ণ আস্থা রেখে আজ আমার বাবা এবং পরিবারের নির্যাতনের ভার সেই মহানের উপরই অর্পণ করছি। তিনিই অবশ্যই এর বিচার করবেন। সকল নির্যাতনের অবসান হোক। সহসা বাবা মুক্তি পাক। আর কোন মিথ্যা মামলা নয়।
আমি চাই আমাদের তিনজনের ছোট পরিবারটি আবার এক হোক। বাবা তুমি ফিরে এসো, আমি আর মা প্রতিমূহুর্তেই তোমার অপেক্ষায়।