ঢাকা ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস ও কয়লা সংকটে ৪১ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১১:০২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১০২৮ বার পড়া হয়েছে

গ্যাস ও কয়লা সংকটে ৪১ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

সাজ্জাদ রায়হানঃ

জ্বালানি সংকট ও মেরামতের কারণে দেশের ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ আছে। চালু থাকা কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না।

এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর বাইরে শিল্পাঞ্চলগুলোতেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ। কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কোথাও একবার গেলে কয়েক ঘণ্টায়ও আসছে না। তীব্র গরমে মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে।

বিতরণ কোম্পানির সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গড়ে প্রায় গ্রামে তীব্র লোডশেডিং। অতিতের যে কোন রেকর্ড ভাঙল গতকাল। সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিলো ৩ হাজার ৭শ ৫৭ মেগাওয়াট।

মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হয়েছে। গত রোববার বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩হাজার ৬শ ৭১ মেগাওয়াট।

রাত ১টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩হাজার ৭শ ৫৭ মেগাওয়াটে। এর আগে ৩ আগস্ট রাত ১টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল ৩হাজার ৫শ ১২ মেগাওয়াট।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালের ২৭ জুন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল ৩হাজার ৪শ ১৯ মেগাওয়াট।

লোডশেডিংয়ের মূল কারণ গ্যাসের ঘাটতি। চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের কম গ্যাস পাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কয়লা সরবরাহের সংকট। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলোর দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২শ ৫২ কোটি ঘনফুট। লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্তত ১শ থেকে ১শ ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৭০ কোটি ঘনফুট।

জ্বালানি সংকট ও মেরামতের জন্য ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ। চালু থাকা কেন্দ্র গুলোর অধিকাংশই চলছে আংশিক সক্ষমতায়।

একসময় গ্যাস থেকে প্রায় ৫হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। এখন তা নেমে এসেছে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াটে। কিছুদিন আগেও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ও অবকাঠামো থাকলেও জ্বালানির অভাবে তার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী মোঃ শোয়েব জানিয়েছেন, টার্মিনালটির মেরামত শেষ হতে দুই-তিন দিন লাগতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হলে আরও ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, এতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে এটিই সংকটের শেষ নয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ক্রমেই কমছে। একই সঙ্গে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে গ্যাস সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেই এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ খাতে।

কয়লাতেও সংকট বিদ্যুৎ সংকটকে আরও তীব্র করেছে কয়লা সরবরাহের জটিলতা। ১হাজার ২শ মেগাওয়াট সক্ষমতার পটুয়াখালী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কুতুবদিয়ায় বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে কয়লা খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে কয়লা কেন্দ্রে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে।

ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের কেন্দ্র থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে। বাংলাদেশে কেন্দ্রটি প্রায় ১হাজার ৪ম মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও কয়েক দিন ধরে তা নেমে এসেছে ৮শ থেকে ১হাজার মেগাওয়াটে। ঝাড়খণ্ডে বন্যার কারণে কয়লা ভিজে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

দেশে বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা প্রায় ৭হাজার ৯শ ৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৫হাজার মেগাওয়াট।

রক্ষণাবেক্ষণ শেষে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট চালু হওয়ায় উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। তবে রামপাল ও বড়পুকুরিয়ায় উৎপাদন কমেছে। বড়পুকুরিয়ার তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি কারিগরি কারণে বন্ধ রয়েছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

গ্যাস ও কয়লা সংকটে ৪১ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

আপডেট সময় : ১১:০২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাস ও কয়লা সংকটে ৪১ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

সাজ্জাদ রায়হানঃ

জ্বালানি সংকট ও মেরামতের কারণে দেশের ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ আছে। চালু থাকা কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না।

এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর বাইরে শিল্পাঞ্চলগুলোতেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ। কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কোথাও একবার গেলে কয়েক ঘণ্টায়ও আসছে না। তীব্র গরমে মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে।

বিতরণ কোম্পানির সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গড়ে প্রায় গ্রামে তীব্র লোডশেডিং। অতিতের যে কোন রেকর্ড ভাঙল গতকাল। সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিলো ৩ হাজার ৭শ ৫৭ মেগাওয়াট।

মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হয়েছে। গত রোববার বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩হাজার ৬শ ৭১ মেগাওয়াট।

রাত ১টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩হাজার ৭শ ৫৭ মেগাওয়াটে। এর আগে ৩ আগস্ট রাত ১টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল ৩হাজার ৫শ ১২ মেগাওয়াট।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালের ২৭ জুন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল ৩হাজার ৪শ ১৯ মেগাওয়াট।

লোডশেডিংয়ের মূল কারণ গ্যাসের ঘাটতি। চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের কম গ্যাস পাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কয়লা সরবরাহের সংকট। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলোর দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২শ ৫২ কোটি ঘনফুট। লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্তত ১শ থেকে ১শ ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৭০ কোটি ঘনফুট।

জ্বালানি সংকট ও মেরামতের জন্য ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ। চালু থাকা কেন্দ্র গুলোর অধিকাংশই চলছে আংশিক সক্ষমতায়।

একসময় গ্যাস থেকে প্রায় ৫হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। এখন তা নেমে এসেছে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াটে। কিছুদিন আগেও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ও অবকাঠামো থাকলেও জ্বালানির অভাবে তার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী মোঃ শোয়েব জানিয়েছেন, টার্মিনালটির মেরামত শেষ হতে দুই-তিন দিন লাগতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হলে আরও ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, এতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে এটিই সংকটের শেষ নয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ক্রমেই কমছে। একই সঙ্গে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে গ্যাস সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেই এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ খাতে।

কয়লাতেও সংকট বিদ্যুৎ সংকটকে আরও তীব্র করেছে কয়লা সরবরাহের জটিলতা। ১হাজার ২শ মেগাওয়াট সক্ষমতার পটুয়াখালী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কুতুবদিয়ায় বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে কয়লা খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে কয়লা কেন্দ্রে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে।

ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের কেন্দ্র থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে। বাংলাদেশে কেন্দ্রটি প্রায় ১হাজার ৪ম মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও কয়েক দিন ধরে তা নেমে এসেছে ৮শ থেকে ১হাজার মেগাওয়াটে। ঝাড়খণ্ডে বন্যার কারণে কয়লা ভিজে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

দেশে বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা প্রায় ৭হাজার ৯শ ৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৫হাজার মেগাওয়াট।

রক্ষণাবেক্ষণ শেষে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট চালু হওয়ায় উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। তবে রামপাল ও বড়পুকুরিয়ায় উৎপাদন কমেছে। বড়পুকুরিয়ার তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি কারিগরি কারণে বন্ধ রয়েছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ