ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদা না পেয়ে দুই আ. লীগ নেতাকে পুলিশে ধরিয়ে দিলেন যুবদল কর্মী

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১০০২ বার পড়া হয়েছে

চাঁদা না পেয়ে দুই আ. লীগ নেতাকে পুলিশে ধরিয়ে দিলেন যুবদল কর্মী

আস্থা ডেস্কঃ

বগুড়ায় যুবদল কর্মী পরিচয়ে বিরোধী নেতা-কর্মীদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে হারুনার রশিদ হারুন (৪২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দেওয়ায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে পুলিশে ধরিয়ে দেন তিনি। এ ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের ঘোলাগাড়ি গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। হারুন ওই গ্রামের মৃত কামরুজ্জামান ঘটুর ছেলে।

স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাদের দাবি, হারুন কখনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। সম্প্রতি নিজেই একটি অফিস তৈরি করে সেখানে দলীয় নেতাদের ছবি টাঙিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এরুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ বলেন, হারুন কোনও দিনই যুবদল করেনি। দলের নাম ভাঙিয়ে সে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের তালিকা সংগ্রহ করে তাদের ফোন করছেন হারুন। পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে টাকা দাবি করছেন তিনি।

ঘোলাগাড়ি গাজিয়াপাড়া গ্রামের ৭০ বছরের বেশি বয়সী দিনমজুর আবুল কাশেম বলেন, কয়েক দিন আগে হারুন ফোন করে জানায়, আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার নাম আছে। যেকোনও সময় পুলিশ ধরে নিয়ে যেতে পারে। সে আমার কাছে ২ হাজার টাকা চায়।

ঘোলাগাড়ি হেমতাপাড়া গ্রামের পল্লিচিকিৎসক আব্দুর রহিম ফারুক ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক। তার স্ত্রী মনিকা বেগমের অভিযোগ, হারুন তার স্বামীর কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে পুলিশ বাড়িতে এসে তার স্বামীকে গ্রেফতার করে। একই রাতে আরেক পল্লিচিকিৎসক ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ফজলার রহমান মিলুকেও গ্রেফতার করা হয়।

মনিকা বেগমের দাবি, পরদিন সকালে থানায় গেলে মামলা ‘নরমাল’ করার কথা বলে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, ২০২৪ সালের একটি মামলায় তার স্বামী ও ফজলার রহমানকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

টাকা দাবির অভিযোগ স্বীকার করে হারুনার রশিদ হারুন বলেন, পুলিশ আমাকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধরে দিতে বলেছে। তবে তার দাবি, কেউ তাকে টাকা দিয়েছেন, এমন কোনও প্রমাণ নেই।

এরুলিয়া ইউনিয়ন বিট পুলিশের দায়িত্বে থাকা সদর থানার এসআই আবু সালেহ মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের গ্রেফতারের চাপ থাকায় ওই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। তার ভাষ্য, হারুন আওয়ামী লীগের লোকজনকে ফোন করে টাকা দাবি করছেন এমন অডিও রেকর্ডিং তারা পেয়েছেন। এ বিষয়ে হারুনকে সতর্কও করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, ওই দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। তাদের নামে মামলা না থাকলেও অন্য একটি মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। থানায় ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

চাঁদা না পেয়ে দুই আ. লীগ নেতাকে পুলিশে ধরিয়ে দিলেন যুবদল কর্মী

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদা না পেয়ে দুই আ. লীগ নেতাকে পুলিশে ধরিয়ে দিলেন যুবদল কর্মী

আস্থা ডেস্কঃ

বগুড়ায় যুবদল কর্মী পরিচয়ে বিরোধী নেতা-কর্মীদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে হারুনার রশিদ হারুন (৪২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দেওয়ায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে পুলিশে ধরিয়ে দেন তিনি। এ ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের ঘোলাগাড়ি গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। হারুন ওই গ্রামের মৃত কামরুজ্জামান ঘটুর ছেলে।

স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাদের দাবি, হারুন কখনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। সম্প্রতি নিজেই একটি অফিস তৈরি করে সেখানে দলীয় নেতাদের ছবি টাঙিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এরুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ বলেন, হারুন কোনও দিনই যুবদল করেনি। দলের নাম ভাঙিয়ে সে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের তালিকা সংগ্রহ করে তাদের ফোন করছেন হারুন। পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে টাকা দাবি করছেন তিনি।

ঘোলাগাড়ি গাজিয়াপাড়া গ্রামের ৭০ বছরের বেশি বয়সী দিনমজুর আবুল কাশেম বলেন, কয়েক দিন আগে হারুন ফোন করে জানায়, আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার নাম আছে। যেকোনও সময় পুলিশ ধরে নিয়ে যেতে পারে। সে আমার কাছে ২ হাজার টাকা চায়।

ঘোলাগাড়ি হেমতাপাড়া গ্রামের পল্লিচিকিৎসক আব্দুর রহিম ফারুক ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক। তার স্ত্রী মনিকা বেগমের অভিযোগ, হারুন তার স্বামীর কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে পুলিশ বাড়িতে এসে তার স্বামীকে গ্রেফতার করে। একই রাতে আরেক পল্লিচিকিৎসক ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ফজলার রহমান মিলুকেও গ্রেফতার করা হয়।

মনিকা বেগমের দাবি, পরদিন সকালে থানায় গেলে মামলা ‘নরমাল’ করার কথা বলে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, ২০২৪ সালের একটি মামলায় তার স্বামী ও ফজলার রহমানকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

টাকা দাবির অভিযোগ স্বীকার করে হারুনার রশিদ হারুন বলেন, পুলিশ আমাকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধরে দিতে বলেছে। তবে তার দাবি, কেউ তাকে টাকা দিয়েছেন, এমন কোনও প্রমাণ নেই।

এরুলিয়া ইউনিয়ন বিট পুলিশের দায়িত্বে থাকা সদর থানার এসআই আবু সালেহ মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের গ্রেফতারের চাপ থাকায় ওই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। তার ভাষ্য, হারুন আওয়ামী লীগের লোকজনকে ফোন করে টাকা দাবি করছেন এমন অডিও রেকর্ডিং তারা পেয়েছেন। এ বিষয়ে হারুনকে সতর্কও করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, ওই দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। তাদের নামে মামলা না থাকলেও অন্য একটি মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। থানায় ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আস্থা/এমএইচ