ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের ৪ নেতার বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১০০৬ বার পড়া হয়েছে

জামায়াতের ৪ নেতার বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

 

 

 

 

 

জামায়াতের চার নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন। ছবি: আস্থা

কুড়িগ্রামে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে ব্যবসার কথা বলে ১শ ৫০ জামায়াত সদস্যের কাছ থেকে নেওয়া ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দলটির ৪ নেতার বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত ও অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ভুক্তভোগী মজলুম পরিবারের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মোঃ তৈয়ব আলী, নোমান বিল্লাহ, মাহফুজুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, রুহুল আমীন ও মোসলেমা বেগম প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, ২০২০ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট), জামায়াতের রোকন আব্দুস সালাম সুজা (ফুলবাড়ী) এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক বায়তুল মাল সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (ভোগডাঙ্গা) ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

বক্তারা আরও বলেন,
ওই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের কথা বলে কুড়িগ্রামের ১শ ৫০ জন জামায়াত সদস্যের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা নেওয়া হয়। পরে বিনিয়োগের লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত না দিয়ে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তারা কোনো প্রতিকার পাননি।

বক্তাদের অভিযোগ, বিষয়টি জেলা জামায়াতের আমিরকে জানানো হলে অভিযুক্তদের দলীয় সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। তবে আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। পরে সমাধান না হওয়ায় চার নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীরা। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হলেও প্রশাসন তাদের আটকের কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের পাওনা ১২ কোটি টাকা ফেরতের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে সদ্য দলীয় পদ স্থগিত হওয়া জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত ব্যবসা। ২০২০ সালে ভবিষ্যতে ব্যবসা করার জন্য তিনি, রফিকুল ইসলাম, আব্দুস সালাম সুজা ও রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একটি যৌথ চুক্তি হয়েছিল। তবে ওই চুক্তির ভিত্তিতে কোনো ব্যবসা শুরু হয়নি। তাকে ফাঁসাতে ওই চুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি, শাহজালাল সবুজ, আব্দুস সালাম সুজা ও রফিকুল ইসলাম ৪ জন পরিচালক হিসেবে চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসাটি শুরু করেন। চুক্তির বাইরে রুহুল আমীন ও মাওলানা জাহিদুল ইসলাম ব্যবসাটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ৬ পরিচালকই ব্যবসা থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ভিশন এন্টারপ্রাইজের লাভ-ক্ষতির দায় ৬ পরিচালকেরই বহন করার কথা। ভুক্তভোগীদের আমানত ফেরতের বিষয়ে তিনি বারবার অন্য পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে একক ক্ষমতা দেওয়ায় ব্যাংকের বিভিন্ন চেকে তার স্বাক্ষর রয়েছে। অথচ তার একক নামে ৪০টিরও বেশি মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে একটি মামলায় পরিচালকদের নামে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম শাখার আমির আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, ৪ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ১টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে রফিকুল ইসলামের রোকনিয়াত স্থায়ীভাবে মুলতবি করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শাহজালাল সবুজের রোকনিয়াত দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অন্য দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তেমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

জামায়াতের ৪ নেতার বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামায়াতের ৪ নেতার বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

 

 

 

 

 

জামায়াতের চার নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন। ছবি: আস্থা

কুড়িগ্রামে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে ব্যবসার কথা বলে ১শ ৫০ জামায়াত সদস্যের কাছ থেকে নেওয়া ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দলটির ৪ নেতার বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত ও অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ভুক্তভোগী মজলুম পরিবারের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মোঃ তৈয়ব আলী, নোমান বিল্লাহ, মাহফুজুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, রুহুল আমীন ও মোসলেমা বেগম প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, ২০২০ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট), জামায়াতের রোকন আব্দুস সালাম সুজা (ফুলবাড়ী) এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক বায়তুল মাল সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (ভোগডাঙ্গা) ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

বক্তারা আরও বলেন,
ওই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের কথা বলে কুড়িগ্রামের ১শ ৫০ জন জামায়াত সদস্যের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা নেওয়া হয়। পরে বিনিয়োগের লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত না দিয়ে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তারা কোনো প্রতিকার পাননি।

বক্তাদের অভিযোগ, বিষয়টি জেলা জামায়াতের আমিরকে জানানো হলে অভিযুক্তদের দলীয় সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। তবে আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। পরে সমাধান না হওয়ায় চার নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীরা। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হলেও প্রশাসন তাদের আটকের কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের পাওনা ১২ কোটি টাকা ফেরতের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে সদ্য দলীয় পদ স্থগিত হওয়া জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত ব্যবসা। ২০২০ সালে ভবিষ্যতে ব্যবসা করার জন্য তিনি, রফিকুল ইসলাম, আব্দুস সালাম সুজা ও রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একটি যৌথ চুক্তি হয়েছিল। তবে ওই চুক্তির ভিত্তিতে কোনো ব্যবসা শুরু হয়নি। তাকে ফাঁসাতে ওই চুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি, শাহজালাল সবুজ, আব্দুস সালাম সুজা ও রফিকুল ইসলাম ৪ জন পরিচালক হিসেবে চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসাটি শুরু করেন। চুক্তির বাইরে রুহুল আমীন ও মাওলানা জাহিদুল ইসলাম ব্যবসাটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ৬ পরিচালকই ব্যবসা থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ভিশন এন্টারপ্রাইজের লাভ-ক্ষতির দায় ৬ পরিচালকেরই বহন করার কথা। ভুক্তভোগীদের আমানত ফেরতের বিষয়ে তিনি বারবার অন্য পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে একক ক্ষমতা দেওয়ায় ব্যাংকের বিভিন্ন চেকে তার স্বাক্ষর রয়েছে। অথচ তার একক নামে ৪০টিরও বেশি মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে একটি মামলায় পরিচালকদের নামে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম শাখার আমির আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, ৪ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ১টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে রফিকুল ইসলামের রোকনিয়াত স্থায়ীভাবে মুলতবি করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শাহজালাল সবুজের রোকনিয়াত দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অন্য দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তেমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আস্থা/এমএইচ