টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে অনিয়মের ছবি তুলতে গিয়ে অবরুদ্ধ সাংবাদিক।

ফয়সাল আহম্মেদ রিফাত, টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। সেই অনিয়মের তথ্যচিত্র প্রকাশ করতে গেলেই নানা সময় অবরুদ্ধ করা হয় বিভিন্ন সাংবাদিককে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। সজীব নামের এক যুবক চাকরি করেন ঢাকার একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে। সেখানে যোগদানের জন্য তার শরীরে করোনা ভাইরাস আছে কিনা তার টেস্ট সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।

এজন্য তিনি করোনা টেস্ট করানোর জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আউটডোর কাউন্টারে টিকিট কাটতে যান। সেখানে তার কাছে চাওয়া হয় এক হাজার টাকা। এর থেকে এক টাকা কম হবে না মর্মে জানানো হয়। সজিবের মত হৃদয় মণ্ডল নামের আরেকজন গিয়েছিল করোনা পরীক্ষার জন্য টিকিট কাটতে। তার কাছেও এক হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে, নাহলে সেখানে ভিড় করতে নিষেধ করেন টিকিট কাউন্টারের লোকজন। টাকা নেয়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিক ছড়িয়ে পড়ে। এমন খবরে ঢাকা পোস্টের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি অভিজিৎ ঘোষ টিকিট কাউন্টারে গিয়ে সেখানকার দায়িত্বরতদের কাছে জানতে চান এবং ছবি তোলেন। পরে কাউন্টারের লোকজন অনুমতি ছাড়া কেন ছবি তোলা হচ্ছে সেই প্রশ্ন করেন সাংবাদিককে।

এ সময় টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বরত সোহাগ ও আউটডোর টিকিট কাউন্টার ইনচার্জ রুবেল হাসপাতালের আরএমওর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার পর সাংবাদিক অভিজিৎ ঘোষকে টিকিট কাউন্টারে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে অন্যান্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে টিকিট কাউন্টার থেকে উদ্ধার করেন। আজ সোমবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আউটডোর টিকিট কাউন্টারে এমন ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে আসা ভূঞাপুর উপজেলার রুহুলী গ্রামের সজীব বলেন, ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করি।

কোম্পানি থেকে বলা হয়েছে যোগদানের আগে করোনার টেস্ট সার্টিফিকেট লাগবে। সেই অনুযায়ী টেস্ট করানোর জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে টেস্ট করানোর জন্য গিয়েছিলাম। পরে হাসপাতালের আউটডোরে টিকিট কাটতে গেলে তারা এক হাজার টাকা দাবি করে। পরে টাকা না থাকায় আর টেস্ট করাতে পারিনি। হৃদয় মণ্ডল বলেন, করোনার টেস্ট করানোর জন্য গেলে টিকিট কাউন্টারের সোহাগ আমার কাছে এক হাজার টাকা চায়। পরে তার সঙ্গে দরকষাকষি করলেও তিনি এক টাকাও কম রাখা হবে না বলে জানায়।

তিনি বলেন, তোমার মত আরও তিনজন করোনার টেস্ট করার জন্য এক হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছে। চিকিৎসা নিতে আসা রুবাইয়েদ বলেন, চিকিৎসক দেখানোর জন্য টিকিট কাটতে গিয়েছি আউটডোরে সেখানে ৫ টাকার টিকিট রাখা হচ্ছে ১০ টাকা করে। বললে টিকিট কাউন্টার থেকে জানানো হয় খুচরা নেই পাঁচ টাকার। রুবায়েতের মতো অনেকেই জানান, টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বরতরা টিকিট কিনতে আসা রোগীর স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। অভিযোগ অস্বীকার করে টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বরত সোহাগ বলেন, করোনার টেস্টের জন্য একশ টাকা লাগে টিকিটের জন্য। বাড়তি টাকা নেওয়া হয় না।

সাংবাদিক অভিজিৎ ঘোষ বলেন, করোনার টেস্টের টিকিট কাটতে এক হাজার টাকা নিচ্ছে কাউন্টার থেকে এমন অভিযোগে সেখানে ছবি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিতে যাই। পরে ছবি তুলে ফেরার সময় তারা আমাকে সেখান থেকে না যাওয়ার জন্য নিষেধ করেন। পরে টিকিট কাউন্টারের সোহাগ আরএমওর ফোনে কথা বলে আমাকে তার রুমে যেতে বলে। একপর্যায়ে আমাকে আরএমওর রুমে নিয়ে যেতে টানা হ্যাচড়া করে। এসময় কাউন্টারের কর্মচারী সোহাগ কাউন্টার ছেড়ে যেতে নিষেধ করেন। এজন্য তিনি দরজার সামনে হাসপাতালের কয়েকজন লোক দাঁড় করিয়ে রাখেন। হাসপাতালের আউটডোর টিকিট কাউন্টার ইনচার্জ রুবেল বলেন, হাসপাতালে অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা নিষেধ।

ওই সাংবাদিক কাউন্টারে এসে ছবি ও ভিডিও করছিল। পরে তাকে আমাদের আরএমওর ২০১ নম্বর রুমে যেতে বলা হয়েছিল। তাকে টানাহ্যাচড়া করা হয়নি। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম সজীব বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। জানার পরই টিকিট কাউন্টারের লোকজনকে ওই সাংবাদিককে আমার রুমে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছিল কিন্তু তিনি আসেননি। টিকিটের জন্য বাড়তি টাকা নেয়ার কোনও সুযোগ নেই। নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।