হাসিনাকে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ১১:২১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০১৫ বার পড়া হয়েছে
হাসিনাকে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার ক্ষোভ
আস্থা ডেস্কঃ
ভারতে অবস্থানরত পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লির সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
সরকার বলেছে, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের আয়োজনের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আগে থেকেই ভারত সরকারকে অবহিত করা হয়েছিল। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে—এমন উদ্বেগ জানানো হলেও অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের দিনে ভারতীয় মাটিতে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গুরুতর অসম্মান। জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য, বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিরীহ মানুষ ও শিশু হত্যার ঘটনাকে অস্বীকার করার চেষ্টা ইতিহাসকে বিকৃত করার ব্যর্থ প্রয়াস বলেও উল্লেখ করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানায়, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদে আর কখনো ফিরে না যাওয়ার এবং দেশকে কোনো রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল না করার অঙ্গীকার করেছে। দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে আর কোনো স্থান নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক কল্যাণকর ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
তবে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের বারবার অনুরোধের বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এর বিপরীতে তাকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং দুই দেশের সুসম্পর্ক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















