দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের কৃষক-মৎস্যচাষী
১৬ বছরেও সচল হয়নি খানসামার স্লুইসগেট
- আপডেট সময় : ১০:০২:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ৯৯৮ বার পড়া হয়েছে
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ৪ নম্বর খামারপাড়া ইউনিয়নের জোয়ার কালিরবাজার সংলগ্ন বেলান নদীর ওপর নির্মিত একমাত্র স্লুইসগেটটি (কপাটিপুল) দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সংস্কারের অভাবে প্রাচীন এই অবকাঠামোটি বর্তমানে পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও ফসলহানির আশঙ্কায় রয়েছেন কয়েক গ্রামের কৃষক। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় মৎস্যচাষও।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে স্লুইসগেটটি অচল। ফলে বর্ষা মৌসুমে কিংবা সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের এলাকায় পানি নিষ্কাশন ও নিয়ন্ত্রণে দেখা দেয় চরম সমস্যা। পার্শ্ববর্তী আত্রাই নদীসহ স্থানীয় নদ-নদীর পানি বেড়ে গেলে সঠিকভাবে তা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন করা সম্ভব হয় না। এতে প্লাবিত হয় বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি। ফলে মৌসুমি ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় কৃষকদের।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, স্লুইসগেটটি সচল থাকলে অতিরিক্ত পানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সংরক্ষণ ও নিষ্কাশন করা সম্ভব হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এটি অচল থাকায় প্রতি বছরই পানিবন্দি ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়তে হয় তাদের।
এ সমস্যার প্রভাব পড়েছে মৎস্য খাতেও। স্লুইসগেটটি অচল থাকায় বেলান নদী ও আশপাশের পুকুরে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক মৎস্যচাষী ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পুকুরে সঠিকভাবে মাছ চাষ করতে পারছেন না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের আয়-রোজগার এবং স্থানীয় অর্থনীতিও।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রাচীন এই স্লুইসগেটটি দ্রুত সংস্কার অথবা প্রয়োজনে পুনর্নির্মাণ করা হলে পানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। আত্রাই নদী থেকে আসা অতিরিক্ত পানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বর্ষার পানি সঠিকভাবে নিষ্কাশন ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে শত শত হেক্টর জমিতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পুকুরগুলোতে মৎস্যচাষও সম্প্রসারিত হবে।
ভুক্তভোগী কৃষক, মৎস্যচাষী ও এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত স্লুইসগেটটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
















