৯ বছর পর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে রূপপুরের বিদ্যুৎ
- আপডেট সময় : ০৪:৪০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১০০৩ বার পড়া হয়েছে
৯ বছর পর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে রূপপুরের বিদ্যুৎ
স্টাফ রিপোর্টারঃ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ ও ইউনিট-২-এর বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) আধুনিক (এসসিএডিএ/ইএমএস) নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) ও জিই ভারনোভা-এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ ও ইউনিট-২-এর বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং ৪শ কেভি ও ২শ ৩০ কেভি জিআইএস সাবস্টেশনের প্রয়োজনীয় তথ্য এনএলডিসি-এর এসসিএডিএ/ইএমএস ব্যবস্থায় সংযুক্ত করার লক্ষ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির আওতায় রূপপুরের দুই ইউনিটের আটটি সঞ্চালন লাইন এবং ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি জিআইএস সাবস্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারিত সিগন্যাল ও তথ্য জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ইন্টিগ্রেট করা হবে। এর ফলে জাতীয় গ্রিড পরিচালনার সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় তথ্য ও সংকেত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কারিগরি ইন্টিগ্রেশনের ফলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নির্ভরযোগ্যভাবে সঞ্চালন ও গ্রিড পরিচালনার সক্ষমতা আরও বাড়বে। একইসঙ্গে কেন্দ্রটির কমিশনিং এবং পরবর্তী অপারেশনাল কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রকে এনএলডিসি এর এসসিএডিএ/ইএমএস ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার ইন্টিগ্রেশন কার্যক্রম জিই ভারনোভা’র মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে এনএলডিসি’র এসসিএডিএ/ইএমএস ব্যবস্থায় যুক্ত করার কার্যক্রম জিই ভারনোভা’র সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এ ফুয়েল লোডিং-পরবর্তী পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কেন্দ্রটির নির্ধারিত কমিশনিং ও পরবর্তী অপারেশনাল সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে এসসিএডিএ/ইএমএস ইন্টিগ্রেশন কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে মূল আন্তঃসরকারি সহযোগিতা চুক্তিটি ২০১১ সালের ২ নভেম্বর স্বাক্ষরিত হয়।
এরপর প্রকল্পের মূল নির্মাণ কাজের জন্য মূল অর্থায়ন চুক্তি সই হয় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে।
২০১৩ সালের ২ অক্টোবর রূপপুর প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে প্রথম ইউনিটের এবং ২০১৮ সালের জুলাই মাসে দ্বিতীয় ইউনিটের মূল ঢালাই ও নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
ব্যয়রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (সমীক্ষা পর্যায়সহ মোট ব্যয় প্রায় ১৩.৩৪ বিলিয়ন ডলার)।
রাশিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ এই প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৯০% ঋণ হিসেবে দিয়েছে রাশিয়া এবং বাকি ১০% দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
রাশিয়া স্টেট ক্রেডিট বা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ১১.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। (এর বাইরে প্রাথমিক সমীক্ষার জন্য ২০১৩ সালে আরও ৫শ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছিল)।
বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে দিয়েছে বাকি প্রায় ১.২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আস্থা/এমএইচ

















