ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:

ইসলামের বিকাশ রুখতে আজান নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • / ১০২২ বার পড়া হয়েছে

ইসলামের বিকাশ রুখতে আজান নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ডেনমার্কে আজানের আওয়াজ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন দেশটির অভিবাসন মন্ত্রী মর্টেন বডসকভ।

ইতোমধ্যেই ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনসহ বেশ কিছু এলাকায় কঠোর শব্দদূষণ নীতির কারণে মাইকে বা মিনারের লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের ওপর স্থানীয় আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

মন্ত্রী বডসকভের দাবি, ডেনমার্কে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকা এক ধরনের ‘ইসলামীকরণ’ সাধারণ জনগণের উন্মুক্ত স্থানগুলোকে গ্রাস করে নিচ্ছে। রাস্তায় হাঁটার সময় কারো মনে এমন সন্দেহের উদ্রেক হওয়া উচিত নয় যে তিনি ইসলামাবাদের কোনো শহরতলীতে চলে এসেছেন।

বার্তা সংস্থা ‘রিটজৌ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বলেন, ছাদগুলোর ওপর দিয়ে আজানের সুর ভেসে আসা উচিত নয়। নতুন সরকার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনি বৈধতা যাচাই করতে পুনরায় তদন্ত শুরু করবে। ডেনমার্কে এর কোনো স্থান নেই।

সাধারণত মুসলিমদের নামাজের জন্য দিনে পাঁচবার মিনারের লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ঐতিহ্যগতভাবে এই আজান দেওয়া হয়ে থাকে। ডেনমার্কে আজান নিষিদ্ধ করার জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে কোনো অভিবাসন মন্ত্রীর এটি তৃতীয় দফার প্রচেষ্টা। এর আগে ২০২০ এবং ২০২৫ সালেও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

ডেনমার্কের বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নেতৃত্বে ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর অভিবাসন নীতি বজায় রাখা হয়েছে, যিনি চলতি মাসের শুরুতে তৃতীয় মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

তবে ডেনমার্কে আজান পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কারণ সরকারের এই তদন্ত কমিটিকে একদিকে যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে মসজিদের আশেপাশের বাসিন্দাদের অধিকারের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। ডেনমার্কের সংবিধানে জনসমক্ষে ধর্মীয় উপাসনার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ডেনমার্কের প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে আনুমানিক ২ লক্ষ ৭০ হাজার মুসলিম বসবাস করেন। দেশটিতে প্রায় ১০০টি মসজিদ রয়েছে, যার মধ্যে কোপেনহেগেনের গ্র্যান্ড মস্ক অন্যতম। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির কারণে এই মসজিদটি থেকে বাইরে কোনো আজান প্রচার করা হয় না।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ইসলামের বিকাশ রুখতে আজান নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক

আপডেট সময় : ০৪:০৭:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ইসলামের বিকাশ রুখতে আজান নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ডেনমার্কে আজানের আওয়াজ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন দেশটির অভিবাসন মন্ত্রী মর্টেন বডসকভ।

ইতোমধ্যেই ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনসহ বেশ কিছু এলাকায় কঠোর শব্দদূষণ নীতির কারণে মাইকে বা মিনারের লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের ওপর স্থানীয় আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

মন্ত্রী বডসকভের দাবি, ডেনমার্কে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকা এক ধরনের ‘ইসলামীকরণ’ সাধারণ জনগণের উন্মুক্ত স্থানগুলোকে গ্রাস করে নিচ্ছে। রাস্তায় হাঁটার সময় কারো মনে এমন সন্দেহের উদ্রেক হওয়া উচিত নয় যে তিনি ইসলামাবাদের কোনো শহরতলীতে চলে এসেছেন।

বার্তা সংস্থা ‘রিটজৌ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বলেন, ছাদগুলোর ওপর দিয়ে আজানের সুর ভেসে আসা উচিত নয়। নতুন সরকার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনি বৈধতা যাচাই করতে পুনরায় তদন্ত শুরু করবে। ডেনমার্কে এর কোনো স্থান নেই।

সাধারণত মুসলিমদের নামাজের জন্য দিনে পাঁচবার মিনারের লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ঐতিহ্যগতভাবে এই আজান দেওয়া হয়ে থাকে। ডেনমার্কে আজান নিষিদ্ধ করার জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে কোনো অভিবাসন মন্ত্রীর এটি তৃতীয় দফার প্রচেষ্টা। এর আগে ২০২০ এবং ২০২৫ সালেও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

ডেনমার্কের বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নেতৃত্বে ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর অভিবাসন নীতি বজায় রাখা হয়েছে, যিনি চলতি মাসের শুরুতে তৃতীয় মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

তবে ডেনমার্কে আজান পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কারণ সরকারের এই তদন্ত কমিটিকে একদিকে যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে মসজিদের আশেপাশের বাসিন্দাদের অধিকারের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। ডেনমার্কের সংবিধানে জনসমক্ষে ধর্মীয় উপাসনার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ডেনমার্কের প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে আনুমানিক ২ লক্ষ ৭০ হাজার মুসলিম বসবাস করেন। দেশটিতে প্রায় ১০০টি মসজিদ রয়েছে, যার মধ্যে কোপেনহেগেনের গ্র্যান্ড মস্ক অন্যতম। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির কারণে এই মসজিদটি থেকে বাইরে কোনো আজান প্রচার করা হয় না।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ