ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo ধর্ম নিয়ে ব্যবসা নয়, সম্প্রীতির বাংলাদেশ চাই: সংসদে ফজলুর রহমান এমপি Logo ইউনুচের এক বছরে ১২,৬,৩৩ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন Logo সৌদি বাদশাহের খরচে ওমরাহের সুযোগ পাবেন ১ হাজার জন Logo ৪ বছরে টোল আদায় ৩৩৯২ কোটি টাকা Logo রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বাড়ছে হত্যা ও ধর্ষণ-জামাত আমীর Logo মসজিদ অবমাননা করে মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতের দলীয় সভা অনুষ্ঠিত Logo সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় মায়ের পায়ের রগ কাটার অভিযোগ, ছেলে গ্রেপ্তার Logo তিস্তার ৩০ পয়েন্টে ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি ফসলি জমি Logo কুড়িগ্রামে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: অভিযুক্তকে থানায় সোর্পদ Logo নারী-সংক্রান্ত অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত বিআইডব্লিউটি-এর বন্দর পরিচালক

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বাড়ছে হত্যা ও ধর্ষণ-জামাত আমীর

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • / ১০১৮ বার পড়া হয়েছে

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বাড়ছে হত্যা ও ধর্ষণ-জামাত আমীর

স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দেশে হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, যার ফলে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (২৪ জুন) মগবাজার আল ফালা মিলনায়তনে সকাল ৯টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সভায় এ কথা বলেন তিনি।

সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী জন্মলগ্ন থেকে ৩-দফা দাওয়াত ও ৪-দফা কর্মসূচি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এ দীর্ঘ যাত্রাপথে জামায়াতে ইসলামীকে নানা চড়াই-উৎড়াই পার হতে হয়েছে এবং এখনো অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর এই পথচলায় আল্লাহর অনেক প্রিয়বান্দাকে হাজারো জেল-জুলুম, হামলা-মামলাসহ অবর্ণনীয় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। অনেককে শাহাদাতের পিয়ালা পান করতে হয়েছে। শাহাদাতের সিঁড়ি বেয়ে রক্তাক্ত এই পথেই আমাদের এগিয়ে যেতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইসলামী নীতির আলোকে নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় রাজনীতি করে আসছে। বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংগঠনের মর্যাদাপূর্ণ অবদান রয়েছে। জাতীয় সংসদের অংশীদারিত্বমূলক সকল নির্বাচনেই জামায়াতের প্রতিনিধি ছিল। জামায়াতে ইসলামীর দুইজন মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয়ে দেশ ও জাতি গঠনে তাদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকার মাধ্যমে দেশবাসীর প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বর্তমান জাতীয় সংসদেও জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বৈষম্য, দারিদ্র্যমুক্ত এবং মর্যাদাপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে চলেছে।’

ডা. শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ২০২৪ এর আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল বর্তমান সরকার চব্বিশের চেতনাকে ভুলিয়ে দেওয়ার এক আত্মঘাতী ও অপরিণামদর্শী অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়ে পরবর্তীতে সেই গণভোটের রায়কে পদদলিত করে জাতির সাথে এক প্রকার প্রতারণা শুরু করেছেন। এই সিদ্ধান্ত সরকারের জন্য বুমেরাং হবে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “বর্তমানে সরকারি দলের লোকদের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাণিজ্য মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ঘুষ-দুর্নীতি চলছে অবাধে। সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই মাত্র সাড়ে তিন মাসে তাদের শতাধিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। তাছাড়া বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে শেরপুরে জামায়াতের একজন নেতা, নির্বাচনের পরে চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতে ইসলামীর দুই জন নেতাকর্মী এবং অতি সম্প্রতি গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক নেতা নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দেশে হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, যার ফলে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।’

ব্যাংকিং খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সরকারের কিছু ভুল ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে ধ্বংসপ্রায় ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’ যখন মাত্র ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে সরকার ব্যাংকটিকে পুনরায় ফ্যাসিবাদের দোসরদের হাতে তুলে দেওয়ার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা মনে করি, সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিকে সমূলে ধ্বংস করে দেবে। দেশবাসী আশা করে, সরকার এই ক্ষেত্রে দ্রুত শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার দেশের শিক্ষা, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে নগ্ন দলীয়করণ করছে। এমনকি নবগঠিত সংসদেও চরম বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এভাবে সরকার ক্রমান্বয়ে একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা জাতির জন্য চরম হতাশাজনক।’

সভার সমাপনী ভাষণে জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ জাতির সামনে দৃশ্যমান। পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি ও তাদের দোসররা দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে আমাদের উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করবে। এই ক্ষেত্রে আমাদের অত্যন্ত ধৈর্য ও সতর্কতার সাথে পথ চলতে হবে এবং কারো পাতা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বাড়ছে হত্যা ও ধর্ষণ-জামাত আমীর

আপডেট সময় : ০১:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বাড়ছে হত্যা ও ধর্ষণ-জামাত আমীর

স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দেশে হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, যার ফলে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (২৪ জুন) মগবাজার আল ফালা মিলনায়তনে সকাল ৯টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সভায় এ কথা বলেন তিনি।

সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী জন্মলগ্ন থেকে ৩-দফা দাওয়াত ও ৪-দফা কর্মসূচি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এ দীর্ঘ যাত্রাপথে জামায়াতে ইসলামীকে নানা চড়াই-উৎড়াই পার হতে হয়েছে এবং এখনো অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর এই পথচলায় আল্লাহর অনেক প্রিয়বান্দাকে হাজারো জেল-জুলুম, হামলা-মামলাসহ অবর্ণনীয় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। অনেককে শাহাদাতের পিয়ালা পান করতে হয়েছে। শাহাদাতের সিঁড়ি বেয়ে রক্তাক্ত এই পথেই আমাদের এগিয়ে যেতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইসলামী নীতির আলোকে নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় রাজনীতি করে আসছে। বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংগঠনের মর্যাদাপূর্ণ অবদান রয়েছে। জাতীয় সংসদের অংশীদারিত্বমূলক সকল নির্বাচনেই জামায়াতের প্রতিনিধি ছিল। জামায়াতে ইসলামীর দুইজন মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয়ে দেশ ও জাতি গঠনে তাদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকার মাধ্যমে দেশবাসীর প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বর্তমান জাতীয় সংসদেও জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বৈষম্য, দারিদ্র্যমুক্ত এবং মর্যাদাপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে চলেছে।’

ডা. শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ২০২৪ এর আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল বর্তমান সরকার চব্বিশের চেতনাকে ভুলিয়ে দেওয়ার এক আত্মঘাতী ও অপরিণামদর্শী অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়ে পরবর্তীতে সেই গণভোটের রায়কে পদদলিত করে জাতির সাথে এক প্রকার প্রতারণা শুরু করেছেন। এই সিদ্ধান্ত সরকারের জন্য বুমেরাং হবে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “বর্তমানে সরকারি দলের লোকদের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাণিজ্য মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ঘুষ-দুর্নীতি চলছে অবাধে। সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই মাত্র সাড়ে তিন মাসে তাদের শতাধিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। তাছাড়া বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে শেরপুরে জামায়াতের একজন নেতা, নির্বাচনের পরে চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতে ইসলামীর দুই জন নেতাকর্মী এবং অতি সম্প্রতি গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক নেতা নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দেশে হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, যার ফলে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।’

ব্যাংকিং খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সরকারের কিছু ভুল ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে ধ্বংসপ্রায় ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’ যখন মাত্র ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে সরকার ব্যাংকটিকে পুনরায় ফ্যাসিবাদের দোসরদের হাতে তুলে দেওয়ার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা মনে করি, সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিকে সমূলে ধ্বংস করে দেবে। দেশবাসী আশা করে, সরকার এই ক্ষেত্রে দ্রুত শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার দেশের শিক্ষা, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে নগ্ন দলীয়করণ করছে। এমনকি নবগঠিত সংসদেও চরম বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এভাবে সরকার ক্রমান্বয়ে একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা জাতির জন্য চরম হতাশাজনক।’

সভার সমাপনী ভাষণে জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ জাতির সামনে দৃশ্যমান। পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি ও তাদের দোসররা দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে আমাদের উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করবে। এই ক্ষেত্রে আমাদের অত্যন্ত ধৈর্য ও সতর্কতার সাথে পথ চলতে হবে এবং কারো পাতা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ