ঢাকা ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একাত্তরের হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা বলা হোক, প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
  • / ১১০৩ বার পড়া হয়েছে

একাত্তরের হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা বলা হোক, প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী যে অভিযান চালায়, তা জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যা-ল্যান্ডসম্যান।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে মূল্যায়ন করার একটি প্রস্তাব উঠেছে মার্কিন কংগ্রেসে।

শুক্রবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রস্তাবটি তোলেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান।

ওহাইয়ো থেকে নির্বাচিত এ আইনপ্রণেতা তার প্রস্তাবে বলেছেন, হত্যাযজ্ঞে সহায়তা করার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তিনি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন।

প্রস্তাবে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঘোষিত অপারেশন সার্চলাইটের সময় পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের ইসলামপন্থি সহযোগীরা নৃশংসতা চালায়। ওই সময় সব ধর্মের জাতিগত বাঙালিরা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন। তখন হিন্দুদের নির্মূল করা হয়েছিল; তাদেরকে গণহত্যা করা হয়েছিল।

প্রস্তাব তুলে ধরার সময় ল্যান্ডসম্যান বলেন, “পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ১৯৭১ সালের অভিযান জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যা। “এ অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আগেই গণহত্যার তকমা দেওয়া উচিত ছিল।”

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ক্যাপিটল হিলে একটি শুনানি হয়। সেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিসহ একাত্তরের গণহত্যার কথা উঠে আসে।

ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল ‘হিন্দু অ্যাকশন’ নামের একটি সংস্থা।

সেই অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় মার্কিন পার্লামেন্টে নতুন প্রস্তাব উঠল বলে জানান নিউ ইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার দীলিপ নাথ।

তিনি শনিবার বলেন, “একাত্তরের গণহত্যার জন্য দায়ী জামায়াতে ইসলামের উত্থান ঘটেছে জুলাই আন্দোলনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহম্মদ ইউনূসের আস্কারায় জামায়াত আবারো মানবতাবিরোধী জঘন্য তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে।

“এমনকি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের ‘ভালো মানুষ’ সাজাতে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের নামে তামাশাও করেছেন। এসন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। আশা করছি কংগ্রেসে প্রস্তাবটি পাস হলে একাত্তরের ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত জামায়াতে ইসলামীকে যুক্তরাষ্ট্র আবারো নিষিদ্ধ করবে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

একাত্তরের হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা বলা হোক, প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে

আপডেট সময় : ১১:৩০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

একাত্তরের হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা বলা হোক, প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী যে অভিযান চালায়, তা জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যা-ল্যান্ডসম্যান।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে মূল্যায়ন করার একটি প্রস্তাব উঠেছে মার্কিন কংগ্রেসে।

শুক্রবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রস্তাবটি তোলেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান।

ওহাইয়ো থেকে নির্বাচিত এ আইনপ্রণেতা তার প্রস্তাবে বলেছেন, হত্যাযজ্ঞে সহায়তা করার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তিনি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন।

প্রস্তাবে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঘোষিত অপারেশন সার্চলাইটের সময় পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের ইসলামপন্থি সহযোগীরা নৃশংসতা চালায়। ওই সময় সব ধর্মের জাতিগত বাঙালিরা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন। তখন হিন্দুদের নির্মূল করা হয়েছিল; তাদেরকে গণহত্যা করা হয়েছিল।

প্রস্তাব তুলে ধরার সময় ল্যান্ডসম্যান বলেন, “পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ১৯৭১ সালের অভিযান জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যা। “এ অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আগেই গণহত্যার তকমা দেওয়া উচিত ছিল।”

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ক্যাপিটল হিলে একটি শুনানি হয়। সেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিসহ একাত্তরের গণহত্যার কথা উঠে আসে।

ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল ‘হিন্দু অ্যাকশন’ নামের একটি সংস্থা।

সেই অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় মার্কিন পার্লামেন্টে নতুন প্রস্তাব উঠল বলে জানান নিউ ইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার দীলিপ নাথ।

তিনি শনিবার বলেন, “একাত্তরের গণহত্যার জন্য দায়ী জামায়াতে ইসলামের উত্থান ঘটেছে জুলাই আন্দোলনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহম্মদ ইউনূসের আস্কারায় জামায়াত আবারো মানবতাবিরোধী জঘন্য তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে।

“এমনকি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের ‘ভালো মানুষ’ সাজাতে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের নামে তামাশাও করেছেন। এসন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। আশা করছি কংগ্রেসে প্রস্তাবটি পাস হলে একাত্তরের ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত জামায়াতে ইসলামীকে যুক্তরাষ্ট্র আবারো নিষিদ্ধ করবে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ