ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক মাসের ব্যবধানে ১৪ হাজার কোটি টাকা মূলধন উধাও

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০২৩ বার পড়া হয়েছে

এক মাসের ব্যবধানে ১৪ হাজার কোটি টাকা মূলধন উধাও

আস্থা ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিশ্ববাজারের অস্থিরতায় দেশের পুঁজিবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন থেকে প্রায় ৩ হাজার ৩১ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে।

শুধু গত সপ্তাহ নয়, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মূলধন হারানোর বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে শেয়ারবাজার। মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বাজার থেকে মূলধন হারিয়েছে ২ হাজার ৫শ কোটি টাকা। এরপর মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে বাজারে তীব্র পতনে উধাও হয়ে যায় ৪ হাজার ৫শ কোটি টাকা। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে বাজার আবারও মূলধন হারায় ৪ হাজার কোটি টাকা। গত সপ্তাহে বাজার মূলধন হারায় ৩ হাজার ৩১ কোটি টাকা।

অর্থাৎ গত এক মাসের ব্যবধানে ঢাকা স্টক একচেঞ্জ বাজার মূলধন হারিয়েছে ১৪ হাজার ৩১ কোটি টাকা।

বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রির চাপে গত সপ্তাহে বিশাল অঙ্কের মূলধন হারিয়েছে। যুদ্ধবিরতির আলোচনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ফল না আসায় বিনিয়োগকারীদের শঙ্কা কাটছে না। যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে সূচক ও বাজার মূলধনে।

গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬শ ৬২ কোটি টাকা। সপ্তাহ শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩১ কোটি টাকায়।

অর্থাৎ মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীরা ৩ হাজার ৩১ কোটি টাকা সমমূল্যের বাজার মূলধন হারিয়েছেন।

এ সময় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২শ ৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে বড় কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ১২ পয়েন্ট হারিয়ে ১ হাজার ৯শ ৯০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস অবশ্য কিছুটা স্থিতিশীলতা বজায় রেখে ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সূচক ও মূলধনে ভাটা পড়লেও গত সপ্তাহে লেনদেনের গতি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন ২২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৮শ ১৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬শ ৭০ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় কিছু বিনিয়োগকারী নতুন করে শেয়ার কেনার ঝুঁকি নিচ্ছেন। যদিও বড় একটি অংশ এখনো পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থানে রয়েছেন।

গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল বড় মূলধনি পাঁচটি কোম্পানির। এগুলো হলো ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ব্র্যাক ব্যাংক এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

খাতভিত্তিক লেনদেনে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ দখল নিয়ে শীর্ষে ছিল প্রকৌশল খাত। এরপর যথাক্রমে ওষুধ ও রসায়ন এবং সাধারণ বীমা খাতের অবস্থান ছিল। অন্যদিকে, রিটার্নের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৪ শতাংশ লোকসান দিয়েছে ব্যাংক খাত।

একই চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭শ ৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১শ ৫০ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৯৩ কোটি টাকা কম।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

এক মাসের ব্যবধানে ১৪ হাজার কোটি টাকা মূলধন উধাও

আপডেট সময় : ০১:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

এক মাসের ব্যবধানে ১৪ হাজার কোটি টাকা মূলধন উধাও

আস্থা ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিশ্ববাজারের অস্থিরতায় দেশের পুঁজিবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন থেকে প্রায় ৩ হাজার ৩১ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে।

শুধু গত সপ্তাহ নয়, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মূলধন হারানোর বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে শেয়ারবাজার। মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বাজার থেকে মূলধন হারিয়েছে ২ হাজার ৫শ কোটি টাকা। এরপর মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে বাজারে তীব্র পতনে উধাও হয়ে যায় ৪ হাজার ৫শ কোটি টাকা। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে বাজার আবারও মূলধন হারায় ৪ হাজার কোটি টাকা। গত সপ্তাহে বাজার মূলধন হারায় ৩ হাজার ৩১ কোটি টাকা।

অর্থাৎ গত এক মাসের ব্যবধানে ঢাকা স্টক একচেঞ্জ বাজার মূলধন হারিয়েছে ১৪ হাজার ৩১ কোটি টাকা।

বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রির চাপে গত সপ্তাহে বিশাল অঙ্কের মূলধন হারিয়েছে। যুদ্ধবিরতির আলোচনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ফল না আসায় বিনিয়োগকারীদের শঙ্কা কাটছে না। যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে সূচক ও বাজার মূলধনে।

গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬শ ৬২ কোটি টাকা। সপ্তাহ শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩১ কোটি টাকায়।

অর্থাৎ মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীরা ৩ হাজার ৩১ কোটি টাকা সমমূল্যের বাজার মূলধন হারিয়েছেন।

এ সময় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২শ ৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে বড় কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ১২ পয়েন্ট হারিয়ে ১ হাজার ৯শ ৯০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস অবশ্য কিছুটা স্থিতিশীলতা বজায় রেখে ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সূচক ও মূলধনে ভাটা পড়লেও গত সপ্তাহে লেনদেনের গতি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন ২২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৮শ ১৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬শ ৭০ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় কিছু বিনিয়োগকারী নতুন করে শেয়ার কেনার ঝুঁকি নিচ্ছেন। যদিও বড় একটি অংশ এখনো পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থানে রয়েছেন।

গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল বড় মূলধনি পাঁচটি কোম্পানির। এগুলো হলো ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ব্র্যাক ব্যাংক এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

খাতভিত্তিক লেনদেনে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ দখল নিয়ে শীর্ষে ছিল প্রকৌশল খাত। এরপর যথাক্রমে ওষুধ ও রসায়ন এবং সাধারণ বীমা খাতের অবস্থান ছিল। অন্যদিকে, রিটার্নের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৪ শতাংশ লোকসান দিয়েছে ব্যাংক খাত।

একই চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭শ ৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১শ ৫০ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৯৩ কোটি টাকা কম।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ