ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo জাতীয় নেতাদের ভূমিকাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন: এপ্রিলের শেষে উদ্বোধন Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আ.লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট এবং ধানের শীষ Logo মুখস্থভিত্তিক বিসিএস থেকে দক্ষতাভিত্তিক পদ্ধতিতে যাচ্ছে সরকার: সংসদে প্রতিমন্ত্রী Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি ঘোষণা Logo সরকার-জনপ্রতিনিধি ছাড়া সংবিধান সংশোধনের অধিকার কারো নেই: স্পিকার Logo মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংশ করছে ইরানি ম্যানপ্যাড Logo তিন ঘণ্টার ব্যবধানে মা-ছেলের মৃত্যু Logo হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

গাজীপুরে মায়ের চোখের অপারেশন করাতে চেয়েছিল তুহিন-নিজেই ফিরলো লাশ হয়ে

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৩০৮৫ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরে মায়ের চোখের অপারেশন করাতে চেয়েছিল তুহিন-নিজেই ফিরলো লাশ হয়ে

মোঃ হাবিব/ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ

এ সপ্তাহে বাড়িতে এসে মা সাবিয়া খাতুন বকুলের চোখের ছানি অপারেশন করতে গাজীপুরে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের “সেই তুহিনের লাশ আসছে বাড়িতে” বলতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে অসুস্থা বৃদ্ধা মা বকুল ও বাবা হাসান জামিল।

গত দুই দিন আগে বাবার ঔষুধ ও বাজার করার জন্য টাকা পাঠিয়েছিল। গ্রামের মানুষ বিভিন্ন ভাবে সান্তনা দিচ্ছে এই বৃদ্ধ দম্পত্তিদের। কারও সান্তনা মেনে নিতে পারছেন না। কান্না করতে করতে বারংবার মুচ্ছা যাচ্ছে বাবা, জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে মা।

সাংবাদিক তুহিনের হত্যার ঘটনায় নিজ গ্রামে শোকের ছায়া নেমেছে। আত্মীয় স্বজনসহ প্রতিবেশিরা কান্নায় গ্রামের বাতাশ ভারি হয়ে আছে।বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরে চান্দনা এলাকায় সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেন।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামিলে ছেলে আসাদুজ্জামান তুহিন।
পাঁচ ভাই, দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট তুহিন। তুহিনে দুই ছেলে বড় ছেলে তৌকি (৭) ছোট ছেলে ফাহিম (৩)।

বাদ মাগরিব ফুলবাড়িয়া ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তুহিনেন জানাযা নামাজ শেষে নিজ গ্রামে বাড়ির পূর্ব পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় আলহেরা একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে মাধ্যমিক পাশ করে, সিলেট কোম্পানিগঞ্জের এম. সাইফুর রহমান কলেজ থেকে ২০০৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় প্রায় একযুগ ধরে বসবাস শুরু করে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি একটি ক্লিনিকের ব্যবসা পরিচালনা করেন। নিজ গ্রামে অসহায় মানুষের চিকিৎার ব্যবস্থা করতেন।

মানবিক মানুষ হিসেবে গ্রামে পরিচিত। গ্রামের বেশ কয়জন যুবককে ঢাকাসহ গাজীপুরের বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তুহিন হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রামের সবাই হতবাক। হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছেন।

তুহিনের বড় বোন রত্মা বেগম বলেন, ‘আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করলো, হত্যা না করে একটি হাত, একটি পা ভেঙ্গে দিত, ‘পঙ্গু করে দিলেও ভাই বেঁচে থাকতো’ আমার ভাই পুত দুইজন এতিম হয়েগেলে, স্ত্রী বিধবা। এদের সংসার এখন কিভাবে চলবে? সন্তানদেরকে মানুষ করবে? হত্যাকারীদেন ফাঁসি চাই।

বৃদ্ধ বাবা হাসান জামিল বলেন, আমার ঔষুধ কিনতে দুইদিন আগে টাকা পাঠিয়েছে, এ সপ্তাহে বাড়ি এসে তুহিনের মায়ের চোখের ছানি অপারেশন করতে গাজীপুরে নিয়ে যাবার কথা ছিল, এখন সেই ছেলে লাশ হয়ে বাড়ি আসতেছে। আমার সহজ সরল ছেলেটাকে তাঁর মা বার বার বলেছে সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতে, কিন্তু ছাড়েনি। সেই সাংবাদিকতা করতে গিয়ে আমার ছেলে হত্যার শিকার হলো।

 

ট্যাগস :

গাজীপুরে মায়ের চোখের অপারেশন করাতে চেয়েছিল তুহিন-নিজেই ফিরলো লাশ হয়ে

আপডেট সময় : ০৬:০৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

গাজীপুরে মায়ের চোখের অপারেশন করাতে চেয়েছিল তুহিন-নিজেই ফিরলো লাশ হয়ে

মোঃ হাবিব/ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ

এ সপ্তাহে বাড়িতে এসে মা সাবিয়া খাতুন বকুলের চোখের ছানি অপারেশন করতে গাজীপুরে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের “সেই তুহিনের লাশ আসছে বাড়িতে” বলতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে অসুস্থা বৃদ্ধা মা বকুল ও বাবা হাসান জামিল।

গত দুই দিন আগে বাবার ঔষুধ ও বাজার করার জন্য টাকা পাঠিয়েছিল। গ্রামের মানুষ বিভিন্ন ভাবে সান্তনা দিচ্ছে এই বৃদ্ধ দম্পত্তিদের। কারও সান্তনা মেনে নিতে পারছেন না। কান্না করতে করতে বারংবার মুচ্ছা যাচ্ছে বাবা, জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে মা।

সাংবাদিক তুহিনের হত্যার ঘটনায় নিজ গ্রামে শোকের ছায়া নেমেছে। আত্মীয় স্বজনসহ প্রতিবেশিরা কান্নায় গ্রামের বাতাশ ভারি হয়ে আছে।বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরে চান্দনা এলাকায় সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেন।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামিলে ছেলে আসাদুজ্জামান তুহিন।
পাঁচ ভাই, দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট তুহিন। তুহিনে দুই ছেলে বড় ছেলে তৌকি (৭) ছোট ছেলে ফাহিম (৩)।

বাদ মাগরিব ফুলবাড়িয়া ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তুহিনেন জানাযা নামাজ শেষে নিজ গ্রামে বাড়ির পূর্ব পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় আলহেরা একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে মাধ্যমিক পাশ করে, সিলেট কোম্পানিগঞ্জের এম. সাইফুর রহমান কলেজ থেকে ২০০৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় প্রায় একযুগ ধরে বসবাস শুরু করে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি একটি ক্লিনিকের ব্যবসা পরিচালনা করেন। নিজ গ্রামে অসহায় মানুষের চিকিৎার ব্যবস্থা করতেন।

মানবিক মানুষ হিসেবে গ্রামে পরিচিত। গ্রামের বেশ কয়জন যুবককে ঢাকাসহ গাজীপুরের বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তুহিন হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রামের সবাই হতবাক। হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছেন।

তুহিনের বড় বোন রত্মা বেগম বলেন, ‘আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করলো, হত্যা না করে একটি হাত, একটি পা ভেঙ্গে দিত, ‘পঙ্গু করে দিলেও ভাই বেঁচে থাকতো’ আমার ভাই পুত দুইজন এতিম হয়েগেলে, স্ত্রী বিধবা। এদের সংসার এখন কিভাবে চলবে? সন্তানদেরকে মানুষ করবে? হত্যাকারীদেন ফাঁসি চাই।

বৃদ্ধ বাবা হাসান জামিল বলেন, আমার ঔষুধ কিনতে দুইদিন আগে টাকা পাঠিয়েছে, এ সপ্তাহে বাড়ি এসে তুহিনের মায়ের চোখের ছানি অপারেশন করতে গাজীপুরে নিয়ে যাবার কথা ছিল, এখন সেই ছেলে লাশ হয়ে বাড়ি আসতেছে। আমার সহজ সরল ছেলেটাকে তাঁর মা বার বার বলেছে সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতে, কিন্তু ছাড়েনি। সেই সাংবাদিকতা করতে গিয়ে আমার ছেলে হত্যার শিকার হলো।