দুই দশকেও বাস্তবায়ন হয়নি ৬ দফা দাবি
- আপডেট সময় : ০৬:৪২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ৯৯৭ বার পড়া হয়েছে
দুই দশকেও বাস্তবায়ন হয়নি ৬ দফা দাবি
দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ দুই দশক পেরিয়ে গেলেও আজও বাস্তবায়িত হয়নি দিনাজপুর ফুলবাড়ী কয়লাখনি আন্দোলনের রক্তঝরা ইতিহাস বুকে নিয়ে তৈরি ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি।
২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন তিন তরুণ আল আমিন, সালেক ও তৌহিদ। সেই থেকে দিনটি ‘ফুলবাড়ী দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
রক্তাক্ত ইতিহাসের প্রেক্ষাপট
২০০৬ সালে এশিয়া এনার্জি (বর্তমান জিএসি) নামের একটি বহুজাতিক কোম্পানি ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রস্তাব দেয়। পরিবেশবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হলে শুধু শত শত একর আবাদি জমিই নষ্ট হতো না, বরং সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়ে উত্তরবঙ্গের পরিবেশ ও জনজীবন বিপন্ন হয়ে উঠত।
এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে ফুলবাড়ীর সাধারণ মানুষ, কৃষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় পেশাজীবীরা একজোট হয়ে আন্দোলনে নামেন।
২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ী বাজারে বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) ও পুলিশ গুলি বর্ষণ করলে ঘটনাস্থলেই তিন জন নিহত হন এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। আন্দোলন চরম রূপ নিলে পরবর্তীতে তৎকালীন সরকার আন্দোলনকারীদের সাথে ৬ দফা চুক্তি সই করতে বাধ্য হয়।
৬ দফা দাবির মাঝে রয়েছে:- ১. এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বহিষ্কার এবং তাদের সাথে চুক্তি বাতিল করা। ২. ফুলবাড়ীসহ দেশের কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন বন্ধ রাখা। ৩. আন্দোলনকালে শহীদদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। ৪. আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার। ৫. আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর জন্য দায়ী পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান। ৬. আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ফুলবাড়ীতে একটি স্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ক্ষোভ দুটি দশক অতিবাহিত হলেও মূল দাবিগুলো এখনো কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। এশিয়া এনার্জির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া এবং উন্মুক্ত খনি নিয়ে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন না হওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের মনে এখনো তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রতি বছর ২৬ আগস্ট এলে রাজনৈতিক দল, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোক মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করে।
তবে সচেতন মহলের দাবি, স্মৃতিচারণের গণ্ডি পেরিয়ে সরকারের উচিত ঐতিহাসিক এই ৬ দফা দাবির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, যাতে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত থাকে।
আস্থা/এমএইচ
















