ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীরবতা ভাঙছে আওয়ামী লীগের শরিকরা

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / ১০০৯ বার পড়া হয়েছে

নীরবতা ভাঙছে আওয়ামী লীগের শরিকরা

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা শুরু করেছে আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলো। প্রকাশ্যে বড় কোনো কর্মসূচি না থাকলেও ভেতরে ভেতরে যোগাযোগ বাড়ানো, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক মেরূকরণের প্রস্তুতি?

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ৫ আগস্টের পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে তাদের জন্য রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার মতো পরিবেশ ছিল না। অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়, কেউ কারাগারে যান, আবার কেউ আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হন। হামলা ও হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে আসতে চাননি। ফলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

তবে নেতারা বলছেন, প্রকাশ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দলীয় যোগাযোগ কখনোই বিচ্ছিন্ন হয়নি। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবারও দলীয় নেতাকর্মীরা সক্রিয় হতে শুরু করেন। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর অনেকেই নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া শুরু করেছেন। বিভিন্ন সাংগঠনিক বৈঠকও হচ্ছে।

ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে ছিটকে পড়লেও হাল ছাড়তে রাজি নন জোটের বামপন্থী নেতারা। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) এবং অন্য শরিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশে সংগঠন টিকিয়ে রাখার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ইস্যু কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার ছায়ায় থাকার কারণে এসব দলের নিজস্ব সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনীতির মাঠে নিজেদের উপস্থিতি টিকিয়ে রাখা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যদি তারা সক্রিয় হতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে তাদের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ধরে রাখা।

বিশ্লেষকরা এটিও মনে করছেন, এর পেছনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগ সরাসরি রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় না থাকলেও, জোটের শরিক বামপন্থী দলগুলো ‘প্রগতিশীল রাজনীতি’র ব্যানারে নিজেদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারে। ভবিষ্যতে তারা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা কিংবা নতুন কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগেও ভূমিকা রাখতে পারে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম মনে করেন, দেড় দশকে এসব ছোট রাজনৈতিক দলের গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

তার ভাষায়, জনগণ এরই মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ এবং আরও কয়েকটি দলকে রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার পরিবর্তে তারা দীর্ঘদিন একটি বড় রাজনৈতিক দলের সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। ফলে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

ড. শামছুল আলম সেলিম আরও বললেন, আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে বিভিন্ন ছোট দলের ভেতরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এমন উদ্যোগ খুব বেশি সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।

২০০৪ সালে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তিগুলো এক ছাতার নিচে এনে ১৪-দলীয় জোট গঠন করা হয়েছিল। পরে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জোটটি একসঙ্গে অংশ নেয়। শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারে দুই দফায় শরিক দলের নেতারা মন্ত্রিসভায়ও স্থান পান। যদিও শেষ মেয়াদে আওয়ামী লীগ এককভাবেই সরকার পরিচালনা করে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

নীরবতা ভাঙছে আওয়ামী লীগের শরিকরা

আপডেট সময় : ০১:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নীরবতা ভাঙছে আওয়ামী লীগের শরিকরা

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা শুরু করেছে আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলো। প্রকাশ্যে বড় কোনো কর্মসূচি না থাকলেও ভেতরে ভেতরে যোগাযোগ বাড়ানো, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক মেরূকরণের প্রস্তুতি?

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ৫ আগস্টের পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে তাদের জন্য রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার মতো পরিবেশ ছিল না। অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়, কেউ কারাগারে যান, আবার কেউ আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হন। হামলা ও হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে আসতে চাননি। ফলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

তবে নেতারা বলছেন, প্রকাশ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দলীয় যোগাযোগ কখনোই বিচ্ছিন্ন হয়নি। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবারও দলীয় নেতাকর্মীরা সক্রিয় হতে শুরু করেন। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর অনেকেই নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া শুরু করেছেন। বিভিন্ন সাংগঠনিক বৈঠকও হচ্ছে।

ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে ছিটকে পড়লেও হাল ছাড়তে রাজি নন জোটের বামপন্থী নেতারা। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) এবং অন্য শরিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশে সংগঠন টিকিয়ে রাখার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ইস্যু কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার ছায়ায় থাকার কারণে এসব দলের নিজস্ব সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনীতির মাঠে নিজেদের উপস্থিতি টিকিয়ে রাখা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যদি তারা সক্রিয় হতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে তাদের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ধরে রাখা।

বিশ্লেষকরা এটিও মনে করছেন, এর পেছনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগ সরাসরি রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় না থাকলেও, জোটের শরিক বামপন্থী দলগুলো ‘প্রগতিশীল রাজনীতি’র ব্যানারে নিজেদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারে। ভবিষ্যতে তারা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা কিংবা নতুন কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগেও ভূমিকা রাখতে পারে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম মনে করেন, দেড় দশকে এসব ছোট রাজনৈতিক দলের গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

তার ভাষায়, জনগণ এরই মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ এবং আরও কয়েকটি দলকে রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার পরিবর্তে তারা দীর্ঘদিন একটি বড় রাজনৈতিক দলের সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। ফলে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

ড. শামছুল আলম সেলিম আরও বললেন, আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে বিভিন্ন ছোট দলের ভেতরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এমন উদ্যোগ খুব বেশি সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।

২০০৪ সালে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তিগুলো এক ছাতার নিচে এনে ১৪-দলীয় জোট গঠন করা হয়েছিল। পরে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জোটটি একসঙ্গে অংশ নেয়। শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারে দুই দফায় শরিক দলের নেতারা মন্ত্রিসভায়ও স্থান পান। যদিও শেষ মেয়াদে আওয়ামী লীগ এককভাবেই সরকার পরিচালনা করে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ