ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ বন্ধ থাকায় এক জাহাজের অতিরিক্ত খরচ ৫.৪ মিলিয়ন ডলার

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০২:২৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / ১০০৮ বার পড়া হয়েছে

হরমুজ বন্ধ থাকায় এক জাহাজের অতিরিক্ত খরচ ৫.৪ মিলিয়ন ডলার

আস্থা ডেস্কঃ

লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনকে বাধ্য হয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালি পরিহার করতে হচ্ছে। এর ফলে সৌদি আরব থেকে আমদানি করা বাংলাদেশের সর্বশেষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চালানটি আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে প্রায় ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিয়ে দেশে আসছে।

এতে করে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেলের এই চালানটি পৌঁছাতে প্রায় এক মাস সময় বেশি লাগবে এবং পরিবহন ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ৫.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নথিপত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শিপিং করপোরেশন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) জানিয়েছে, এমটি নিনেমিয়া নামের জাহাজটির নতুন রুটে যাতায়াতের ফলে অতিরিক্ত ৫.৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা) খরচ হতে পারে। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা সাপেক্ষে এই খরচ ৩.৫ থেকে ৪ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনার আশা করছে সংস্থাটি।

গত ২৩ জুলাই সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি ছেড়ে আসে। সাধারণত লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে জাহাজটি ৪ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম আসত। কিন্তু নতুন রুটে জিব্রাল্টার প্রণালি ও দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ (কেপ অব গুড হোপ) ঘুরে আসায় পথ প্রায় ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেড়েছে। এতে জাহাজটির পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩৪ দিন বাড়তি সময় লাগবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসা এই জাহাজটি সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় গত ২৩ জুলাই জাহাজটির শিপিং এজেন্ট বাব আল-মান্দেব প্রণালি এড়িয়ে যাওয়ার অনুমতি চায়। পরবর্তীতে জাহাজমালিক অতিরিক্ত ৫.৩, ৯৬ মিলিয়ন ডলার খরচ দাবি করেন।

বিপিসির কাছে পাঠানো শিপিং কর্পোরেশনের চিঠি অনুযায়ী, অতিরিক্ত এই খরচের দাবির মধ্যে রয়েছে—জাহাজের বাড়তি ভাড়া বাবদ প্রায় ৩.৩৯ মিলিয়ন ডলার, অতিরিক্ত ভেরি লো সালফার ফুয়েল অয়েলের জন্য ১.০৩ মিলিয়ন ডলার, মেরিন গ্যাস অয়েলের জন্য ৪, ৫২,২০০ ডলার, সুয়েজ খাল পারাপারের মাশুল বাবদ ৫, ২০,০০০ ডলার এবং সমুদ্রযাত্রা-সংক্রান্ত অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়।

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্টের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘লোহিত সাগরে চলমান সংঘাতের কারণে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ঝুঁকির ফলে এমটি নিনেমিয়া জাহাজটি এখন উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে যাত্রা করছে। অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টি ইতিমধ্যেই শিপিং কর্পোরেশনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের ড্রোন হামলার হুমকির কারণে রুট পরিবর্তন অপরিহার্য ছিল। সাধারণত ১৩ দিনে এই যাত্রা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা ৩৪ দিন দেরি হচ্ছে। বিপিসির মৌখিক সম্মতির ভিত্তিতেই রুট পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত খরচের বিষয়ে জাহাজমালিকের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে।

বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মোঃ জাহিদ হোসাইন জানান, সৌদি থেকে জ্বালানি তেল আসার রুট পরিবর্তন হওয়ায় আমদানি সূচিতে বিঘ্ন ঘটছে এবং রিফাইনারির খরচ বাড়ছে।

 

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

হরমুজ বন্ধ থাকায় এক জাহাজের অতিরিক্ত খরচ ৫.৪ মিলিয়ন ডলার

আপডেট সময় : ০২:২৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

হরমুজ বন্ধ থাকায় এক জাহাজের অতিরিক্ত খরচ ৫.৪ মিলিয়ন ডলার

আস্থা ডেস্কঃ

লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনকে বাধ্য হয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালি পরিহার করতে হচ্ছে। এর ফলে সৌদি আরব থেকে আমদানি করা বাংলাদেশের সর্বশেষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চালানটি আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে প্রায় ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিয়ে দেশে আসছে।

এতে করে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেলের এই চালানটি পৌঁছাতে প্রায় এক মাস সময় বেশি লাগবে এবং পরিবহন ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ৫.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নথিপত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শিপিং করপোরেশন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) জানিয়েছে, এমটি নিনেমিয়া নামের জাহাজটির নতুন রুটে যাতায়াতের ফলে অতিরিক্ত ৫.৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা) খরচ হতে পারে। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা সাপেক্ষে এই খরচ ৩.৫ থেকে ৪ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনার আশা করছে সংস্থাটি।

গত ২৩ জুলাই সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি ছেড়ে আসে। সাধারণত লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে জাহাজটি ৪ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম আসত। কিন্তু নতুন রুটে জিব্রাল্টার প্রণালি ও দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ (কেপ অব গুড হোপ) ঘুরে আসায় পথ প্রায় ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেড়েছে। এতে জাহাজটির পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩৪ দিন বাড়তি সময় লাগবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসা এই জাহাজটি সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় গত ২৩ জুলাই জাহাজটির শিপিং এজেন্ট বাব আল-মান্দেব প্রণালি এড়িয়ে যাওয়ার অনুমতি চায়। পরবর্তীতে জাহাজমালিক অতিরিক্ত ৫.৩, ৯৬ মিলিয়ন ডলার খরচ দাবি করেন।

বিপিসির কাছে পাঠানো শিপিং কর্পোরেশনের চিঠি অনুযায়ী, অতিরিক্ত এই খরচের দাবির মধ্যে রয়েছে—জাহাজের বাড়তি ভাড়া বাবদ প্রায় ৩.৩৯ মিলিয়ন ডলার, অতিরিক্ত ভেরি লো সালফার ফুয়েল অয়েলের জন্য ১.০৩ মিলিয়ন ডলার, মেরিন গ্যাস অয়েলের জন্য ৪, ৫২,২০০ ডলার, সুয়েজ খাল পারাপারের মাশুল বাবদ ৫, ২০,০০০ ডলার এবং সমুদ্রযাত্রা-সংক্রান্ত অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়।

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্টের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘লোহিত সাগরে চলমান সংঘাতের কারণে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ঝুঁকির ফলে এমটি নিনেমিয়া জাহাজটি এখন উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে যাত্রা করছে। অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টি ইতিমধ্যেই শিপিং কর্পোরেশনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের ড্রোন হামলার হুমকির কারণে রুট পরিবর্তন অপরিহার্য ছিল। সাধারণত ১৩ দিনে এই যাত্রা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা ৩৪ দিন দেরি হচ্ছে। বিপিসির মৌখিক সম্মতির ভিত্তিতেই রুট পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত খরচের বিষয়ে জাহাজমালিকের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে।

বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মোঃ জাহিদ হোসাইন জানান, সৌদি থেকে জ্বালানি তেল আসার রুট পরিবর্তন হওয়ায় আমদানি সূচিতে বিঘ্ন ঘটছে এবং রিফাইনারির খরচ বাড়ছে।

 

দৈনিক আস্থা/এমএইচ