ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পীরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ জন নারী

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১১:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / ১০১৫ বার পড়া হয়েছে

পীরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ জন নারী

রিয়াজুল হক সাগর/রংপুর প্রতিনিধিঃ

ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসলো রংপুরের পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ৬শ ৬৫ জন নারী।

আজ বুধবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে মৌলভীবাজারের জনসভা থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এসময় পীরগঞ্জ উপজেলা অডিটরিয়ামে উপস্থিত উপকার ভোগীদের মোবাইলে ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ চলে আসে। এনিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেন তারা। পরে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় পীরগঞ্জ উপজেলা অডিটরিয়ামে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় এমপি নুরুল আমিন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি জিবা আমিনা খান, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিএনপি-জামায়াতের নেতা কর্মীরা।

উপকার ভোগী রিতা বর্মন বলেন, মোবাইলে আমি টাকা পেয়েছি, প্রতিমাসে এই টাকা পাবো, এই টাকা আমার পরিবারের জন্য অনেক উপকার হবে। বিশেষ করে আমার ছেলে-মেয়েরা পুষ্টিহীনতার শিকার। পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার আমি বাচ্চাদের খাওয়াতে পারবো, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।

বিধবা সাহারা বানু বলেন, স্বামী না থাকার কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে জীবন যাপন করছি, যে টাকা পেলাম এবং প্রতি মাসে এই টাকাটা পাবো। এটা দিয়ে আমার সংসারের অনেক উপকার হলো। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই। তার জন্য দোয়া করি তিনি যেন দীর্ঘায়ু হন।

সাঁওতাল সম্প্রদায়ের গৃহবধূ অর্চনা রানী বলেন, আমার দুইটা বাচ্চা স্কুলে পড়াশোনা করে, তাদের ঠিকমতো প্রাইভেট দিতে পারি না, বই জামা-কাপড়ও দিতে পারি না, আমি যে টাকাটা প্রতি মাসে পাবো সেখান থেকে বাচ্চাদের শিক্ষা খাতে খরচ করব। আর বাকি কিছু টাকা জমাবো, সেই টাকা দিয়ে গরু কিনব। বছর শেষে বিক্রি করব।

রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, সমাজসেবা মন্ত্রণালয় থেকে প্রথমে চতরা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ৮শ ৫৫ জনকে প্রাথমিকভাবে সিলেকশন দেয়া হয়। পরে সেখান থেকে অতি গুরুত্ব বিবেচনায় ৬শ ৬৫ জনকে চূড়ান্ত করে এই কার্ড দেয়া হলো। আজ তারা এ মাসের টাকা পেলেন। ভাবে প্রতি মাসে তারা তাদের মোবাইলে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়ে যাবেন।

জেলা বিএনপি আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, “যারা বলেছিল ফ্যামিলি কার্ড দিতে পারবো না। তাদের মুখে চুনকালি পরলো আজ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি “সবার আগে বাংলাদেশ-সবার জন্য বাংলাদেশ।” গুপ্তরা যতই ষড়যন্ত্র করুক বাংলাদেশকে উন্নয়ন অগ্রগতি থেকে ঠেকাতে পারবে না।

রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু বলেন, বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে। বিএনপি যে জনগণের দল সেটা প্রমাণিত হয়েছে। দুর্নীতি মুক্তভাবে বিএনপি নারীদের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবে। ফ্যামিলি কার্ডে রংপুরকে বেছে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

রংপুর ৬ আসনের এমপি নুরুল আমিন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি ভালো পদক্ষেপ, আমরা চাই সবার মাঝে এই কার্ড পৌঁছে যাক।

বিএনপি’র সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি (রংপুর ৫ ও ৬ আসনের জন্য তদারকিতে থাকা) জিবা আমিনা খান বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমিক দেয়া টাকা দিয়ে নারীরা তাদের পরিবারের পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় করার সুযোগ পাবে। এতে একটি পরিবার ধীরে ধীরে উন্নত হতে থাকবে। পুরুষের পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি নারীর হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিবে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

পীরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ জন নারী

আপডেট সময় : ১১:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

পীরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ জন নারী

রিয়াজুল হক সাগর/রংপুর প্রতিনিধিঃ

ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসলো রংপুরের পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ৬শ ৬৫ জন নারী।

আজ বুধবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে মৌলভীবাজারের জনসভা থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এসময় পীরগঞ্জ উপজেলা অডিটরিয়ামে উপস্থিত উপকার ভোগীদের মোবাইলে ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ চলে আসে। এনিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেন তারা। পরে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় পীরগঞ্জ উপজেলা অডিটরিয়ামে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় এমপি নুরুল আমিন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি জিবা আমিনা খান, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিএনপি-জামায়াতের নেতা কর্মীরা।

উপকার ভোগী রিতা বর্মন বলেন, মোবাইলে আমি টাকা পেয়েছি, প্রতিমাসে এই টাকা পাবো, এই টাকা আমার পরিবারের জন্য অনেক উপকার হবে। বিশেষ করে আমার ছেলে-মেয়েরা পুষ্টিহীনতার শিকার। পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার আমি বাচ্চাদের খাওয়াতে পারবো, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।

বিধবা সাহারা বানু বলেন, স্বামী না থাকার কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে জীবন যাপন করছি, যে টাকা পেলাম এবং প্রতি মাসে এই টাকাটা পাবো। এটা দিয়ে আমার সংসারের অনেক উপকার হলো। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই। তার জন্য দোয়া করি তিনি যেন দীর্ঘায়ু হন।

সাঁওতাল সম্প্রদায়ের গৃহবধূ অর্চনা রানী বলেন, আমার দুইটা বাচ্চা স্কুলে পড়াশোনা করে, তাদের ঠিকমতো প্রাইভেট দিতে পারি না, বই জামা-কাপড়ও দিতে পারি না, আমি যে টাকাটা প্রতি মাসে পাবো সেখান থেকে বাচ্চাদের শিক্ষা খাতে খরচ করব। আর বাকি কিছু টাকা জমাবো, সেই টাকা দিয়ে গরু কিনব। বছর শেষে বিক্রি করব।

রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, সমাজসেবা মন্ত্রণালয় থেকে প্রথমে চতরা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ৮শ ৫৫ জনকে প্রাথমিকভাবে সিলেকশন দেয়া হয়। পরে সেখান থেকে অতি গুরুত্ব বিবেচনায় ৬শ ৬৫ জনকে চূড়ান্ত করে এই কার্ড দেয়া হলো। আজ তারা এ মাসের টাকা পেলেন। ভাবে প্রতি মাসে তারা তাদের মোবাইলে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়ে যাবেন।

জেলা বিএনপি আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, “যারা বলেছিল ফ্যামিলি কার্ড দিতে পারবো না। তাদের মুখে চুনকালি পরলো আজ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি “সবার আগে বাংলাদেশ-সবার জন্য বাংলাদেশ।” গুপ্তরা যতই ষড়যন্ত্র করুক বাংলাদেশকে উন্নয়ন অগ্রগতি থেকে ঠেকাতে পারবে না।

রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু বলেন, বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে। বিএনপি যে জনগণের দল সেটা প্রমাণিত হয়েছে। দুর্নীতি মুক্তভাবে বিএনপি নারীদের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবে। ফ্যামিলি কার্ডে রংপুরকে বেছে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

রংপুর ৬ আসনের এমপি নুরুল আমিন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি ভালো পদক্ষেপ, আমরা চাই সবার মাঝে এই কার্ড পৌঁছে যাক।

বিএনপি’র সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি (রংপুর ৫ ও ৬ আসনের জন্য তদারকিতে থাকা) জিবা আমিনা খান বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমিক দেয়া টাকা দিয়ে নারীরা তাদের পরিবারের পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় করার সুযোগ পাবে। এতে একটি পরিবার ধীরে ধীরে উন্নত হতে থাকবে। পুরুষের পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি নারীর হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিবে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ