ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশি বিনিয়োগের ‘আশায় গুড়েবালি’ ও গাজী টায়ার ট্র্যাজেডি

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / ১০০৩ বার পড়া হয়েছে

গাজী টায়ারে চালানো ধ্বংসযজ্ঞ বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে বড় নেতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছে। কারখানা তো রাজনীতি করে না। মালিকের ওপর আক্রোশ মেটাতে গিয়ে ক্ষোভের আগুনে দেশের সম্পদ ও হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান পুড়িয়ে ফেলার এই আত্মঘাতী প্রবণতা কেন?

কামরান রেজা চৌধুরীঃ

বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন ১৮ জুন এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে যা বলেছেন, তা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তার নিয়োগের সময় ছড়ানো আশার ফুলঝুরিতে গুড়েবালি ঢেলে দেওয়ার মতো হয়েছে।

তিনি বলেছেন, তার প্রতিষ্ঠান এখন আর বিদেশি নয়, দেশিয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কাজ করছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে তার যুক্তি হলো, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে বিনিয়োগের প্রবাহ তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এ কারণে তারা গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টের ওপর বেশি ফোকাস না করে, দেশিয় বিনিয়োগকারীদের ওপর জোর দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং দেশের বাইরের চেয়ে ভেতরের সম্ভাবনার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।

অথচ খুব বেশি দিন আগের কথা নয়; মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আশিক চৌধুরী নামে সমধিক পরিচিত এই চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে নিয়েই বিস্তর ঢাকঢোল পেটানো হয়েছিল। সেই সময় বিনিয়োগ সম্মেলন করে অত্যন্ত জোর দিয়ে বলা হয়েছিল যে, তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বাংলাদেশে প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসতে যাচ্ছেন।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক, আন্তর্জাতিক রোডশো, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার সফর, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সংস্কার, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন সবকিছু মিলিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজন আর খরচেরও কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু বাস্তবে বিনিয়োগ এসেছে যৎসামান্য।

১৮ জুন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনের মাল্টিপারপাস হলে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফ্লোস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

১৮ জুন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনের মাল্টিপারপাস হলে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফ্লোস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

ইউনূস সরকারের বিদায়ের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও আশিক চৌধুরী ওই পদে বহাল রয়েছেন। হয়তো কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখার বিবেচনায় তাকে ওই পদে বহাল রাখা হয়েছে। কিন্তু এখন যখন তিনি নিজেই বিদেশি বিনিয়োগের আশা ছেড়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতির অজুহাতে দেশিয় বিনিয়োগের দিকে মুখ ফেরানোর কথা বলছেন, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় আমাদের সবুরের মেওয়া মাকাল ফলে পরিণত হতে যাচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার স্থবিরতা দেখতে দেখতে দেশের মানুষের মনে আশার জন্ম হয়েছিল যে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হবে এবং এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতিরও উন্নতি ঘটবে। কিন্তু আশিক চৌধুরীর সাম্প্রতিক এই বক্তব্য সেই আশায় বড় একটি ধাক্কা দিল।

দুর্বল অবকাঠামো, সীমিত অর্থায়ন, বাড়তি কর, জ্বালানি সংকট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি এবং দক্ষ জনবলের অভাব বাংলাদেশে বিনিয়োগের চিরচেনা কিছু সমস্যা। তবে এর বাইরে সম্পূর্ণ নতুন একটি সংকট এখন বিনিয়োগের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেটি হলো—৫ অগাস্ট-পরবর্তী ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অকার্যকারিতা।

জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর আওয়ামীপন্থিদের কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের যে সব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর ছবি ও ভিডিও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। উপরন্তু, প্রতিযোগী ও অবন্ধুসুলভ রাষ্ট্রগুলো এই সমস্ত ধ্বংসাত্মক চিত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বন্ধের জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

আসলে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের একটি নিজস্ব নেটওয়ার্ক রয়েছে। কোন দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ কেমন, কোথায় ঝুঁকি বেশি আর কোথায় তাদের পুঁজি নিরাপদ—এসব নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা করেন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের চিরাচরিত সমস্যাগুলো সম্পর্কে তাদের ধারণা থাকলেও, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তা তাদেরকে মারাত্মকভাবে আতঙ্কিত এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করে তুলেছে।

গত ২২ জুন জাপানের একটি শীর্ষ থিঙ্কট্যাঙ্কে কর্মরত এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি বলছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যেভাবে রূপগঞ্জের গাজী টায়ার কারখানায় দল বেঁধে লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তা দেখে বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন। এখনও জাপানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলে ‘গাজী টায়ার ট্র্যাজেডি’র উদাহরণ দেওয়া হচ্ছে। কোনো জাতি কতটা নির্বোধ ও আত্মঘাতী হলে নিজেদের দেশের এমন সচল কর্মসংস্থান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এভাবে ধ্বংস করতে পারে। এই একটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও বিনিয়োগের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

সত্যিই খুব দুঃখের বিষয়। ৫ অগাস্টে সরকার পতনের পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মালিকানাধীন গাজী টায়ার কারখানায় দলে দলে মানুষ এসে লুটপাটে মেতেছিল। নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও গাড়ি ভাড়া করে কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও আশেপাশের জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ এসে কারখানা লুটপাটে অংশ নেয়। লুটের মাল নিয়ে একপর্যায়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি হয় এবং মারামারির এক পর্যায়ে এক গ্রুপ কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। কারখানার ভেতরে আটকা পড়ে অনেক মানুষ। কারখানায় রাসায়নিক দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে মুহূর্তেই পুরো কারখানা নরকে পরিণত হয়। ফায়ার সার্ভিস কয়েকদিন ধরে চেষ্টা করেও আগুন পুরোপুরি নেভাতে পারেনি। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভেতরে আটকা পড়া মানুষগুলোর অনেকেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়; এমনকি তাদের হাড়গোড়ও পাওয়া যায়নি।

আগুন নেভার কিছুদিন পর আমি কারখানার ভেতরে গিয়ে দেখেছি কী ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছিল সেখানে। সেখানকার এক নিরাপত্তাকর্মী আমাকে বলেছিলেন, তিনি একটি মানুষের হাড়গোড় দেখে তুলতে গিয়েছিলেন, কিন্তু হাত দিতেই সেটি ছাইয়ের মতো গুঁড়ো হয়ে যায়।

গাজী টায়ার কারখানার এলাকা বিশাল, তাই পুরো অংশ পুড়ে যায়নি। যে অংশ পুড়েনি, সেখানে দুই মাস ধরে নিয়মিত লুটপাট চলেছে। কী অসভ্য এক সরকার ছিল তখন ক্ষমতায়। কারখানার কি কোনো রাজনৈতিক দল করে? এটি মানুষের জীবিকার সংস্থান করে—এটি আমরা বুঝলাম না। এগুলো দেখে নীরদ সি. চৌধুরীর সেই বিখ্যাত বইয়ের শিরোনাম মনে পড়ে: ‘আত্মঘাতী বাঙালী’।

তবে একটু ভিন্ন দৃষ্টি দেওয়া যাক। দেশের অন্যান্য শিল্প-কলকারখানায় এমন লুটপাট বা অগ্নিসংযোগ হলো না, কিন্তু গাজী টায়ার কারখানায় হলো কেন? কেন এলাকাবাসীরা তাদের কর্মসংস্থানের উৎসটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করলেন না? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি জানলাম আরেক কাহিনি।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর গাজী বেশ ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন। তিনি নিজে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। স্ত্রীকে বানালেন রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান। ফলে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বড় হতে থাকে। গাজী টায়ার কারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি এলাকার অনেক মানুষকে নাম মাত্র দামে তার কাছে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করেছেন। তখন এলাকার ক্ষমতাহীন মানুষগুলো কিছু বলতে পারেননি, মুখ বুজে সহ্য করেছেন। পরবর্তীতে অনেকেই সেখানে স্বল্প বেতনের চাকরিও নিয়েছেন, আবার অনেকে নেননি।

সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের জমি দখল করার কারণে গোলাম দস্তগীর গাজী একদিকে যেমন অজনপ্রিয় হয়েছেন, অন্যদিকে তেমনি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন দেশের বিরাট এক ভূমিদস্যু গ্রুপের মালিকের সঙ্গে। সরকার পতনের পর সেই ক্ষমতাহীন মানুষগুলোর একাংশ যেমন কারখানা লুটপাট ও ভাঙচুর করেছে, তেমনি অনেকেই বলে থাকেন যে, সেই ভূমিদস্যু কোম্পানির লোকেরাও কারখানায় লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। তারা গোলাম দস্তগীর গাজীর ওপর চরম প্রতিশোধ নিয়েছে এবং কারখানাটি নিশ্চিহ্ন করেছে।

গোলাম দস্তগীর গাজী স্বল্প দামে মানুষের জমি নিয়ে থাকলে অন্যায় করেছেন, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে তিনি সেই জমি কিনে হাউজিং প্লট করে বিক্রি করেননি; বরং স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলার মানুষদের জন্য হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিলেন। গাজী টায়ার কারখানা বন্ধ হওয়ায় আজ দাম বেড়েছে গরিব মানুষের বাহন রিকশা, সাইকেল ও মোটরসাইকেলের টায়ারের। যে পণ্য দেশে তৈরি হতো, সেই পণ্য এখন আমদানি করতে হচ্ছে চীন এবং ভারত থেকে, যার দাম কমপক্ষে ২০ শতাংশ বেশি। গাজী সাহেবকে শায়েস্তা করতে গিয়ে মূলত ক্ষতি হলো দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের।

এই ঘটনা প্রমাণ করে, ক্ষমতার দাপট দিয়ে আপনি যত ভালো কাজই করুন না কেন, সেটি কখনো টেকসই হয় না। রাজনীতি যদি ক্ষমতার উৎস হয় এবং সেই ক্ষমতা দিয়ে জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে যত বড় মহৎ কাজই করা হোক না কেন, বিপর্যয়ের দিনে সেটি মানুষ রক্ষা করবে না; সুযোগ পেলেই ধ্বংস করবে। তাই ব্যবসার সঙ্গে রাজনীতিকে মেলানো যাবে না। ক্ষমতার পরিবর্তে গোলাম দস্তগীর গাজী যদি এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃত দামে জমি কিনতেন এবং এলাকার মানুষদের সেই কারখানায় যুক্ত করতেন, তাহলে হয়তো তার ওই কারখানাটি রক্ষা পেত এবং দেশের এত বড় ক্ষতি হতো না।

গাজী টায়ার কারখানার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবং এর সামগ্রিক প্রভাব থেকে আমাদের একটি বড় শিক্ষা নিতে হবে। ভবিষ্যতে সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা যেন আবেগ ও আক্রোশের বশবর্তী হয়ে মালিককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে গিয়ে আর কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, খামারসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস না করি।

এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে। তাদেরকে সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করতে হবে যে, তারা কোনোভাবেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে উৎসাহ দেবে না, বরং সেগুলো রক্ষা করবে। কারণ শেখ হাসিনার পতনের পর রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কারখানা রক্ষা করতে কোনো আবেদন বা আহ্বান জানায়নি, যার নির্মম পরিণাম হলো গাজী টায়ারের মতো দেশের একটি জাতীয় সম্পদ ধ্বংস হওয়া।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করলে একদিকে যেমন আমাদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে, অন্যদিকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে ভয় পাবে। দেশি বিনিয়োগকারীদের অনেকেই তখন তাদের টাকা হয় বিদেশে বিনিয়োগ করবেন, না হয় বিদেশে পাচার করে দেবেন। আর এভাবেই ধ্বংস হবে অর্থনীতিসহ দেশের সামগ্রিক সামাজিক কাঠামো।

সাংবাদিক কামরান রেজা চৌধুরী
সংসদীয় রাজনীতি প্রতিবেদক
ই-মেইল: kamran.reza@gmail.com

 

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

বিদেশি বিনিয়োগের ‘আশায় গুড়েবালি’ ও গাজী টায়ার ট্র্যাজেডি

আপডেট সময় : ০৮:২৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

গাজী টায়ারে চালানো ধ্বংসযজ্ঞ বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে বড় নেতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছে। কারখানা তো রাজনীতি করে না। মালিকের ওপর আক্রোশ মেটাতে গিয়ে ক্ষোভের আগুনে দেশের সম্পদ ও হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান পুড়িয়ে ফেলার এই আত্মঘাতী প্রবণতা কেন?

কামরান রেজা চৌধুরীঃ

বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন ১৮ জুন এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে যা বলেছেন, তা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তার নিয়োগের সময় ছড়ানো আশার ফুলঝুরিতে গুড়েবালি ঢেলে দেওয়ার মতো হয়েছে।

তিনি বলেছেন, তার প্রতিষ্ঠান এখন আর বিদেশি নয়, দেশিয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কাজ করছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে তার যুক্তি হলো, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে বিনিয়োগের প্রবাহ তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এ কারণে তারা গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টের ওপর বেশি ফোকাস না করে, দেশিয় বিনিয়োগকারীদের ওপর জোর দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং দেশের বাইরের চেয়ে ভেতরের সম্ভাবনার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।

অথচ খুব বেশি দিন আগের কথা নয়; মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আশিক চৌধুরী নামে সমধিক পরিচিত এই চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে নিয়েই বিস্তর ঢাকঢোল পেটানো হয়েছিল। সেই সময় বিনিয়োগ সম্মেলন করে অত্যন্ত জোর দিয়ে বলা হয়েছিল যে, তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বাংলাদেশে প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসতে যাচ্ছেন।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক, আন্তর্জাতিক রোডশো, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার সফর, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সংস্কার, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন সবকিছু মিলিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজন আর খরচেরও কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু বাস্তবে বিনিয়োগ এসেছে যৎসামান্য।

১৮ জুন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনের মাল্টিপারপাস হলে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফ্লোস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

১৮ জুন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনের মাল্টিপারপাস হলে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফ্লোস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

ইউনূস সরকারের বিদায়ের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও আশিক চৌধুরী ওই পদে বহাল রয়েছেন। হয়তো কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখার বিবেচনায় তাকে ওই পদে বহাল রাখা হয়েছে। কিন্তু এখন যখন তিনি নিজেই বিদেশি বিনিয়োগের আশা ছেড়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতির অজুহাতে দেশিয় বিনিয়োগের দিকে মুখ ফেরানোর কথা বলছেন, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় আমাদের সবুরের মেওয়া মাকাল ফলে পরিণত হতে যাচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার স্থবিরতা দেখতে দেখতে দেশের মানুষের মনে আশার জন্ম হয়েছিল যে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হবে এবং এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতিরও উন্নতি ঘটবে। কিন্তু আশিক চৌধুরীর সাম্প্রতিক এই বক্তব্য সেই আশায় বড় একটি ধাক্কা দিল।

দুর্বল অবকাঠামো, সীমিত অর্থায়ন, বাড়তি কর, জ্বালানি সংকট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি এবং দক্ষ জনবলের অভাব বাংলাদেশে বিনিয়োগের চিরচেনা কিছু সমস্যা। তবে এর বাইরে সম্পূর্ণ নতুন একটি সংকট এখন বিনিয়োগের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেটি হলো—৫ অগাস্ট-পরবর্তী ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অকার্যকারিতা।

জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর আওয়ামীপন্থিদের কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের যে সব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর ছবি ও ভিডিও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। উপরন্তু, প্রতিযোগী ও অবন্ধুসুলভ রাষ্ট্রগুলো এই সমস্ত ধ্বংসাত্মক চিত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বন্ধের জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

আসলে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের একটি নিজস্ব নেটওয়ার্ক রয়েছে। কোন দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ কেমন, কোথায় ঝুঁকি বেশি আর কোথায় তাদের পুঁজি নিরাপদ—এসব নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা করেন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের চিরাচরিত সমস্যাগুলো সম্পর্কে তাদের ধারণা থাকলেও, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তা তাদেরকে মারাত্মকভাবে আতঙ্কিত এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করে তুলেছে।

গত ২২ জুন জাপানের একটি শীর্ষ থিঙ্কট্যাঙ্কে কর্মরত এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি বলছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যেভাবে রূপগঞ্জের গাজী টায়ার কারখানায় দল বেঁধে লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তা দেখে বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন। এখনও জাপানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলে ‘গাজী টায়ার ট্র্যাজেডি’র উদাহরণ দেওয়া হচ্ছে। কোনো জাতি কতটা নির্বোধ ও আত্মঘাতী হলে নিজেদের দেশের এমন সচল কর্মসংস্থান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এভাবে ধ্বংস করতে পারে। এই একটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও বিনিয়োগের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

সত্যিই খুব দুঃখের বিষয়। ৫ অগাস্টে সরকার পতনের পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মালিকানাধীন গাজী টায়ার কারখানায় দলে দলে মানুষ এসে লুটপাটে মেতেছিল। নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও গাড়ি ভাড়া করে কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও আশেপাশের জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ এসে কারখানা লুটপাটে অংশ নেয়। লুটের মাল নিয়ে একপর্যায়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি হয় এবং মারামারির এক পর্যায়ে এক গ্রুপ কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। কারখানার ভেতরে আটকা পড়ে অনেক মানুষ। কারখানায় রাসায়নিক দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে মুহূর্তেই পুরো কারখানা নরকে পরিণত হয়। ফায়ার সার্ভিস কয়েকদিন ধরে চেষ্টা করেও আগুন পুরোপুরি নেভাতে পারেনি। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভেতরে আটকা পড়া মানুষগুলোর অনেকেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়; এমনকি তাদের হাড়গোড়ও পাওয়া যায়নি।

আগুন নেভার কিছুদিন পর আমি কারখানার ভেতরে গিয়ে দেখেছি কী ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছিল সেখানে। সেখানকার এক নিরাপত্তাকর্মী আমাকে বলেছিলেন, তিনি একটি মানুষের হাড়গোড় দেখে তুলতে গিয়েছিলেন, কিন্তু হাত দিতেই সেটি ছাইয়ের মতো গুঁড়ো হয়ে যায়।

গাজী টায়ার কারখানার এলাকা বিশাল, তাই পুরো অংশ পুড়ে যায়নি। যে অংশ পুড়েনি, সেখানে দুই মাস ধরে নিয়মিত লুটপাট চলেছে। কী অসভ্য এক সরকার ছিল তখন ক্ষমতায়। কারখানার কি কোনো রাজনৈতিক দল করে? এটি মানুষের জীবিকার সংস্থান করে—এটি আমরা বুঝলাম না। এগুলো দেখে নীরদ সি. চৌধুরীর সেই বিখ্যাত বইয়ের শিরোনাম মনে পড়ে: ‘আত্মঘাতী বাঙালী’।

তবে একটু ভিন্ন দৃষ্টি দেওয়া যাক। দেশের অন্যান্য শিল্প-কলকারখানায় এমন লুটপাট বা অগ্নিসংযোগ হলো না, কিন্তু গাজী টায়ার কারখানায় হলো কেন? কেন এলাকাবাসীরা তাদের কর্মসংস্থানের উৎসটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করলেন না? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি জানলাম আরেক কাহিনি।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর গাজী বেশ ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন। তিনি নিজে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। স্ত্রীকে বানালেন রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান। ফলে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বড় হতে থাকে। গাজী টায়ার কারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি এলাকার অনেক মানুষকে নাম মাত্র দামে তার কাছে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করেছেন। তখন এলাকার ক্ষমতাহীন মানুষগুলো কিছু বলতে পারেননি, মুখ বুজে সহ্য করেছেন। পরবর্তীতে অনেকেই সেখানে স্বল্প বেতনের চাকরিও নিয়েছেন, আবার অনেকে নেননি।

সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের জমি দখল করার কারণে গোলাম দস্তগীর গাজী একদিকে যেমন অজনপ্রিয় হয়েছেন, অন্যদিকে তেমনি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন দেশের বিরাট এক ভূমিদস্যু গ্রুপের মালিকের সঙ্গে। সরকার পতনের পর সেই ক্ষমতাহীন মানুষগুলোর একাংশ যেমন কারখানা লুটপাট ও ভাঙচুর করেছে, তেমনি অনেকেই বলে থাকেন যে, সেই ভূমিদস্যু কোম্পানির লোকেরাও কারখানায় লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। তারা গোলাম দস্তগীর গাজীর ওপর চরম প্রতিশোধ নিয়েছে এবং কারখানাটি নিশ্চিহ্ন করেছে।

গোলাম দস্তগীর গাজী স্বল্প দামে মানুষের জমি নিয়ে থাকলে অন্যায় করেছেন, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে তিনি সেই জমি কিনে হাউজিং প্লট করে বিক্রি করেননি; বরং স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলার মানুষদের জন্য হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিলেন। গাজী টায়ার কারখানা বন্ধ হওয়ায় আজ দাম বেড়েছে গরিব মানুষের বাহন রিকশা, সাইকেল ও মোটরসাইকেলের টায়ারের। যে পণ্য দেশে তৈরি হতো, সেই পণ্য এখন আমদানি করতে হচ্ছে চীন এবং ভারত থেকে, যার দাম কমপক্ষে ২০ শতাংশ বেশি। গাজী সাহেবকে শায়েস্তা করতে গিয়ে মূলত ক্ষতি হলো দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের।

এই ঘটনা প্রমাণ করে, ক্ষমতার দাপট দিয়ে আপনি যত ভালো কাজই করুন না কেন, সেটি কখনো টেকসই হয় না। রাজনীতি যদি ক্ষমতার উৎস হয় এবং সেই ক্ষমতা দিয়ে জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে যত বড় মহৎ কাজই করা হোক না কেন, বিপর্যয়ের দিনে সেটি মানুষ রক্ষা করবে না; সুযোগ পেলেই ধ্বংস করবে। তাই ব্যবসার সঙ্গে রাজনীতিকে মেলানো যাবে না। ক্ষমতার পরিবর্তে গোলাম দস্তগীর গাজী যদি এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃত দামে জমি কিনতেন এবং এলাকার মানুষদের সেই কারখানায় যুক্ত করতেন, তাহলে হয়তো তার ওই কারখানাটি রক্ষা পেত এবং দেশের এত বড় ক্ষতি হতো না।

গাজী টায়ার কারখানার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবং এর সামগ্রিক প্রভাব থেকে আমাদের একটি বড় শিক্ষা নিতে হবে। ভবিষ্যতে সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা যেন আবেগ ও আক্রোশের বশবর্তী হয়ে মালিককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে গিয়ে আর কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, খামারসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস না করি।

এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে। তাদেরকে সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করতে হবে যে, তারা কোনোভাবেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে উৎসাহ দেবে না, বরং সেগুলো রক্ষা করবে। কারণ শেখ হাসিনার পতনের পর রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কারখানা রক্ষা করতে কোনো আবেদন বা আহ্বান জানায়নি, যার নির্মম পরিণাম হলো গাজী টায়ারের মতো দেশের একটি জাতীয় সম্পদ ধ্বংস হওয়া।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করলে একদিকে যেমন আমাদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে, অন্যদিকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে ভয় পাবে। দেশি বিনিয়োগকারীদের অনেকেই তখন তাদের টাকা হয় বিদেশে বিনিয়োগ করবেন, না হয় বিদেশে পাচার করে দেবেন। আর এভাবেই ধ্বংস হবে অর্থনীতিসহ দেশের সামগ্রিক সামাজিক কাঠামো।

সাংবাদিক কামরান রেজা চৌধুরী
সংসদীয় রাজনীতি প্রতিবেদক
ই-মেইল: kamran.reza@gmail.com

 

দৈনিক আস্থা/এমএইচ