ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ অগাস্টের পর মুক্তি পাওয়া কে এই বোমারু মামুন? শেষ পর্ব

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৯৯৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ

২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল আশুলিয়ায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের কাঠগড়া শাখায় ডাকাতি হয়। ডাকাতির সময় গুলি করে ও কুপিয়ে ৮ জনকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনাতেও জঙ্গিরা জড়িত ছিল বলে সে সময় জানিয়েছিল পুলিশ।

সাভারের শ্যামপুরে অভিযান চালিয়ে বোমা তৈরির এসব সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সাভারের শ্যামপুরে মঙ্গলবার যে বাড়ি ঘিরে পুলিশ অভিযান চালায়, তার মালিক আব্দুল জলিল নামের এক ব্যক্তি। তিনি পক্ষঘাতগ্রস্ত ও শয্যাশায়ী। তার মেয়েরা বাসাটির দেখাশোনা করেন।

তার বড় মেয়ে ইলমা বলছেন, গত ৫ অগাস্ট আব্বাস আলী নামের পরিচয়পত্র দিয়ে এক ব্যক্তি মাসে ৪ হাজার টাকা একটি ঘর ভাড়া নেন। ১হাজার টাকা তিনি অগ্রিম দিয়েছিলেন।

বাসায় ওঠার পর তিনি একটি ফ্যান লাগিয়ে ছিলেন। এরপর তাকে আর দিনের বেলায় দেখা যায়নি।

ওই ঘর থেকে যেসব জিনিসপত্র পুলিশ উদ্ধার করেছে, সেগুলো তিনি রাতের বেলায় কোনো এক ফাঁকে নিয়ে এসেছিলেন। মাঝে মাঝে রাতের বেলায় নিচতলা থেকে জিনিসপত্র জোরে জোরে রাখার শব্দ পাওয়া যেত বলে বাড়ি ওয়ালার মেয়ে জানান

গত ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের উম্মুল কুরা নামের একটি মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন ও তার স্ত্রী-সন্তানরা আহত হন। স্ত্রী সন্তানদের রেখেই পালিয়ে যায় আল আমিন।

তার পালিয়ে যাওয়ার সূত্র ধরেই তখন আরিফ ও বোমারু মামুনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায় পুলিশ।

সিটিটিসি কর্মকর্তারা বলেন, কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসার আড়ালে বোমা তৈরির কারখানা বানিয়ে বসেছিল জঙ্গিরা। সেখানে সারারাত বোমা বানানোর পর ভোরের দিকে অসতর্কতার কারণে বিস্ফোরণ ঘটে।

এরপর আল আমিন স্ত্রী-সন্তানদের রেখে পালিয়ে গিয়ে সাভারে বোমারু মামুনের আস্তানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে সেখান থেকে দক্ষিণ ঢাকার দোলাইরপাড়ে আরিফের বাসায় গিয়ে ওঠেন।

আরিফের দোলাইপাড়ের সেই বাসা থেকেই আল আমিনকে তখন আটক করে পুলিশ। তবে তখন আরিফ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলেন, কেরানীগঞ্জের মামলায় আটক আল আমিন, অলি উল্লাহ জনি, শাহীন ওরফে আবু বকর, দর্জি আমিন এরা সবাই একই দলের। আর এদের গুরু হচ্ছেন বোমারু মামুন।

বিগত সময়ে আল আমিন, অলি উল্লাহ জনি এরা সবাই ‘জঙ্গি মামলায়’ আটক হয়ে ছিল। জনি ও আল আমিনকে পুলিশ ‘গুম’ করে রেখেছিল।এমন অভিযোগে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মামলা করেছেন। সেই মামলায় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিচারও চলছে।

সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বুধবার বলেন, “এ বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে যার নাম আসবে তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করব আমরা।”

আর মামুনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “মামুনকে আটকের জন্য আমরা এখনো চেষ্টা চালাচ্ছি, এ বিষয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

৫ অগাস্টের পর মুক্তি পাওয়া কে এই বোমারু মামুন? শেষ পর্ব

আপডেট সময় : ১২:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ

২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল আশুলিয়ায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের কাঠগড়া শাখায় ডাকাতি হয়। ডাকাতির সময় গুলি করে ও কুপিয়ে ৮ জনকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনাতেও জঙ্গিরা জড়িত ছিল বলে সে সময় জানিয়েছিল পুলিশ।

সাভারের শ্যামপুরে অভিযান চালিয়ে বোমা তৈরির এসব সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সাভারের শ্যামপুরে মঙ্গলবার যে বাড়ি ঘিরে পুলিশ অভিযান চালায়, তার মালিক আব্দুল জলিল নামের এক ব্যক্তি। তিনি পক্ষঘাতগ্রস্ত ও শয্যাশায়ী। তার মেয়েরা বাসাটির দেখাশোনা করেন।

তার বড় মেয়ে ইলমা বলছেন, গত ৫ অগাস্ট আব্বাস আলী নামের পরিচয়পত্র দিয়ে এক ব্যক্তি মাসে ৪ হাজার টাকা একটি ঘর ভাড়া নেন। ১হাজার টাকা তিনি অগ্রিম দিয়েছিলেন।

বাসায় ওঠার পর তিনি একটি ফ্যান লাগিয়ে ছিলেন। এরপর তাকে আর দিনের বেলায় দেখা যায়নি।

ওই ঘর থেকে যেসব জিনিসপত্র পুলিশ উদ্ধার করেছে, সেগুলো তিনি রাতের বেলায় কোনো এক ফাঁকে নিয়ে এসেছিলেন। মাঝে মাঝে রাতের বেলায় নিচতলা থেকে জিনিসপত্র জোরে জোরে রাখার শব্দ পাওয়া যেত বলে বাড়ি ওয়ালার মেয়ে জানান

গত ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের উম্মুল কুরা নামের একটি মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন ও তার স্ত্রী-সন্তানরা আহত হন। স্ত্রী সন্তানদের রেখেই পালিয়ে যায় আল আমিন।

তার পালিয়ে যাওয়ার সূত্র ধরেই তখন আরিফ ও বোমারু মামুনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায় পুলিশ।

সিটিটিসি কর্মকর্তারা বলেন, কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসার আড়ালে বোমা তৈরির কারখানা বানিয়ে বসেছিল জঙ্গিরা। সেখানে সারারাত বোমা বানানোর পর ভোরের দিকে অসতর্কতার কারণে বিস্ফোরণ ঘটে।

এরপর আল আমিন স্ত্রী-সন্তানদের রেখে পালিয়ে গিয়ে সাভারে বোমারু মামুনের আস্তানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে সেখান থেকে দক্ষিণ ঢাকার দোলাইরপাড়ে আরিফের বাসায় গিয়ে ওঠেন।

আরিফের দোলাইপাড়ের সেই বাসা থেকেই আল আমিনকে তখন আটক করে পুলিশ। তবে তখন আরিফ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলেন, কেরানীগঞ্জের মামলায় আটক আল আমিন, অলি উল্লাহ জনি, শাহীন ওরফে আবু বকর, দর্জি আমিন এরা সবাই একই দলের। আর এদের গুরু হচ্ছেন বোমারু মামুন।

বিগত সময়ে আল আমিন, অলি উল্লাহ জনি এরা সবাই ‘জঙ্গি মামলায়’ আটক হয়ে ছিল। জনি ও আল আমিনকে পুলিশ ‘গুম’ করে রেখেছিল।এমন অভিযোগে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মামলা করেছেন। সেই মামলায় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিচারও চলছে।

সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বুধবার বলেন, “এ বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে যার নাম আসবে তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করব আমরা।”

আর মামুনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “মামুনকে আটকের জন্য আমরা এখনো চেষ্টা চালাচ্ছি, এ বিষয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ