ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo যেসব দেশে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পরও কার্যকর হয়নি Logo শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী Logo জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় রদবদল Logo মেঘমল্লার বসুর আত্মহত্যার চেষ্টা, হাসপাতালে ভর্তি Logo একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন জামায়াত আমীর Logo ভারতীয় স্পাইসজেটকে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলো বাংলাদেশ Logo ঝটিকা মিছিল চলাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৮ কর্মী আটক Logo ইউনূস সরকারের শেষ সময়ের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিতর্ক কেন? Logo প্রথম আলোয় হামলা: অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা-ফাওজুল কবীর Logo বিএনপি’র প্রতি আমার অভিমান শুরু হতে চলেছে-রব রাজা

এ যেন আরেক আসমানী- রাজাপুরে পল্লীতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর মানবেতর জীবন যাপন

News Editor
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২১
  • / ১০৭০ বার পড়া হয়েছে

এ যেন আরেক আসমানী- রাজাপুরে পল্লীতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর মানবেতর জীবন যাপন

আমির হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির রাজাপুরের সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ছোট-কৈবর্তখালী গ্রামের রশিদ হাওলাদারের ছেলে মামুন হাওলাদার (৩০) ও তার স্ত্রী শারমিন বেগম (২৫) এবং চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে মারিয়া আক্তারের বসবাসের ঘর না থাকায় অন্যের ভাঙা ঘরে বসবাস করে, তীব্র শীত নিবারণের জন্য সাহায্যের আকুতি এবং একটি ঘরের।

রশিদ হাওলাদার জানান আমার পুত্রবধূ শারমিন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তার মাথায় কোনো কাজ করে না যখন যেটা ভালো লাগে তখন সেটা করে আবার কাউকে ঠিক মতো চিনতে পারে না কারো সাথে ভালো ভাবে কথাও বলতে পারে না, ঠিক মতো রান্না করেও খেতে পারে না, ওষুধ খাওয়ালে কিছুটা ভালো থাকে কিন্তু আমার ছেলে মামুন সেও কিছুটা মানুষিক রোগে আক্রান্ত ঠিক মতো তেমন কাজ কাম করতে পারে না যেখানে পায় সেখানে কোনো মতে কাজ করে, মানুষে তেমন টাকা দেয় না ঠিক মতো কাজ করতে পারে না টাকা আর দিবে কি, যেদিন কাজ করতে পারে সেইদিন কোনো মতে খায় পরে আর কি খাবে, রোজ আনে রোজ খায় কাজ না করতে পারলে না খেয়ে থাকে। আমারও ওই রকম অর্থ নেই যে আমি খাওয়াবো।

মামুন অন্যের বাড়িতে কাজ করে, যখন যে কাজ পায় তাই করে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগার করতেই কষ্ট হয়। মামুন নিজেই মানসিক অসুস্থ তার স্ত্রী চিকিৎসা এবং ওষুধ খরচ মেটানো অনেক কষ্টসাধ্য বিষয়। ঘরের অবস্থাও অনেক খারাপ। বাতাস এলেই ঘরটি নড়তে থাকে, ভয়ে থাকি কখন যেন মাথা গোজার শেষ আশ্রয়টুকু ভেঙে পড়ে যায়। বৃষ্টি হলেই ঘরের মধ্যে পানি পড়ে ভিজে যায় সবকিছুই।

শীতের সময় এলে শীতবস্ত্র ও শীত নিবারণের কোন গরম কাপড় না থাকায় চটের বস্তা গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হয়। খাবার ব্যবস্থা ও স্ত্রী ওষুধের খরচ মিটালে অন্যদিকে টাকা খরচের আর কোন উপায় থাকে না।” এমন কথা গুলোই আবেগাপ্লুত হয়ে জানালেন মামুন। বর্তমানে ঝুপড়ি ঘরের বেড়া না থাকায় তীব্র শীতে চরম কষ্টের শিকার হচ্ছেন তারা।

বৃষ্টির দিনে ঘরে পানি পড়ে সবকিছু ভিজে যায়। তাদের কষ্টের কথা স্থানীয় মেম্বার মাসুম মৃধাকে জানানো হলেও ভিজিবি কার্ড, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ কোন সাহায্য সহযোগিতা তারা পাননি। মামুনের অভিযোগ, হয়তো ঘুষ দিতে পারি নাই তাই ভিজিবি কার্ড, প্রতিবন্ধী ভাতা, ঘর পাই নাই। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শারমিন ও মামুন স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মারিয়া আক্তার সরকার এবং বিত্তশালীদের কাছে একটি ঘর ও দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

এ যেন আরেক আসমানী- রাজাপুরে পল্লীতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর মানবেতর জীবন যাপন

আপডেট সময় : ১১:০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২১

এ যেন আরেক আসমানী- রাজাপুরে পল্লীতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর মানবেতর জীবন যাপন

আমির হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির রাজাপুরের সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ছোট-কৈবর্তখালী গ্রামের রশিদ হাওলাদারের ছেলে মামুন হাওলাদার (৩০) ও তার স্ত্রী শারমিন বেগম (২৫) এবং চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে মারিয়া আক্তারের বসবাসের ঘর না থাকায় অন্যের ভাঙা ঘরে বসবাস করে, তীব্র শীত নিবারণের জন্য সাহায্যের আকুতি এবং একটি ঘরের।

রশিদ হাওলাদার জানান আমার পুত্রবধূ শারমিন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তার মাথায় কোনো কাজ করে না যখন যেটা ভালো লাগে তখন সেটা করে আবার কাউকে ঠিক মতো চিনতে পারে না কারো সাথে ভালো ভাবে কথাও বলতে পারে না, ঠিক মতো রান্না করেও খেতে পারে না, ওষুধ খাওয়ালে কিছুটা ভালো থাকে কিন্তু আমার ছেলে মামুন সেও কিছুটা মানুষিক রোগে আক্রান্ত ঠিক মতো তেমন কাজ কাম করতে পারে না যেখানে পায় সেখানে কোনো মতে কাজ করে, মানুষে তেমন টাকা দেয় না ঠিক মতো কাজ করতে পারে না টাকা আর দিবে কি, যেদিন কাজ করতে পারে সেইদিন কোনো মতে খায় পরে আর কি খাবে, রোজ আনে রোজ খায় কাজ না করতে পারলে না খেয়ে থাকে। আমারও ওই রকম অর্থ নেই যে আমি খাওয়াবো।

মামুন অন্যের বাড়িতে কাজ করে, যখন যে কাজ পায় তাই করে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগার করতেই কষ্ট হয়। মামুন নিজেই মানসিক অসুস্থ তার স্ত্রী চিকিৎসা এবং ওষুধ খরচ মেটানো অনেক কষ্টসাধ্য বিষয়। ঘরের অবস্থাও অনেক খারাপ। বাতাস এলেই ঘরটি নড়তে থাকে, ভয়ে থাকি কখন যেন মাথা গোজার শেষ আশ্রয়টুকু ভেঙে পড়ে যায়। বৃষ্টি হলেই ঘরের মধ্যে পানি পড়ে ভিজে যায় সবকিছুই।

শীতের সময় এলে শীতবস্ত্র ও শীত নিবারণের কোন গরম কাপড় না থাকায় চটের বস্তা গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হয়। খাবার ব্যবস্থা ও স্ত্রী ওষুধের খরচ মিটালে অন্যদিকে টাকা খরচের আর কোন উপায় থাকে না।” এমন কথা গুলোই আবেগাপ্লুত হয়ে জানালেন মামুন। বর্তমানে ঝুপড়ি ঘরের বেড়া না থাকায় তীব্র শীতে চরম কষ্টের শিকার হচ্ছেন তারা।

বৃষ্টির দিনে ঘরে পানি পড়ে সবকিছু ভিজে যায়। তাদের কষ্টের কথা স্থানীয় মেম্বার মাসুম মৃধাকে জানানো হলেও ভিজিবি কার্ড, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ কোন সাহায্য সহযোগিতা তারা পাননি। মামুনের অভিযোগ, হয়তো ঘুষ দিতে পারি নাই তাই ভিজিবি কার্ড, প্রতিবন্ধী ভাতা, ঘর পাই নাই। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শারমিন ও মামুন স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মারিয়া আক্তার সরকার এবং বিত্তশালীদের কাছে একটি ঘর ও দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।